10292020বৃহঃ
শিরোনাম:
রবিবার, 27 সেপ্টেম্বর 2020 22:23

অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থা না করলে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে বিরোধ বাড়বে

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বিশ্বের সব উজানের দেশের চরিত্র এক। তারা ভাটির দেশের দিকে নজর দেয় না। ভাটির মানুষের দুঃখ বোঝে না। তবে উজান ও ভাটির দেশ মিলেই অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা করলে সবারই উপকার করতে হবে। তা না হলে নদী নিয়ে উজানে থাকার নদীর রাষ্ট্রের সাথে ভাটির অংশের দেশের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে বিরোধ বাড়বে,সর্ম্পক নষ্ট হবে। আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ওয়েবিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথির হিসাবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক নদী গবেষক, ঢাকা স্কুল অব ইকনমিক্স এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান। কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, আঞ্চলিক অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মুক্তির জন্য আঞ্চলিক অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে আমাদের নদী ব্যবস্থাপনা জোর দিতে হবে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোতে হবে। তিনি নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ‘নদী বাংলাদেশের জীবন: নদী বাঁচাই, পরিবেশ বাঁচাই, দেশ বাঁচাই’-শীর্ষক ওয়ার্কার্স পার্টির সেমিনারে কাজী খলিকুজ্জামান আরো বলেন, নদী রক্ষায় ১৯৯৯ সালের পানি নীতি এবং ২০১৩ সালের পানি অ্যাক্ট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে নদী সমস্যার সমাধান করা জরুরি। তার জন্য সবার আগে যেকোনো পরিকল্পনার সাথে ভুক্তভোগিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব আমরা দেখছি। জলবায়ুর অভিঘাত পানির উপরে পড়ে এবং পানির সাথে আমাদের কৃষি ও পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরে। তাই নদীর প্রবাহতা অক্ষুন্ন রেখে এই ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক এই গবেষক আরো বলেন,অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় গঙ্গা-ব্রম্মপুত্র-যমুনা নদীকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে। পাশাপাশি চীনের সাংপো নদী থেকে যমুনার যে প্রবাহ সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি গঙ্গা চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার যে ধারা আছে তাও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রম্মপুত্র, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা দিয়ে প্রবাহমান অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ জরুরি। তানাহলে জলবায়ু অভিঘাত থেকে আমরা রক্ষা পাব না, রক্ষা পাবে না ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। মেনন বলেন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, নদী রক্ষা আন্দোলনকারী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যের মধ্যদিয়ে একটা লড়াই গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষার লড়াই কে রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, চুক্তিতো কোনো বাইবেল নয়, পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে চুক্তিরও পরিবর্তন করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে আজ গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী, প্রকৌশলি মুহাম্মাদ হিলালউদ্দিন হেলাল, নদী বিশেষজ্ঞ মাহবুব সিদ্দিকী, দৈনিক সমকালের সহ-সম্পাদক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, নড়াইলের চিত্রা নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 20 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 27 সেপ্টেম্বর 2020 22:26

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা