ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল আইভরিকোস্টের ১-০ গোলের লিডে। আফ্রিকার ‘হাতি’দের জমাট রক্ষণ আর ফাউলের গ্যাঁড়াকলে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ডেনিজ উনদাভ ‘সুপার সাব’ হয়ে যেন রূপকথার গল্প লিখলেন ফিলাডেলফিয়ার মাঠে। তার জোড়া গোলের ওপর ভর করে আইভরিকোস্টের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে জুলিয়ান ন্যাগলসম্যানের দল। আর এই রোমাঞ্চকর জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আইভরিকোস্টের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে জার্মানি। ম্যাচের শুরুর দিকেই একবার বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিল জার্মানরা। তবে রেফারি ফাউলের কারণে সেই গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর ম্যাচের ৩০ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে ডাই ম্যানশাফটরা। জার্মান বক্সের ভেতর এক জটলার সুযোগ নিয়ে ফিরতি বলে দুর্দান্ত শটে আইভরিকোস্টকে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া জার্মানি আবারও আইভরিকোস্টের জালে বল পাঠিয়েছিল। কাই হাভার্টজের নেওয়া শটটি জালে জড়ালেও রেফারি পুনরায় গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। কারণ, শট নেওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদু ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ন্যাগলসম্যানের শিষ্যরা।
বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে জার্মানি। তবে আইভরিকোস্টের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনে এসে বারবার খেই হারাচ্ছিল তাদের আক্রমণভাগ। অবশেষে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ডেনিজ উনদাভ। নাদিম আমিরির ক্রস থেকে জার্মানদের সমতায় ফেরান এই স্ট্রাইকার।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই মঞ্চস্থ হয় আসল নাটক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটে আবারও আইভরিকোস্টের রক্ষণ দুর্গ চূর্ণ করেন সেই উনদাভ। মাঝমাঠ থেকে আসা থ্রু পাস ধরে ঠান্ডা মাথার বল জালে জড়িয়ে জার্মানিকে উল্লাসে ভাসান তিনি। শেষ পর্যন্ত তার এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতল জার্মানি। ২০১৪ সালে চতুর্থ শিরোপা জয়ের পর, নকআউট পর্বে উঠল তারা প্রথমবার। গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা আফ্রিকার দলটির নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকে আছে ভালোভাবেই। এক ম্যাচ করে খেলা একুয়েডর ও কুরাসাও এখনও পয়েন্ট পায়নি।







