মঙ্গলবার, ৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচনের পরিবেশ নেই কোন রাজনৈতিক দল এমন অভিযোগ করছে না : তথ্য উপদেষ্টা

নির্বাচনের পরিবেশ নেই এমন অভিযোগ কোন রাজনৈতিক দল করছেনা, এখন পর্যন্ত পরিবেশ গ্রহনযোগ্য আছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিচার কার্যশেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবেনা।

রোববার (০৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে। মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ’র সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

একটা সুষ্ঠ গ্রহণযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে নির্বাচনের যে পরিবেশ আছে সেটাকে আপনি ঠিক মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা আপনি কয়েকটা আঙ্গিকে দেখতে পারেন। একটা হচ্ছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে কাজগুলো অন্য সকল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন করে সেই কাজগুলোর করা শুরু হয়েছে কিনা। সেই কাজগুলো যথাযথভাবে চলছে। মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রার্থীরা বিভিন্ন দলের খুবই আগ্রহ উৎসাহ নিয়ে এগুলো মনিটর করছেন। কোথাও কোন ব্যত্তয় হলে তারা সে কথাগুলো বলছে। ফলে নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করায় সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করছে। বাট বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যেমন ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে শুরু করেছেন উঠান বৈঠক করা। গ্রামে গ্রামে গিয়ে মাইকিং করা। এই কাজগুলো শুরু হয়েছে নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলকে কিন্তু এরকম বলতে দেখছি না যে, পরিবেশ নাই নির্বাচন করবো না। কাজেই আমি কেন ধরে নেব যে পরিবেশ নাই।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, একটা ফোর্স তো কাজই করছে যে একটা ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় কিনা। সেটা তো আমরা কোনভাবেই সফল হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশের নির্বাচন তো আপনিও দেখেছেন আমিও দেখেছি নির্বাচনী সহিংসতার একটা মাত্রা থাকে। কিন্তু তার উপরেও একটা অতিরিক্ত মাত্রা আরোপ করে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সেজন্যই আপনাদের কাছে আহ্বান করছি মানুষকে ভয়ভীতির পরিবেশের উর্ধে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। জনগণ ভোট দিয়ে তার প্রশাসক নিয়োগ করবে। তার শাসক নিয়োগ করবে। আপনি গণমাধ্যম হিসেবে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করার জন্য মানুষকে সেই কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন। কাজেই আপনার প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে যে এখনো পর্যন্ত পরিবেশ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে। যে কাজগুলো করার কথা সেই কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি।

উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করছে। কাজেই পরিবেশ গ্রহণযোগ্য না। এই কথাটা বলবো না। তবে একটা ন্যারেটিভ বা বলার কোন সুযোগও নেই। একটা ন্যারেটিভ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে না এখানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা এই কারণে নির্বাচনটা শেষ পর্যন্ত হবে না। এটা মনে করার কোন কারণই নেই। সরকার নির্বাচনের একটা ক্লিয়ার রোডম্যাপ দিয়েছে। নির্বাচনের ক্লিয়ার রোডম্যাপ আছে।আপনার গণভোটের মেসেজগুলো আছে কাজেই নির্বাচনের দিকে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাচ্ছে।

গণভোটের প্রসঙ্গে তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের বিষয়টা একটু প্রচার করতে হবে। গণভোটে আসলে কি কি প্রস্তাবনা আছে? কেন মানুষকে এটাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। গণভোটের ইমপ্লিকেশন কি? এটা নিয়ে একটু ইতিবাচকভাবে যদি আপনারা প্রচার প্রচারণা করেন মানুষ কিন্তু এটা দেখে আপনাদের টকশো গুলো দেখে শোনে। সরকারের কাছে কিছু বার্তা রেডি আছে। সরকারের একটা ন্যারেটিভ আছে। আপনারা সেটা আমাদের কাছ থেকে একটু নিয়ে নেবেন।

তিনি বলেন, মানুষকে আসলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মানে মানুষ খুবই চায় ভোট দিতে। কিন্তু তারপরেও ভোট যাতে দিতে না পারে। একটা ভয়ভীতি দেখানোর টেন্ডেন্সি আছে। এটাকে আমাদের ওভারকাম করতে হবে।

গণভোটের জন্য কি প্রচার করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, মানুষ যাতে গণভোটে অংশগ্রহণ করে মানুষকে তো বিষয়গুলো বুঝাতে হবে। যে ১১ টার বিষয়ে তারা যে হ্যাঁ বা না বলবে এই বিষয়গুলো আসলে কি হ্যাঁ বললে এটার ইমপ্লিকেশন কি না বললে এটার ইমপ্লিকেশন কিন্তু সরকারের একটা ন্যারেটিভ প্রস্তুত করা আছে। আপনারা সেই ন্যারেটিভটা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যদি প্রচার করেন মানুষকে সাধারণ ভোট দিতে এবং গণভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেন তাহলে কিন্তু এটা একটা অনেক বড় কাজ হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তো আপনারা করছেন, সেই অংশগ্রহণমূলক বলতে কি আওয়ামী লীগও আসলে থাকছে বিষয়টা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যার যেই রাজনৈতিক অবস্থান সে সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নানান কথা প্রচার করা শুরু করে। এইগুলো কোন ভিত্তি এখনো পর্যন্ত আছে বলে এখনো পর্যন্ত আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, তাদের ( আওয়ামীলীগ) অংশগ্রহণ এটাও বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম যেহেতু স্থগিত এবং নির্বাচনের কাজগুলো তো শুরু হয়ে গেছে এগুলো তো এখন যাচাই বাছাই করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে কাজে এই প্রশ্ন তো এখন একটা অবান্তর প্রশ্ন।

পুলিশ কি আসলে পরিপূর্ণভাবে এক্টিভ করতে পেরেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আচ্ছা প্রথম কথা হচ্ছে আপনি যদি স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিভিন্ন সময়ে যা তার থেকে খুব বেশি ব্যতয় হয়েছে আমাদের পরিসংখ্যান তা বলে না। সুতরাং পুলিশকে একটা পর্যায় পর্যন্তঅক্টিভেট করা গেছে। কিন্তু এখন আসলে নানান রকম জায়গা থেকে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসছে আমাদেরও সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে আরো বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। যেমন আমাদের হাদির হত্যাকান্ড। সেখানে আমাদেরকে এখন অন্যান্য প্রার্থীদেরকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারাও কেউ কেউ বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আবেদন করছে। ফলে একটা একটা করে চ্যালেঞ্জ যখন এড করা হয় তখন একটা একটা করে চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদেরকে বাড়তি পদক্ষেপগুলো নিতে হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে পুলিশ ফাংশনাল এবং পুলিশ এখনো তার কাজে মনোনিবেশ করে যাচ্ছে।

দেশ থেকেও দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ব্যহত করার জন্য গুজব ছড়াচ্ছে, এই গুজব প্রতিরোধে আপনার কিন্তু মন্ত্রণালয় কি কাজ করছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, কয়টা মাধ্যম থেকেই কিন্তু ফ্যাক্ট চেক করে এখন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ওখান থেকেও দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু ফ্যাক্ট চেক করে বলা হচ্ছে। কিছু কিছু মিডিয়া সেল থেকে ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে। আমাদেরও পিআইডির রয়েছে। আমাদের দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশের স্বার্থে হবে। আমাদের জাতীয় দায়িত্ব নির্বাচনটা করা। এখন আমরা কোন দেশ থেকে কি গুজব রটাচ্ছে সেটা নিয়ে বেশি পড়ে থাকবো, সেটা নিয়েই বেশি প্রশ্ন করব নাকি আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিব যাতে করে আমাদের নির্বাচনটা হয়। আমাদের দেশটা গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টা হচ্ছে যে, খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি, খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে…যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়। সেরকম জায়গায় আমাদেরকেও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি এবং করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

সম্প্রচার অধ্যাদেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রচার অধ্যাদেশ মোটামুটি একটা খসড়া করা হয়েছে। ওটা আরেকটু ফাইনাল টিউনিং করে হয়তো আগামী সপ্তাহ থেকে এভেলেবল করব। আর মিডিয়া কমিশনের যেটা একটা দাবি আছে সেই মিডিয়া কমিশনটার মধ্যেই সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিধান রেখে হয়তো একটা খসড়া করে দিয়ে যেতে পারব। বাকিটা আপনাদেরকে পরের সরকার থেকে হয়তো আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করবো আমি কথা দিতে পারি না। এটার প্রসেসটা অনেক লম্বা। আপনাকে একটা আইনের খসড়া করতে হবে খসড়া একটা করে দেয়া আছে সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে কিন্তু ওটা তো অ্যাসপিরেশনাল ওটা তো লিগাল আপনাকে রূপ দিতে হবে তারপরে এটা আপনাকে ওয়েবসাইটে দিতে হবে। স্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন করতে হবে, তারপরে আপনি ক্যাবিনেটে নেবেন। ক্যাবিনেট তার মতামত দেবে তারপরে যদি ক্যাবিনেট পাশ করে দেয় তারপরেও লেজিসলেটিভে গিয়ে ওইটা ভাষা ঠিক করে হবে আমি চেষ্টা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ