বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাহস থাকলে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করুক: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফেরার সাহস দেখাতে চান, তাহলে তাকে আদালতের মুখোমুখি হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “সাহস থাকলে এসে আইসিটির মুখোমুখি হোন, আইনের মুখোমুখি হোন। তাহলেই বোঝা যাবে ‘বাপের বেটি’ কেমন।”

বুধবার (২০ মে) সকালে সাভারের পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় শেখ হাসিনার ‘মাথা উঁচু করে দেশে ফিরবেন’, এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো চাই, সাহস থাকলে এসে আইসিটির মুখোমুখি হোন, আইনের মুখোমুখি হোন। আমরা তো ৫ আগস্ট ২০২৪, এ দেখেছি সাহস কাকে বলে। আমরাও দেখতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। সাহস থাকলে আসুন, কোর্টে যান, আইনের মুখোমুখি হন।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে জোর-জবরদস্তির কিছু নেই। কোর্ট যদি বলে আপনি বেকসুর খালাস, তাহলে খালাস, কোনো সমস্যা নেই। এ নিয়ে আমি আর বেশি মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি মনে করি, যিনি এ কথা বলেছেন, তার উচিত হবে আইন-আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।”

এর আগে নির্মাণাধীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ১১ ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে শারীরিক, মানসিক, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতাও রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্যারা অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার উপযোগী করে তাদের গড়ে তুলতে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এখানকার ভালো সংবাদ হলো, অনেক প্রতিবন্ধী আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। অনেকে স্বর্ণপদকও বিজয়ী হয়েছে। আমরা চাই, তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে এমনভাবে গড়ে তুলতে, যাতে সমাজে তারা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে পারে এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারে।”

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ এগোয়নি। মাঝখানে ১৬ মাস কাজ বন্ধও ছিল। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং দুই বছরের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্প এলাকায় ইনডোর ও আউটডোর প্লেগ্রাউন্ড, বিশেষ কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ সুবিধা রাখা হবে। নদীর পাড়ঘেঁষা মনোরম পরিবেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি), স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়া বা আসবাবপত্র কেনাকাটা হয়নি। কেবল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এবং সেটি করছে সরকারি সংস্থা পিডব্লিউডি।

তিনি বলেন, “পিডির নিজস্ব খরচ করার কোনো ক্ষমতা নেই। টাকা সরাসরি পিডব্লিউডিতে ট্রান্সফার হচ্ছে এবং তারাই কাজ করছে। এখানে অ্যাডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, সাইট ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট ও ডিজাইন টিম কাজ করছে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্সে আছে। কোনো দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না, সামনে হোক বা পেছনে হোক। আপনাদের কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে, অবশ্যই জানাবেন, আমরা তদন্ত করব।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরাও করব না, কাউকেও করতে দেব না। আমি নিজে হলেও ছাড় পাব না, আমারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ