রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিহ্যাব সভাপতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে চিঠি দিয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৩০ জুলাই রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছিল। সংগঠনটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের পক্ষ থেকে ১৬ আগস্ট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিহ্যাবের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের নিষেধ নেই। ফলে সংগঠনের অন্যান্য সাংগঠনিক ও নিয়মিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ স্পষ্টীকরণের ফলে সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রম নিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আবাসন খাতের উন্নয়ন ও সদস্যদের স্বার্থে রিহ্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের দক্ষ হাতে পরিচালিত হচ্ছে। আগে ভারতীয় প্রকৌশলীরা যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিলেন, তা এখন দেশিয় প্রকৌশলীরা আত্মস্থ করেছেন এবং তারা দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রটির অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী আশ্বস্ত করেছেন যে, জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে এবং পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে আগামী দিনেও কেন্দ্রটি তার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, যাতে জাতীয় গ্রিডে কোনো যান্ত্রিক বা লজিস্টিক বিঘ্ন না ঘটে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এ সফল পরিচালনা কেবল বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেই সহায়ক নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতা ও দেশিয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে বড় ধরনের জাতীয় সংকটেও সমাধান বের করা সম্ভব।
আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আরও আধুনিকায়ন করা জরুরি। যদি রামপাল একইভাবে জাতীয় গ্রিডে শক্তির জোগান দিয়ে যায়, তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখা সহজতর হবে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।









