04052020রবি
শিরোনাম:
মঙ্গলবার, 01 জানুয়ারী 2019 18:39

নতুন এমপিদের শপথ ৩ জানুয়ারি বিএসআরএফ সংলাপে তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘আগামী ৩ জানুয়ারি নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর আগে কাল(বুধবার) গেজেট জারি হবে। সুতরাং মহজোটের সরকার গঠন হতে যাচ্ছে, এটা অবধারিত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা নতুন সরকার পাব।’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মহসীন আশরাফ উপস্থিত ছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ২৮৮টি আসনে (আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কাস পার্টি ৩, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১) বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বিএনপি জোট অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র সাতটি (বিএনপি ৫, গণফোরাম ২) আসন। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্যরা জয় পেয়েছেন ৩টি আসনে। নতুন সরকারের আকার কেমন হবে এবং মন্ত্রিসভায় কতজন নতুন মুখ আসতে পারে- জানতে চাইলে জাসদ একাংশের সভাপতি ইনু বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, এই ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে যোগ্য ও কার্যকরী লোক দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক ও আইনগত নিয়ম রক্ষা করেই শপথ নেবেন সংসদ সদস্যরা এবং মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।’ নতুন মন্ত্রিসভা কবে গঠন করা হবে- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সময়টা আমি বলতে পারব না। সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার পরই মন্ত্রিসভায় যাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সুতরাং এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার দফতরই নির্ধারণ করবে কবে কখন ও কাদেরকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।’ নতুন সরকারে কারা বিরোধী দল হবে- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টি যেহেতু দলগতভাবে আওয়ামী লীগের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসবে। শেখ হাসিনা যদি আমন্ত্রণ জানান আর তারা গ্রহণ করে তবে তারা মন্ত্রিসভায় যাবে, আর গ্রহণ না করলে জোটের অন্যান্য শরীকদের দিয়ে সরকার গঠন হবে।’ নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জের একটা হচ্ছে, সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নটা রক্ষা করে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দুই জঙ্গী সন্ত্রাস দমন করে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই শান্তি বজায় রেখে সাম্প্রদায়িকতা এবং সামরিক শাসনের যে জঞ্জাল এখনও রয়েছে সেগুলো পরিস্কার করে ফেলা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন তা আমি পরিস্কার করে বলছি- দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবেন এবং সুশাসনের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব দিক থেকে এই নির্বাচনে গণমাধ্যম নির্বিঘেœ কাজ করতে পেরেছে। আমি সেই দিক থেকে আমি সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা মহাকর্মষজ্ঞই মহাজোট সরকারে অভাবনীয় বিজয় এনে দিয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের আয়েশী মনোভাব ও মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যই তাদের ভরাডুবির কারণ হলেও আরও অনেক কারণ রয়েছে। জ্বালাও, পোড়াও, হত্যা, ধ্বংসের অপরাজনীতি অনুসরণ করার ফলেও তাদের এই ভরাডুবি হয়েছে। এই নির্বাচনটা সবচেয়ে কম সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন, এই নির্বাচনটা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনটা সবচেয়ে বেশি উৎসব মুখর নির্বাচন।’ বিএনপির পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় হয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগের দরখাস্ত দিয়ে চলে যেতে পারতেন। আমার জানা মতে বিএনপির এজেন্টরা কোন লিখিত অভিযোগপত্র দেননি। এই অভিযোগটা প্রত্যাখ্যান করছি। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এজেন্ট দিতে পারেননি।’ হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশ আমরা দেখেছি, সেখানে মুসলিম লীগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা পক্ষ ত্যাগ করে এবং জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের কর্মীদের সঙ্গে মিলেমিলে নৌকার বিজয় ও বিপ্লব এনে দেয়। ১৯৭০ এর নির্বাচনে যেভাবে মুসলিম লীগের যুগের যেভাবে অবসান ঘটিয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেভাবে ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সামরিক শাসন মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক বাহক বিএনপি-জামাত যুগের অবসানে সূচনা ঘটাল বা বিএনপি-জামাতের রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা বাজাল। বিএনপি জামাত যখনই পরাজিত হয় তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৯৬ সালে ও ২০০৮ সালেও তারা এই দাবি করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক বদ অভ্যাস। এই বদ অভ্যাসের সূত্র ধরে তারা আগামীতে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করবে’ বলেন তথ্যমন্ত্রী। দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি পুনঃনির্বাচনের দাবির মধ্য দিয়ে একটা ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করল, যা অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’ বিএনপি রাজনৈতিক বদ অভ্যাস পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরত আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাসানুল হক ইনু। নতুন বছরে টেলিভিশনের সাংবাদিকের জন্য কোন সুখবর আছে কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে ওয়েজবোর্ড গঠন করেছিলাম তাদের যে রিপোর্ট এসেছে যেটা মন্ত্রিসভায় গেছে। মন্ত্রীদের নিয়ে যে উপকমিটি হয়েছে ভোটের আগে সেই কমিটির একটি সভা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় সেই সাব-কমিটি কাজ করবে। রিপোর্টে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য ওয়েজবোর্ড দিতে হবে বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আছে। সুতরাং ওটা দেয়ার জন্য প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজটা সম্পন্ন হলে নতুন সরকার এবং তথ্য মন্ত্রণালয় এটা সম্পন্ন করবে। সুতরাং নতুন বছরে আমি আশা করছি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের জন্য নতুন ওয়েজবোর্ড হবে।’##
পড়া হয়েছে 270 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 01 জানুয়ারী 2019 18:47