প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। এদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।
এটি পাস হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে এটি হবে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আসছে এই বাজেট। তাই নতুন সরকারের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।
এর আগে বিএনপি সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। সে সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য প্রথমবারের মতো সংসদীয় বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ হতে যাচ্ছেন। এদিকে, আকারের দিক থেকে এটি হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ। এদিকে, বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
বিনিয়োগে গতি আনা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আয়কর সংক্রান্ত একগুচ্ছ বড় প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে। মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্বস্তি দেয়া, তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবারের বাজেটে কর কাঠামোতে আনা হতে পারে আমূল পরিবর্তন।






