বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন তামিম ইকবাল। সেখানে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামো পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। এ ছাড়া মিরপুরের পূর্ব গ্যালারিতে ক্যানোপি বসানো ও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার চিন্তাভাবনাও করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে বিসিবির নির্বাচন দেবেন এবং সেখানে তিনি প্রার্থী হবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে অন্তর্বর্তী কমিটির তিনটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তামিম ইকবাল; যার অন্যতম কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দলগুলোর দ্বিতীয় একাদশ গঠন করা। এই মৌসুম থেকেই প্রতিটি বিভাগীয় দলের দ্বিতীয় একাদশ খেলবে তিন দিনের টুর্নামেন্ট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই সংযোজনের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে যারা জাতীয় দলে খেলে, তারাই বিপিএল খেলে, বিসিএল খেলে, এনসিএল খেলে। একটা শ্রেণির খেলোয়াড়রা ৫-৬টা টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে। যারা থার্ড ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন বা ফার্স্ট ডিভিশনে খেলে, তাদের জন্য এই লিগ ছাড়া আর কোনো খেলা নেই।’ তামিম মনে করেন, এ জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেকেন্ড বা থার্ড ডিভিশন থেকে কোনো খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে আসার তেমন ঘটনা নেই। তারা ক্রিকেটারদের সেই প্ল্যাটফর্মটা দিতে চান।
জাতীয় লিগে দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্ট নিয়েও বিস্তারিত বলেছেন তামিম, ‘কাউন্টি ক্রিকেটে ফার্স্ট ইলেভেন ও সেকেন্ড ইলেভেন থাকে। এখন থেকে এনসিএল যখন শুরু হবে, চিটাগাংয়ের দুটি ইলেভেন থাকবে। ঢাকারও দুটি টিম থাকবে। এভাবে প্রতিটি বিভাগের ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইলেভেন থাকবে। ফার্স্ট ইলেভেনের অনেক খেলোয়াড় থাকে যারা বেশির ভাগ সময় ১২তম, ১৩তম বা ১৪তম খেলোয়াড় হয়ে থাকে, খেলার সুযোগ পায় না। কিন্তু সেকেন্ড ইলেভেন যখন আমরা শুরু করব, তখন আরও ১০০-১৫০ বা ২০০ ক্রিকেটার খেলার মধ্যে আসবে।’ সেকেন্ড ইলেভেনে ভালো করলে ফার্স্ট ইলেভেনে সুযোগ দেওয়া হবে। এতে করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং জাতীয় লিগকে দেওয়া ‘পিকনিক ক্রিকেট’ বদনামটাও ঘুচবে। জাতীয় লিগে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিও আবার ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তামিম আগেই জানিয়েছিলেন, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিন মাসের আগেই নির্বাচন করতে চান তারা। নির্বাচন প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব সবার সঙ্গে কথা বলে ৩ মে একটা বোর্ড মিটিং করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার। প্রক্রিয়া যদি শুরু হয়ে যায়, সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন হয়ে যায়, যেটি আমাদের ডেডলাইনের অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে হবে।’ নির্বাচনের আগে সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের কথা যেটা বলছেন, আমরা এমন কোনো চিন্তা করিনি। প্রথম দিন থেকেই আমি বলেছি যে নির্বাচন করব। আমি গঠনতন্ত্র অনুসরণ করব এবং গঠনতন্ত্র অনুসারে এগোবো।’
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে আরও দুই সাবেক অধিনায়কের প্রসঙ্গ টানেন তামিম, ‘আমাদের তিনজন সাবেক অধিনায়ক একই অবস্থায় আছেন। বিসিবি তাদের ক্রিকেটীয় জায়গা থেকে যোকোনো সহায়তা করতে প্রস্তুত। আইনগত যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো নিয়ে নমনীয় হওয়ার ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ও বলেছেন। বিসিবি তাদের খোলামেলাভাবেই স্বাগত জানাবে যদি তারা তাদের আইনি সমস্যাগুলো সমাধান করে আসতে পারেন।’






