মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন, অনেকে সহ্য করতে পারছে না : ধর্মমন্ত্রী

অনেকে সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান প্রথমবার এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার আহবান জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নতুন আঙ্গিকে একটি আইন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজে কিছু ব্যক্তি ভুল করলেও পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যায় না। তিনি প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের সততা, সরল জীবনযাপন ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বড় সাংবাদিক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তাঁর সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করত।আমি জনগণের একজন কর্মী। সাংবাদিকরা যে কোনো প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে আসতে পারবেন।

একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেকে সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান প্রথমবার এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

বিরোধী দল সরকারকে বিপাকে ফেলছে শুরুতে এমন মন্তব্য করা হলেও পরে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে সরকার স্পষ্ট করে জানাতে চায় কি না এটি কি মূলত পতিত সরকারের সমর্থকদের অস্বস্তি, নাকি বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ব্যাপার হলো, যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারাই নানা ধরনের বক্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবর ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, তবু অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার মেনে নেব না। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নেবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভারত তো বিশাল দেশ। উনাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি এইজন্য যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। এইজন্য আমি শ্রদ্ধা করি। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করবো উনারা যদি ওই দেশের সংখ্যালঘুদের উনাদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং উনাদের জনগণের একটা অংশ হিসেবে মনে করে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, তবে আমি একটা কথা বলি, বাংলাদেশে ভারতে কী ঘটছে এটা বড় জিনিস নয় বাংলাদেশে ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশে ঘটবে এমনটা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুদের উপরে, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার অবিচার জুলুম নির্যাতন সহ্য করবো না ইনশাআল্লাহ।

সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলেও মাদক, জুয়া ও ফেনসিডিলের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সম্রাটদের মুখোশ উন্মোচনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের সময় করা আইনটি অপব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি বাতিল করে অপপ্রচারকারীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার ঠেকাতে নতুনভাবে আইন প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো মতপ্রকাশ দমনের পক্ষে নন। বিরোধী মত দমন বা সাংবাদিকদের হয়রানির জন্য আইন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখেই রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করতেই হবেএমন কোনো নির্দেশনা কোরআন-হাদিসে নেই।

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, হজ মৌসুমে তিনি নিজেই গভীর রাত পর্যন্ত হাজী ক্যাম্পে অবস্থান করে হাজীদের সমস্যা পর্যবেক্ষণ ও সমাধানের চেষ্টা করছেন। যদি কোথাও খাবারের মান খারাপ হয়, প্রমাণ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। পর্যটন করপোরেশন খুব ভালো মানের খাবার সরবরাহ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাবারের দামও কম রাখা হয়েছে।

হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাজীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিও অনেকটা কমে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে হজ সম্পন্ন হবে।

হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও হজের ব্যয় কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে হজ খরচ কিছুটা কমিয়েছে এবং আগামীতে আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হজের খরচ আরও কমবে ইনশাআল্লাহ।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ইসলাম সমর্থন করে না। দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে সরকার খুশি হবে। তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।

তিনি বলেন, একটা জিনিস হলো কী, একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারতেছে না। আল্লাহ পাক উনাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ উনাদেরকে মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো অবস্থানে থেকে উনারা যেন তাবলীগের কাজগুলো করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ