শুক্রবার, ২রা জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমানের নেতৃত্ব, কূটনীতি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা এত বিশাল ছিল যে এটি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই জনসমাগম শুধু শোক প্রকাশ নয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের জন্য এক নতুন শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন দলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা তাঁর নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছিল। এখন এই দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর এসেছে। তিনি দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংযোগও বজায় রেখেছেন।

বহু দেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি ঢাকায় এসে শোক প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা তারেক রহমান ও পরিবারের কাছে পৌঁছেছে। পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত হয়েছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের শোকবার্তা বাংলাদেশে বিএনপি’র আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি ছিল জামায়াতে ইসলামের উচ্চপর্যায়ের অংশের সঙ্গে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সংলাপ। এটি কোনো জোট বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতা নয়। বরং রাজনৈতিক বোঝাপড়ার সূক্ষ্ম বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি এই সাক্ষাৎকে কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও দায়িত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেছে এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত ও সমীকরণের দিকে নজর রেখে “দাবার ছক” সাজিয়েছে। এই ধরনের সংলাপ দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সহনশীলতা, কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক নির্দেশ করছে।

সার্বিকভাবে খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি শুধু এক নেত্রীর প্রয়াণ নয়, বরং দলের পুনর্গঠন, নেতৃত্বের সংহতি ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার প্রয়োগের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

জাতীয় রাজনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং কূটনৈতিক সংযোগ আগামী দিনের রাজনীতির রূপরেখা নির্ধারণ করবে।

লেখক: মোঃ হাফিজ আল আসাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ