রোগে-শোকে ভেঙে পড়েছে শরীর । পা দু’টো যেন আর চলছে না। তবুও ক্ষুধা মেটাতে চলছে জীবনযুদ্ধ। খাস জমির এক টুকরো জায়গায় নির্মিত জরাজীর্ণ ঘরেই তার বসবাস। স্বামী গত হয়েছে চার দশক আগে। তবুও ভাগ্যে জোটেনি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর বিধবা ভাতা।
পটুয়াখালীর টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া কলোনির বাসিন্দা রেহেনা বেগম (৫৬)। এক সন্তানের জননী এ নারীর স্বামী লতিফ হাওলাদার মারা গেছেন প্রায় ৪০ বছর আগে। নিদারুন অভাব-অনটনের মধ্যে ৩০ বছর আগে কলাপাড়া পৌর এলাকায় শুরু করেন কলসিতে পানি টানার কাজ। শুরুতে কোমরে কলসী বহন করলেও বর্তমানে একটি ভ্যান গাড়িতে অন্যের বাড়ি, খাবার হোটেল ও রেঁস্তোরায় সরবারহ করছেন নিরাপদ পানি। টিউবওয়েল চেপে ও গভীর পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাকে। তবে বয়সের ভারে ও শরীরে বিভিন্ন রোগ ব্যাধির কারনে আগের মতো আর পানি টানার কাজ করতে পারছেননা রেহেনা। তার ব্যবহৃত ভ্যান গাড়িটিও হয়ে গেছে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ন। পলিথিন ও টিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তাই সরকারি সহায়তার দাবি করেন এ অসহায় নারী। অসহায় এ নারীকে সরকারী ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রেহেনা বেগমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে এবং তাকে সহযোগিতা করা যাবে ০১৩১৯৬১২০৩০ এই বিকাশ নম্বরে।
রেহেনা বেগমের প্রতিবেশী মাহিনুর বলেন, রেহেনা বুয়া পানি টানতে টানতে অনেকটা রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে। তার ভ্যান গাড়িটি অনেকটা অচল। ঘরের অবস্থাও খারাপ। তার সহায়তা প্রয়োজন।
রেহেনা বেগম বলেন, আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভাঙা। যদি সমাজের বিত্তবান লোকরা আমার ঘর ও ভ্যান মেরামত করে দিতেন তাহলে কাজ করে বাঁচতে পারতাম। প্রতিদিন পানি টানার কাজ করে গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে কিছু টাকা ভ্যান মেরামতে খরচ করতে হয়। এরপর যে টাকা থাকে তা দিয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রেহেনাকে বিধবা ভাতার আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি সরকারী সকল সুবিধা পাইয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।






