কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। ফলে বোরো ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের কারণেও বোরো ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পরদিনই শুক্রবার (১ মে) হাওরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
এই সময় তিনি কৃষকদের বলেন, আমার নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে আপনাদের দেখতে এসেছি। তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাওয়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। নিজের মনকে ছোট করবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। যতটুকু পারি কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করবো।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হাওরের ধনু, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলরক্ষা বাঁধ উপচে হাওরের বিশাল এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় কৃষকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী-এই চার উপজেলা পুরোপুরি হাওর এলাকা। এছাড়াও করিমগঞ্জ, তাড়াইল, কটিয়াদী, বাজিতপুর ও ভৈরবের কিছু এলাকাও হাওর হিসেবে পরিচিত। হাওরের কৃষকরা একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই একটি ফসল (বোরো ধান) দিয়েই চলে তাদের সারা বছরের সংসার।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরেই ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন চাল।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৃষ্টিতে প্রায় ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৫ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।






