10212021বৃহঃ
শিরোনাম:
শুক্রবার, 10 সেপ্টেম্বর 2021 17:39

কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের ভীড়

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: কুয়াকাটা। দেশের একটা আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটন কেন্দ্রে আসা পর্যটকরা নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড়ে মেতে আছেন। কুয়াকাটার দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত যেন আগের অবস্থায় ফিরেছে। লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, রাখাইনদের তাঁত পল্লীসহ পর্যটন স্পটগুলোতে হাজারো পর্যটকদের পদভারে এখন মুখরিত। তবে এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউই। পরছেন না কেউ মাক্স। সরজমিনে দেখা যায়, পাখির কলতানে মুখরিত সবুজ প্রকৃতি সাথে বালুকাবেলায় লাল কাকড়ার ঝাঁক। তাদের অবাধ বিচরণে সৈকতে ফুটে উঠেছে আল্পনা। ঝিনুকের সারি ও প্রকৃতির নিজস্ব খেয়ালে সৃষ্টি বিভিন্ন গুল্মলতা নতুন রূপ দিয়েছে সাগর কন্যা কুয়াকাটাকে। কেউ ঘোড়ায় চড়ছে, কেউ সৈকতে সাগরের ঢেউয়ে সাথে গোসল করছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ বা আবার গা এলিয়ে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এমন দৃশ্য আবার নিজ নিজ হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে সেলফি তুলে ধারন করছেন অনেকে। এর ফলে পর্যটকের এমন ভিড়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ফিরে পেয়েছেন প্রাণ চাঞ্চল্য। পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা। এ প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে দেশী বিদেশী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট বড় পর্যটন স্পট। কিন্তু ঊর্ধ্বগামী পর্যটন শিল্পের বিকাশে থাবা বসিয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস। এতে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত উঠেছে। সেই সাথে পর্যটনমুখী সংশ্লিষ্টদের জীবন জীবিকা পড়ে হুমকির মুখে। এদিকে হোটেল-মোটেল রিসোর্টসহ সকল বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা ফিরে এসেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। এখন তারা আবার নতুন করে দেখছে আশার আলো। খুলনা থেকে আগত পর্যটক দম্পতি নুরু আলম ও জিনিয়া আক্তার সাথী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিলাম। শুক্রবার সকালে কুয়াকাটায় এসে পৌঁছেছি। আরো একদিন থাকবো এখানে। এখানকার নির্মল বাতাস, সাগরের ছোট ছোট ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোলোভা দৃশ্য যেন যে কেউকে বিমোহিত করে। ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, ভাবতেও পারেনি দেশের এরকম পরিস্থিতিতে এত পর্যটকের আগমন ঘটবে। এসব পর্যটকদের সমুদ্র ঘুরে দেখার জন্য এখানে বেশ কয়েটি ট্যুরিস্ট বোট রয়েছে। তাই বোট মালিকরা ডিসকাউন্ট দিয়ে খুব কম খরচে ফাতরার বন ও চর বিজয় নিয়ে যাচ্ছে। আর পর্যটকরা অপরুপ দৃশ্য অবলোকন করছেন। হোটেল সমুদ্র বাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, তার হোটেলে ১৭টি রুম রয়েছে। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী মো. মোতালেব শরীফ বলেন, স্বাস্থবিধি মেনেই সকল হোটেল মোটেলে পর্যটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। আশা করছি শীতের মৌসুমে পর্যটকের বেড়ে যাবে। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারি পুলিশ সুপার মো.আব্দুল খালেক বলেন, শুক্রবার কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা সব সময়ই বেশি থাকে।
পড়া হয়েছে 29 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 10 সেপ্টেম্বর 2021 17:55