10262021মঙ্গল
শিরোনাম:
শুক্রবার, 30 এপ্রিল 2021 09:54

চীন তাদের মহাকাশ স্টেশনের মূল মডিউল তিয়ানহে উৎক্ষেপণ করছে

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: চীনা মহাকাশ স্টেশন তিয়ানহে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে চীন তাদের নতুন স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ মূল অংশ বা মডিউলটি উৎক্ষেপণ করেছে। চীনের ক্রমশই উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠা মহাকাশ কর্মসূচিতে এটি সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ। তিয়ানহে নামের এই মডিউলে রয়েছে নভোচারীদের থাকার জন্য ঘর। চীনের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভবি নামের রকেটের মাধ্যমে এই মহাকাশ স্টেশনটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। চীন আশা করছে, তাদের নতুন মহাকাশ কেন্দ্রটি ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ করতে শুরু করবে। মহাকাশে এখন একমাত্র একটিই স্পেস স্টেশন আছে যেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, যেটা চীনকে ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে চীন তার কার্যক্রম শুরু করেছে বেশ দেরিতে। মাত্র ২০০৩ সালে চীন প্রথম তার নভোচারীকে কক্ষপথে পাঠায়। চীন তখন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর মহাকাশ অভিযানের দৌড়ে তৃতীয় দেশ। এখন পর্যন্ত চীন মহাকাশের কক্ষপথে এর আগে পাঠিয়েছে দুটি স্পেস স্টেশন। তিয়ানগং-১ এবং তিয়ানগং-২- এ দুটিই ছিল পরীক্ষামূলক মহাকাশ স্টেশন। এগুলো ছিল খুবই সাদামাটা ধরনের মডিউল, যেখানে নভোচারীদের তুলনামূলকভাবে অল্প সময় থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বর্তমানের নতুন তিয়ানগং স্টেশনটির ওজন ৬৬ টন এবং এর অনেকগুলো মডিউল রয়েছে। এই স্টেশন কাজ করতে পারবে অন্তত ১০ বছর। তিয়ানহে হল এই স্থায়ী তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের মূল অংশ। এটির দৈর্ঘ্য ১৬.৬ মিটার, এবং প্রস্থ ৪.২ মিটার। এই মডিউল মহাকাশ স্টেশনে শক্তি সরবরাহ করবে এবং স্পেস স্টেশনটিকে কক্ষপথে ঘোরাবে। নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং জীবনরক্ষার প্রযুক্তিও থাকবে এই মডিউলে। চীনের অন্তত আরও দশটি একইধরনের উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে কক্ষপথে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে। তাদের পরিকল্পনা হল আগামী বছরের মধ্যে এই স্টেশন চালু করার কাজ সম্পন্ন করার। এই স্টেশনটি ৩৪০ থেকে ৪৫০কিলোমিটার দূরত্বে পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। কেমন দেখতে হবে পূর্ণাঙ্গ তিয়ানহে স্টেশন কক্ষপথে প্রদক্ষিণকারী একমাত্র মহাকাশ স্টেশন আইএসএস (ইন্টারন্যাশানাল স্পেস স্টেশন) তৈরি হয়েছিল রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ এবং জাপানের সমন্বিত উদ্যোগে। চীনকে এই উদ্যোগে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। আইএসএস-এর ২০২৪ সালে অবসর নেবার কথা অর্থাৎ ওই বছরই এটির কার্যক্ষমতা ফুরিয়ে যাবে। তখন তিয়ানগং-ই হবে পৃথিবীর কক্ষপথে একমাত্র মহাকাশ স্টেশন। চীনে বিবিসির সংবাদদাতা স্টিফেন ম্যাকডোনেল বলছেন, চীন তার মহাকাশ কর্মসূচি দেরিতে শুরু করলেও, অন্য দেশগুলোর সাথে পাল্লা দেবার জন্য তারা এক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়েছে। এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও প্রবল। আমেরিকা চীনকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কর্মসূচিতে অংশ নিতে না দেয়ার পর চীন নিজের মহাকাশ স্টেশন নিজেরাই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। তিয়ানগং যখন পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে, তখন তারা বর্তমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের চেয়ে আকারে ছোট হলেও, তাদের স্টেশনটিই হবে পৃথিবীর কক্ষপথে একমাত্র স্পেস ল্যাব। চীন মঙ্গলগ্রহে অভিযান নিয়ে কাজ করছে এবং রাশিয়ার সাথে একযোগে চাঁদে একটি মহাকাশ স্টেশন তৈরি করবে। চাঁদে মহাকাশ স্টেশন তৈরি করবে চীন ও রাশিয়া: উদ্দেশ্য কী? মি. ম্যাকডোনেল বলছেন, তখন শীতল যুদ্ধকালীন মহাকাশ জয়ের দৌড়ের মত একটা পরিবেশ স্পষ্টতই তৈরি হতে পারে, যেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুফলের পাশাপাশি বাড়বে অবিশ্বাসের বাতাবরণও। লং মার্চ ফাইভবি ওয়াই টু রকেট যেটির মাধ্যমে তিয়ানহে মডিউল মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে লং মার্চ ফাইভবি ওয়াই টু রকেট যেটির মাধ্যমে তিয়ানহে মডিউল মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে চীনের 'মহাকাশ স্বপ্ন' চীনের মহাকাশ কর্মসূচি বিষয়ক বিশ্লেষক চেন লান এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, এই প্রকল্প চীনের জন্য ''বিশাল গুরুত্বপূর্ণ''। "এটি হবে চীনের বৃহত্তম মহাকাশ সহযোগিতা প্রকল্প, কাজেই এটা খুবই বিরাট," তিনি বলেন। চীন তার মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ খোলাখুলিভাবেই বলেছে। চীন মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিমাণ অর্থ ঢেলেছে। ২০১৯ সালে চীনই প্রথম চাঁদের সবচেয়ে বেশি ভেতরে নভোচারীবিহীন রোভার নভোযান পাঠিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশটির মহাকাশ কর্মসূচিকে সর্বতোভাবে সাহায্য করছেন এবং চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রায়ই দেশটির "মহাকাশ স্বপ্নের" নানা খবর দিয়ে "জাতিকে উজ্জীবিত" করছে।
পড়া হয়েছে 139 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 30 এপ্রিল 2021 10:08

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা