মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় সব শাখা–উপশাখায় ব্যানার টানানোর নির্দেশ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে দেশের সব ব্যাংক শাখা ও উপশাখার সামনে গণভোট বিষয়ক প্রচারণামূলক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠেয় গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখার দৃষ্টিনন্দন স্থানে দুটি করে খাড়া ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দেওয়া নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গণভোটের প্রস্তাবিত সংস্কার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য।’

এর আগে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণার আহ্বান জানান। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করলেও কিছু ব্যাংক লিখিত নির্দেশনা না পাওয়ায় তা বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত সপ্তাহে রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টানানো দেখা গেছে। এসব ব্যানারে লেখা রয়েছে—‘গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে?’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে গণভোটে জনসচেতনতা তৈরির জন্য মোট ১২টি বিষয়ে প্রচারণার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, কোনও ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, বিচারব্যবস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার নিশ্চয়তা, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছামতো ক্ষমা না দেওয়ার বিধান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচারণামূলক ব্যানারের নমুনা ও ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ