বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাহাদী মার খেলেন ডিসি অফিসে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ‌‌‌‌‌মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গতকাল তাকে ছাত্রদল ‘ধাওয়া’ দিয়েছে দাবি করে থানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু পুলিশ এ অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। ছাত্রদলও বলছে, প্রচারে থাকার জন্য মাহাদী ‘নাটক’ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি গণপিটুনির শিকার হন। পরে সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান অভিযোগ করেন, ফেসবুকে তার দেওয়া সাবেক একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বুধবার (১০ জুন) ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করেছিলেন। পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

তবে, বুধবারের ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাহাদী হাসান ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদীর দাবি, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তার প্রশংসা করেন। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালাচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ইজি বাইকে বাসায় ফিরছিলেন। ওই সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। ভিডিওতে মাহাদীর সঙ্গে ইজি বাইকে আরেকজনকে দেখা যায়। তারা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। তাদের দাবি, নিজে ভাইরাল হতে মিথ্যে হামলার অভিযোগ তুলে মাহাদী সাজানো নাটক করেছেন।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, ‘মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর ধাওয়া বা তাড়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের প্রচার ও গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এমন দাবি করে ভাইরাল হতে চেয়েছেন। যদি সত্যিই ধাওয়ার ঘটনা ঘটত, তবে তার ফেসবুক লাইভেই সেই দৃশ্য দেখা যেত।’

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, মাহাদী হাসানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ