চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার কারণে ইসলামী ব্যাংকে গত কয়েকদিনে স্বাভাবিকের তুলনায় টাকা উত্তোলন বেড়েছে। এতে করে তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংকটি। সংকট মেটাতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।
ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর গত রোববার পর্যন্ত ৫ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকে জমার চেয়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। গ্রাহকদের একটি অংশ অস্থিরতার কারণে টাকা তুলছেন বলে ধারণা করছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।
ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০২২ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নানা সংকট সামনে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার দিকে জোর দেয়।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছে একটি পক্ষ। গত ১ জুন থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। গ্রাহক ফোরাম খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি করছে।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে হয়।
সূত্র জানায়, গ্রাহকদের জমানো টাকা উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আবার বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা বা সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকটি। যে কারণে বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করেছে।
ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত তাদের হিসাবে এখনও টাকা রয়েছে। তবে সিআরআরে ঘাটতি এবং আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি হিসাবে তাদের ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি ছিল। তবে এখন কমে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমেছে।
২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি আগের চেয়ারম্যান ও এমডি পদত্যাগে বাধ্য হন।






