ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। সংখ্যায় আসন কম হলেও এমন সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও ভোটের মাঠে নেমে চাপে পড়েছেন তাদের প্রার্থীরা। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিপরীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাসান মামুন শক্তভাবে মাঠে আছেন। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে নুরের। বিএনপির তৃণমূল সমর্থন ছাড়া নুরের পক্ষে জয় কঠিন হবে বলে মনে করেন স্থানীয় জনগন।

গত বুধবার ১০ জানুয়ারী বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনকে বুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানান তিনি। তবে দল থেকে বহিষ্কার করা কাউকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলার সুযোগ বিএনপির আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অফিশিয়ালি হাসান মামুন এখন আর বিএনপির কেউ নন। এদিকে দল বললেও নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন এই বিদ্রোহী প্রার্থী। তেমনটা করলে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা হবে বলে মনে করেন তিনি। বহু বছরের চেষ্টায় নির্বাচনি এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে দল ও নিজের অবস্থান শক্ত করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হাসান মামুন। এ আসনে বিএনপির একমাত্র মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল। আন্দোলন-সংগ্রামের মিত্র গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয় আসনটি। দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া হাসান মামুনও নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। শুরুর দিকে ভাবা হয়েছিল দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নুরের সঙ্গে নামবে দুই উপজেলা বিএনপি। কিন্তু তা না করে হাসান মামুনের পক্ষে রয়ে যান সবাই। দুই উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত তার পক্ষে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ নুর প্রথমে হুঁশিয়ারি দেন। অফিশিয়ালি বিএনপির কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। প্রচ্ছন্নভাবে দেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার করানোর হুমকি। এরই মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি দেন হাসান মামুন। ৩০ ডিসেম্বর তাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে ভাবা হলেও বাস্তবে ঘটে উলটো। মামুনের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন দুই উপজেলা বিএনপির পদ-পদবিধারী সব নেতা। গণহারে বহিষ্কার হলেও হাসান মামুনকে ছেড়ে না যাওয়ার পালটা ঘোষণা দেন তারা। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বিএনপির প্রায় সবার এমন অবস্থানে আরও জটিলতায় পড়েন নুর। বুধবার তিনি দেখা করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। বুঝিয়ে-শুনিয়ে হাসান মামুনকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের নুর বলেন, ‘বিএনপি তার মিত্রদের মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে। এসব আসনের প্রায় সবকটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা। আসনগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও কোনোরকম সহযোগিতাও পাচ্ছি না আমরা। এভাবে হলে তো আসন ছাড়া আর না ছাড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য রইল না।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির তৃণমূল সমর্থন ছাড়া নুরের পক্ষে জয় কঠিন হবে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আবু বক্করও ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলছেন। নুরের বাড়ি গলাচিপা উপজেলায় হওয়ায় সেখানে ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে দশমিনা উপজেলায় একক শক্ত প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন হাসান মামুন। সব দিক বিবেচনায় ভোটের অঙ্কে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাত্তার হাওলাদার বলেন, অন্য দলের লোক এনে এমপি বানালে কী হয় তার খেসারত আমরা এর আগে দিয়েছি। ২০১৮ সালে গোলাম মাওলা রনিকে ধরে এনে এখানে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। ফলাফল গত ৭ বছরে আমরা এলাকায় তার চেহারাও আর দেখিনি। সবকিছু বুঝে শুনে হাসান মামুনের পক্ষে নেমেছি। দল যে ব্যবস্থাই নিক, শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষে থাকব।





