কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা দখল করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুক্তমনাদের ওপর আঘাত হানেন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকদের ওপর চাপ, হয়রানি ও সহিংসতার অংশ হিসেবে শত শত সাংবাদিককে আইনি হয়রানি, শারীরিক হামলা, মামলা, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডই শুধু বাতিল করা হয়নি। শত শত সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়াও সাংবাদিক হত্যায়ও মদদ দিয়েছে ইউনূস সরকার।
নেতারা বলেন, ইউনূস যে দমন-পীড়নের ধারা তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তা বর্তমান তারেক রহমানের বিএনপি সরকার সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবু কারাগারে বন্দী। দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে; গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিটি দিন গুনে গুনে পার করছে তাঁদের পরিবার। দুই বছরেরও বেশি কারাবাসে তাঁদের প্রত্যেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। যত দিন যাচ্ছে, তাঁদের রোগের বিস্তার বাড়ছে। মানসিক যন্ত্রণা তাঁদের শরীর ও মন দুটোই ভেঙে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাঙছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও।
একাধিক হত্যা মামলায় শত শত আসামির ভিড়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের নাম; এসব মামলার তদন্ত বা বিচারে কোনো অগ্রগতি নেই, তবু বারবার নাকচ হয়েছে জামিনের আবেদন। এরই মধ্যে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। যে অভিযোগগুলোর ভিত্তি হিসেবে তাঁদের সাংবাদিকতা, সম্প্রচার ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিককে সামনে আনা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে, তা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সাংবাদিক গাজী তুষার আহমেদ ও শেখ ইমন আহমেদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শাহরিয়ার কবীর, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, শেখ জামাল, মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীর, শেখ ইমন আহমেদ, গাজী তুষার আহমেদসহ সারা দেশে ৫২ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকজন এখনো কারাগারে।
শেখ জামাল বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে সাংবাদিক সুমন্ত চক্রবর্তী, মেহেদী মামুন, আব্দুর রহমান, প্রবীর দাস, শ্যামল নন্দী, মেহেরুল সুজন, মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ ১১৮ জন সাংবাদিক শারীরিক হেনস্তা ও হামলার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, মেহেদী হাসান, শাকিল হোসেন, তাহির জামান, এটিএম তুরাব, প্রদীপ কুমার ভৌমিক, সোহেল আখঞ্জি, আজাহার আলী, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরসহ ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়।
শেখ জামাল বলেন, জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ সারা দেশে ৪৪৬ জন সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়। যা এখনো বহাল আছে। জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও টেলিভিশনগুলোর বার্তাপ্রধান ও সাংবাদিকসহ সারা দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদদাতাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় পদ দখল করা হয়েছে। বিটিভি, একাত্তর টিভি, সময় টিভি, ডিবিসি, গান বাংলা, এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা, মাইটিভি, বিজয় টিভি, নিউজ২৪ ও আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, দৈনিক মুখপাত্র, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, নজিরবিহীনভাবে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের ৭০০ জন সদস্যের পদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। যা এখনো বহাল আছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের দেশত্যাগে বেআইনি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যা এখনো বলবৎ আছে। ৪৭ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যা এখনো বলবৎ আছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, সদস্য সাজেদা হক, একেএম ওবায়দুর রহমান, রাগেবুল রেজা, ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার, শেখ কলিমুল্লাহ নয়ন, নাঈমুর রহমান স্বপন, হাসনাত শাহিন, রহিমা খানম, শফিউর রহমান, মাজেদুল ইসলাম পাপেল, সুজিত সজীব ও রমজান আলী প্রমুখ।









