02272020বৃহঃ
মঙ্গলবার, 04 ফেব্রুয়ারী 2020 18:34

বৈঠক শেষে প্রশ্নবাণে ড. কামাল

 জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক জোটের বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের কঠোর সব প্রশ্নের মুখে পড়লেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলন ও সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সভা করা ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে রাজপথে দেখা যায় না; মাঠে থাকতে তারা ব্যর্থ কি না?; ঐক্যফ্রন্ট সব সময় জনগণের কাঁধে সবকিছু চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে কি না? - এমন সব প্রশ্নের মুখে পড়ে আড়ষ্ট জবাব দেবার চেষ্টা করেন জোটটির অন্য নেতারাও। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, তারা জনগণের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দেননি। এখন থেকে তাদের মাঠে দেখা যাবে। ঐক্যফ্রন্ট সব সময় জনগণের কাঁধে সবকিছু চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো জনগণের ওপর ভর করেই রাজনীতি করি। শক্তি তো জনগণের, সেটাকে উৎসাহিত করার জন্য সভা-সমাবেশ ও মিছিল করি। এই প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও। তিনি বলেন, তারা জনগণের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন, এটা সঠিক নয়। তারা সব ক্ষমতার মালিক, তাই তাদের ওপর ভরসা রেখেছি। তার বিপরীতে সরকার জনগণের সব আস্থা কেড়ে নিয়েছে। তারা ভোটকে ভয় পাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্ট দুই প্রার্থীকে সমর্থন দিল, কিন্তু সেই নির্বাচনে মাঠে থাকতে তারা ব্যর্থ কি না? এতে সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পায় কি না? এ ছাড়া চারটি পথসভার ঘোষণা দিলেও তা হয়নি? তারা ব্যর্থ কি না? এসব প্রশ্নের উত্তরে কামাল হোসেন বলেন, আমাদের কাজগুলোকে জোরদার করতে হবে। জনগণকে নিয়ে পরিবর্তন আনতে আমরা বাধ্য। এভাবে দেশ চলতে পারে না। গণস্বাস্থ্যের জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন থেকে তাদের মাঠে দেখা যাবে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং পরিবর্তন এনেছে। এর কোনও ব্যতিক্রম এখন হবে না। জনগণের মধ্যে একটা ঐক্যমত গড়ে উঠেছে। তাদের এগিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার যেভাবে দেশ চালাতে চাচ্ছে, সেটা আর পারবে না। ঢাকার সদ্য নির্বাচিত দুই মেয়রকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মেয়র বলা যাবে না উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, সিটি নির্বাচনে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর যুবসমাজ ও জনগণ অনাস্থা প্রকাশ করেছে। দুই সিটির নির্বাচিত মেয়ররা মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছেন। বাকি ফলাফল ইভিএমের জাল ভোট। সরকার সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করে নির্বাচন পদ্ধতিকে ধ্বংস করেছে দাবি করে কামাল হোসেন বলেন, আজ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আমাদের কথা বলেই যাবো। মানুষ একদিন দাঁড়িয়ে বলবে, এটা একেবারে অসহ্য হয়ে গেছে। এর পরিবর্তন আনতে হবে। লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন আরও বলেন, সরকার চায় জনগণ ভোটকেন্দ্রে না যাক, তারা ভোটারদের ভয় পায়। তাই তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যফদ্ধন্ট কি যথাযথ কর্মসহৃচি দিতে পারছে? -এ প্রসঙ্গে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে নির্দেশনা দেওয়া। কার্যকর করবে জনগণ। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন বিকল্পধারা (একাংশ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারি, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মোশতাক হোসেন, মহসিন রশিদ, জেএসডি শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার ও বিকল্প ধারার শাহ আহমেদ বাদল।
পড়া হয়েছে 18 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 04 ফেব্রুয়ারী 2020 18:41

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা