06042020বৃহঃ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (940)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সে জন্য এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে না। ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি। ভবিষ্যৎতো আমি ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সেই কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করবো না। আমরা দেখি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যায়ক্রমে আমরা তখন উন্মুক্ত করবো। রোববার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের ফল ঘোষণা শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নেতৃত্বে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফেসবুক লাইভে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে আমরা ধাপে ধাপে এগুতে চাচ্ছি। অফিস সীমিত আকারে ‍খুলে দেওয়া হয়েছে, গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনই উন্মুক্ত করব না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে। আমার বিশ্বাস, এই করোনাভাইরাসের আঘাত থেকে শিগগিরই বিশ্ব মুক্তি পাবে, বাংলাদেশও মুক্তি পাবে। যেকোনো সংকটে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। নিজের আত্মবিশ্বাসটাই বড়। মনে রাখতে হবে, আমরা বিজয়ী জাতি। করোনাভাইরাসসহ যেকোনো দুর্যোগে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। যেকোনো ঝড়-ঝাপ্টা আসুক, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমরা মোকাবিলা করব। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটাব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো সবাই যেন ঘরে বসে পড়াশোনা করে। এটা একটা পড়াশোনার ভালো সুযোগও। আমরা নিজেরাও, এখন বেশি কাজ নেই- অনেক কিছু জানার, পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। সেটাও কম কথা না। এখানে আমি বলবো সবাই মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করবো তারা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। শিক্ষকদের বলবো তাদের সেই শিক্ষাই দেবেন এই শিক্ষাটা হচ্ছে শুধু নিজে ভালো থাকা না, দেশের কল্যাণে কাজ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। যেটা জাতির পিতা আমাদের বার বার শিখিয়েছেন। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৯ জন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: ঢাকার গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত রোগীদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিহতদের একজন ৪৫ বছর বয়সী রিয়াজুল আলম, যাকে গতকালই বিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল সামান্য শ্বাসকষ্টের কারণে। ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পরই আগুন লাগার কারণে চিরবিদায় নিতে হয়েছে তাকে। তার স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জেনি বলছেন তার স্বামী একদম সুস্থ মানুষ ছিলেন। "একটু শ্বাসকষ্ট ছিলো কিন্তু লাইফ সাপোর্টে ছিল না। অক্সিজেন দিয়েছিল একদম সুস্থ মানুষ"। তিনি বলেন তার মতামত নিয়েই তাকে আইসোলেশনে নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। "কিন্তু এমন করে একটা মানুষ পুড়ে মারা যাবে? তারা কিছুই করতে পারলো না? এতটুকু করোনা ইউনিট থেকে দু চার জনকে বের করতে পারলো না? অবশ্যই অবহেলা ছিলো। আমার হাজব্যন্ডকে মেরে ফেলা হয়েছে। পুড়ে যাওয়ার পর বলল লাইফ সাপোর্টে ছিল। কিন্তু আমার হাজব্যান্ড একদম নরমাল, হেঁটে গেছে"।বিবিসি বাংলা। বুধবার রাতের এ অগ্নিকাণ্ডে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটের পাঁচজনই আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত শয্যায় ছিলেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। যদিও নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনেরই পরীক্ষার ফল করোনা নেগেটিভ ছিল। তবে করোনা সন্দেহভাজন হওয়ায় তাদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল। ফৌজিয়া আক্তার বলছেন হাসপাতাল বলেছে তাদের একটাই বেড আছে এবং ভর্তি হতে হলে সেটায় হতে হবে বন্ড সই দিয়ে। "উপায় না পেয়ে আমরা সেখানে ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু তার সামান্য শ্বাসকষ্ট ছাড়া আর কোনো সমস্যাই ছিল না"। নিহতদের মধ্যে আরেকজন ছিলেন সত্তর বছর বয়সী খোদেজা বেগম। তার সন্তান মোহাম্মদ আলমগীর বলছেন তার মাও করোনা নেগেটিভ ছিলেন। তিনি বলেন, "হাসপাতালের ওরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেনি। বলেছে আইসোলেশন। আসলে মিথ্যা কথা। অক্সিজেন দিয়ে রেখে দেয়। ক্লিনারের মতো নিচু (পদের) কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করায়"। আর নিহতদের আরেকজন চুয়াত্তর বছর বয়সী ভেরুন এন্থনি পলকে গত সোমবার ওই হাসপাতালে নেয়া হলেও দু বার পরীক্ষায় তিনি ছিলেন করোনা নেগেটিভ। তার সন্তান আন্দ্রে এন্থনি পল বলছেন যেহেতু জ্বর ছিলো সে কারণে নিয়মানুযায়ী আইসোলেশনে রাখা হয়েছিলো কিন্তু সেখানে অগ্নি নির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। "বাবার কেয়ার নিছে। কিন্তু সেখানে কোনো ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা ছিল না। বাথরুমের ব্রাশ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে।" যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে যেখানে আগুন লেগেছে সেখানে তারা পৃথকভাবে অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করেছিলেন করোনা রোগীদের জন্য। পাঁচটিই বেড ছিলো সেখানে আইসিইউ সুবিধাসহ। তবে রোগীদের জন্য রাখা হাসপাতালের নিয়মমাফিক সেখানে অক্সিজেন ও স্যানিটাইজারের মতো রাসায়নিক ছিল এবং পাশাপাশি নির্মাণ কাঠামোতেও পারটেক্সের মতো দাহ্য বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সাথে কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। ফলে পুরো জায়গাটিই হয়ে উঠেছিল উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সকালে আগুন লাগার জায়গাটি দেখার পর সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামও। তবে হাসপাতালের কমিউনিকেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা: সাগুফা আনোয়ার বিকেলে এক ব্রিফিং-এ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন তারা দরকারি সব ব্যবস্থাই নিয়ে রেখেছিলেন। এদিকে, বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে থাকা পাঁচজন রোগীর সবাই আগুনে নিহত হবার পর তাদের মৃতদেহ আজই স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি ও গুলশান থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের সিআইডি ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আরও আক্রান্ত হয়েছে ২০২৯ জন এবং মারা গেছে ১৫ জন। দেশে এই পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ৫৫৯ জন। আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৯ জন। এটি একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বর্তমানে এ ভাইরাসে শনাক্ত ৪০ হাজার ৩২১ জন রোগী রয়েছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪২৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন সুস্থ হয়েছে ৫০০ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৪৮৮ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৫৪১ জন। আজ আক্রান্তে হার ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বলে তিনি জানান। নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ২৬৭টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৪৩টি।আগের দিনের চেয়ে আজ ১ হাজার ৪২৪টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুনভাবে সিরাজগঞ্জের এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজসহ ৪৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৩১০টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৮ হাজার ১৫টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ২৯৫টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৬টি। তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী ১৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ জন ও নারী ৪ জন। বিভাগ বিশ্লেষণে ৭ জন ঢাকার এবং ৮ জন চট্টগ্রামের। বয়স বিশ্লেষণে ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন। এলাকাভিত্তিক হিসাবে ঢাকা সিটিতে ৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন, চট্টগ্রাম সিটিতে ২ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ২ জন, কক্সবাজারে ২ জন এবং কুমিল্লায় ২ জনসহ মোট ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ২৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৯৮৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩৮ জন। এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৭০০ শয্যা। ঢাকার ভেতরে রয়েছে ৭ হাজার ২৫০টি। ঢাকা সিটির বাইরে ৬ হাজার ৩৪টি শয্যা রয়েছে। আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ৩৯৯টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০৬টি। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪ হাজার ১ জন। ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৪ জন। মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ২৯৩ জন। মোট কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ১০৫ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩৭টি। ২৪ ঘন্টায় বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৬শ’টি এবং এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৯২৪টি। বর্তমানে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮০৩টি পিপিই মজুদ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৮টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৬টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২০১ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১৪ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ১৬৯ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৫০ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫২৩ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২১৯ জন এবং এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৫৯ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩১৪ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৫৮১-জন এবং এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫ জন। আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: ব্রিটেন ও আমেরিকায় বেশ কিছু শিশু বিরল এক প্রদাহজনিত রোগের শিকার হয়েছে যার সঙ্গে করোনাভাইরাসের যোগাযোগ আছে। মুষ্টিমেয় কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এটা নানাধরনের জটিলতা সৃষ্টি করেছে এবং কাউকে কাউকে ইনটেনসিভ কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হয়েছে। ব্রিটেনে আক্রান্ত হয়েছে একশয়ের মত শিশু। জানা গেছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও শিশুদের মধ্যে একইধরনের উপসর্গ দেখা গেছে। বিবিসি বাংলা। ভাইরাস আক্রমণের পর একটু দেরি করে শরীরের প্রতিরোধক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে সম্ভবত এই উপসর্গ দেখা গেছে। এটা খুবই বিরল একটি রোগ যার নাম কাওয়াসাকি ডিজিজ শক সিনড্রম। শরীরে আকস্মিক একটা আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় এই উপসর্গ। এ্রপ্রিল মাসে ব্রিটিশ ডাক্তারদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল যে শিশুদের মধ্যে বিরল ও বিপদজনক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এরপর লন্ডনে আটজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে, এর মধ্যে ১৪ বছর বয়স্ক একজন মারাও গেছে । 'সংক্রমণের নতুন ধারা' এই শিশুরা সবাই একইধরনের উপসর্গ নিয়ে লন্ডনের এভেলিনা লন্ডন চিলড্রেনস হসপিটালে ভর্তি হয়। এদের সকলেরই খুব বেশি জ্বর, র‍্যাশ, লাল চোখ, শরীর ফুলে যাওয়া এবং ব্যথার উপসর্গ ছিল। কাওয়াসাকি উপসর্গের সাথে মিল রয়েছে নতুন এই উপসর্গের যা দেখা যায় মূলত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এদের বেশিরভাগেরই কারোর ফুসফুস বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা ছিল না। তারপরেও এদের মধ্যে সাতজনকে ভেন্টিলেটারে দেয়া হয় তাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্ত সঞ্চালন সমস্যায় সাহায্য করার জন্য। চিকিৎসকরা এটাকে বর্ণনা করছেন "সংক্রমণের নতুন একটা ধারা" বলে যার সঙ্গে মিল আছে কাওয়াসাকি শক সিনড্রমের। এই প্রতিক্রিয়া একটা বিরল রোগ উপসর্গ, যা প্রধানত দেখা যায় পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে র‍্যাশ, ঘাড়ের গ্রন্থিগুলো ফুলে ওঠা এবং ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া। তবে এই নতুন উপসর্গ দেখা গেছে শিশু থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বয়সীদের ক্ষেত্রেও। এদের মধ্যে অনেকের কঠিন জটিলতা তৈরি হয়েছে। লন্ডনের প্রথম সারির কলেজ ইম্পিরিয়াল কলেজে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগের ড. লিজ হুইটেকার বলছেন এই মহামারির মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দেয়ার কারণে তারা মনে করছেন করোনাভাইরাসের সাথে এর যোগাযোগ রয়েছে। "কোভিড-১৯ এখন এখানে সংক্রমণের চূড়ায় পৌঁছেছে এবং এর তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন সংক্রমণের প্রক্রিয়াও একটা চূড়ায় পৌঁছেছে। আর সে কারণেই আমরা মনে করছি এটা সংক্রমণ পরবর্তী নতুন উপসর্গের একটা প্রক্রিয়া," বলেন ড. হুইটেকার। এর অর্থ হল সংক্রমণের পরই শরীরে নতুন অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে এর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 'খুবই ব্যতিক্রমী ও বিরল' শিশু রোগ ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক রয়াল কলেজের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রাসেল ভাইনার বলছেন যেসব শিশু এই রোগের শিকার হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছে এবং তারা ভাল হয়ে উঠছে ও বাড়ি ফিরে যেতে শুরু করেছে। কোভিড ১৯এ আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এখনও পর্যন্ত খুবই কম তিনি বলেছেন, এই উপসর্গগুলো "ব্যতিক্রমী ও বিরল"। "তবে বাবা মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের বাচ্চাদের লকডাউন থেকে বেরন যেন এর জন্য বন্ধ করে না দেন," যোগ করেছেন অধ্যাপক ভাইনার। তিনি বলেছেন এই রোগ উপসর্গ সম্পর্কে আমাদের আরও জানাটা জরুরি। "আমাদের বুঝতে হবে কোভিড ১৯এ কেন কিছু শিশু খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ছে আবার বেশিরভাগ শিশুর সংক্রমণ হচ্ছে না অথবা অনেকের মধ্যে জীবাণু থাকলেও তাদের কোন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না।" যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমিতদের মধ্যে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ শিশু। ইম্পিরিয়াল কলেজেরই আরেকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন যেসব শিশুদের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই নেগেটিভ ফল এসেছে, কিন্তু অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় তাদের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা সন্দেহ করছেন ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শরীরে যে অস্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে তার থেকে এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তিনি বলছেন এই রোগের ধরন থেকে যেটা বোঝা যাচ্ছে যে কোনভাবে এই ভাইরাস শিশুদের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার জন্য একটা আকস্মিক আঘাত তৈরি করতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। কারণ নতুন এই উপসর্গের কথা জানা গেছে মাত্র দু তিন সপ্তাহ আগে। অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি কী? শিশুদের মধ্যে একইধরনের উপসর্গ দেখো গেছে আমেরিকা, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে। নিউ ইয়র্কের গর্ভনর অ্যান্ড্রু কুয়োমো বলছেন আমেরিকার অন্তত ১৫টি রাজ্যে শিশুদের এই রোগ উপসর্গ দেখা গেছে। নিউ ইয়র্কে এই ধরনের প্রদাহজনিত উপসর্গ নিয়ে আসা ৮২ জন শিশুর কোভিড ১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ জন হয় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে নয় তাদের শরীরে কোভিড ১৯এর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা সিডিসি এ ব্যাপারে সতর্কতা জারি করতে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্কে নতুন উপসর্গে আক্রান্ত ৮২ জন শিশুকে পরীক্ষা করে ৫৩ জন হয় পজিটিভ এসেছে নয় তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। উত্তর ইতালিতে যে শহর প্রাদুর্ভাবের হটস্পট ছিল সেই বার্গমোতে আক্রান্ত হয়েছে ১০জন শিশু সাত বছরের কমবয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর উপসর্গ দেখা গেছে যেমন হৃদযন্ত্রের জটিলতা এবং শক থেকে তৈরি বিষক্রিয়ার লক্ষণ। বারগামোর একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বলছেন যদিও এটা খুবই বিরল এবং স্বল্প সংখ্যক শিশুকে আক্রান্ত করেছে, কিন্তু আমাদের গবেষণায় আমরা জানার চেষ্টা করছি এই ভাইরাস শিশুদের কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ব্রিটেনের শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই শকের প্রতিক্রিয়া শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমিত থাকতে পারে না কি প্রাপ্তবয়স্করাও এই বিরল রোগের শিকার হতে পারে তা জানা দরকার। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে গবেষণার কাজ চলছে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন, তা আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা— এ ভাবেই তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমএসএম-ইর ক্ষেত্রে যে টাকা দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নয়, অভিযোগ মমতার। সাধারণ মানুষের সুরাহা দিতে কিছুই করা হয়নি, করোনার জন্য কোনও অনুদানও নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আনন্দবাজার পত্রিকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য: • • কোনও ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে না • মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগালে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে হবে • এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করবে • ১০ একর থেকে ২০ একর পতিত জমি ও সরকারি জমি যুক্ত করে সমবায়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করা হবে • ‘মাটির সৃষ্টি’ নামে নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে • অমিতদা যেটাকে ২ শতাংশ বলছেন আমি সেটাকে একটু শুধরে নিচ্ছি। রাজ্যগুলিকে কিছু দেয় নি • পাবলিক স্পেনডিং, বিভিন্ন কাজে কোনও টাকা বরাদ্দ করা হয়নি • কোভিড মোকাবিলায় স্পেশ্যাল প্যাকেজ নেই • এমএসএমই-র জন্য কোনও টাকা নেই • মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে এই ২০ লাখ টাকার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে • কৃষকদের ঋণ ছাড়ের ঘোষণা নেই, কিছু দেওয়া হয়নি • একে তো কিছু দেওয়া হয়নি , তার উপর বিভ্রান্তি মূল কথা • একটা পয়সা দেওয়া হল না, রাজ্যগুলো চলবে কি করে? অমিত মিত্রের বক্তব্য: • গতকাল যে ২০ লক্ষ কোটির প্যাকেজ বলা হয়েছিল তার সত্যতা কোথায়? • রিজার্ভ ব্যঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ৮ লাখ কোটি দিয়েছে • ওই টাকা ২০ লাখ কোটির মধ্যে লুকিয়ে আছে • অর্থমন্ত্রী ১.৭ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন • তাহলে দেখা যাচ্ছে ১০ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ • ২০ লাখ কোটির মধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছে। • এই ১০ লাখ কোটির মধ্যেও সরকার ঋণ নিতে পারবে ৪.২ কোটি টাকা • এটা কার্যত বিভ্রান্তিমূলক • প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের সামনে ২০ লাখ কোটি টাকার কথা ঘোষণা করলেন। আসল প্যাকেজ জিডিপির ২ শতাংশ মাত্র।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য আশংকা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সম্ভবত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাথে সীমিত যোগাযোগ রাখবেন। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মাস্ক পরা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রেস সেক্রেটারি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনিও কোয়ারেনটিনে আছেন বলে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে পেন্সের মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমের এ খবর অস্বীকার করে বলেছে, পেন্স কোয়ারেনটিনে নেই। ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পেন্সের সাথে যোগাযোগ সীমিত রাখার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানান। এদিকে করোনা মোকাবেলায় গঠিত টাস্ক ফোর্সের তিন সদস্য সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ এন্থনি ফুসি, সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড এবং ফুড এন্ড ড্রাগ প্রশাসনের প্রধান স্টিফেন হান কোয়ারেনটিনে রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশকে সক্রিয় রাখতে চাই। ফলে হোয়াইট হাউসে অনেক লোক আসছে- যাচ্ছে। এদের অধিকাংশই পরীক্ষিত। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যারাই আসছে তাদেরই পরীক্ষা করানো হচ্ছে। তাই আমি কোন ঝুঁকি মনে করছি না। এদিকে নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প দেশের অর্থনীতি সচল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, দেশ পুনরায় সচল করা জরুরি। জনগণ চায় দেশ খুলে দেয়া হোক। কারণ লকডাউনেও তারা মরছে। এদিকে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং এ প্রেসিডেন্ট ও তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কার্যালয়, প্রেস ব্রিফিং রুম এবং হোয়াইট হাউসের করোসপন্ডেন্টদের ডেস্ক রয়েছে যেখানে খুব কাছাকাছি বসে সকলে কাজ করে। এ প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট সিবিএসকে বলেন, সেখানে কাজে যাওয়াটা ভয়ের। সিএনএনকে তিনি বলেন, বিশ্বের যতো পরীক্ষা নিরীক্ষা আর পৃথিবী সেরা মেডিক্যাল টিম থাকুক ওয়েস্ট উইংয়ে কাজে যাওয়ার চেয়ে আমি আমার ঘরেই নিরাপদ থাকবো। কারণ ওয়েস্ট উইং ঘিঞ্জি জায়গা। এদিকে সোমবার ওয়েস্ট উইংয়ে সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে মেমো ইস্যু করা হয়েছে। অথচ ৭৩ বছর বয়সী ট্রাম্পকেই মাস্ক পরতে দেখা যায় না।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃতীয় দফায় চিকিত্সা সহায়তা দিয়েছে ভারত। বুধবার ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ আরটি-পিসিআর কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার তৃতীয় চালান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেন। এই কিটের সাহায্যে ৩০ হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। গতকাল ভারতীয় হাইকমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। হাইকমিশনার জানান, এই আরটি-পিসিআর শনাক্তকরণ কিটগুলো ভারতের ‘মাই ল্যাব ডিসকভারি সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড’ দ্বারা উত্পাদিত এবং কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য ভারতে বহুল ব্যবহূত। বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই শনাক্তকরণ কিট প্রাপ্ত প্রথম অংশীদার দেশ। যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি ভারতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতির অংশ হিসেবে এবং কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে একটি সহযোগিতামূলক আঞ্চলিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যে ১৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্ক নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও সম্মেলন করেছিলেন। এরপর গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপে নরেন্দ্র মোদি কোভিড-১৯ এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে এই মহামারির প্রভাব হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যকার কালোত্তীর্ণ বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, এই কিটগুলো বাংলাদেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে, যা এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিলের আওতায় কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাত্ক্ষণিক ব্যবহার উপযোগী এই পরীক্ষার কিটগুলো বাংলাদেশকে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষার কিটগুলো বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার কিটগুলো প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় সংরক্ষিত অবস্থায় ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সোমবার জানিয়েছে, চীনের একটি ল্যাব থেকে মহামারি করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ‘কল্পনাভিত্তিক’ দাবির পক্ষে ওয়াশিংটন কোন প্রমাণ দেয়নি। ডব্লিউএইচও’র জরুরি বিভাগের পরিচালক মিশেল রিয়ান এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কোভিড-১৯ ভাইরাসের উৎপত্তি সংক্রান্ত দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ আমরা কোন উপাত্ত বা সুনির্দিষ্ট কোন প্রমাণ পায়নি। সুতরাং, আমাদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, এ দাবি শুধুই কল্পনাপ্রসূত।’ বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস বন্যপ্রাণী থেকে মানব দেহে প্রবেশ করেছে। গত বছরের শেষের দিকে চীনে প্রথম এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দেশটির উহান নগরীর বন্যপ্রাণীর মাংসের একটি বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, উহানের একটি ল্যাবরেটরি থেকে এ ভাইরাসের সূত্রপাত ঘটে এমন প্রমাণ রয়েছে। ট্রাম্প এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবেলায় চীনের প্রথম দিকের ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে। তবে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখান করেছে। রিয়ান বলেন, এ ভাইরাসের উৎপত্তির ক্ষেত্রে যুক্তি সঙ্গত যেকোন প্রমাণ গ্রহণে আমরা আগ্রহী রয়েছি। তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলে আসছে বন্যপ্রাণী থেকেই এ প্রাণঘাতি ভাইরাসের উৎপত্তি ঘটেছে। ভাইরাসটির ভয়াবহতার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সচেনতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং এক্ষেত্রে চীনের পক্ষে কাজ করায় যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এ সংস্থাকে দায়ী করে এর কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। প্রায় মাসখানেক যমে-মানুষের টানাটানি শেষে যুদ্ধে জয়ী হয়ে নিজের গদিতে বসেছেন তিনি। এবার জানালেন নিজের করোনাযুদ্ধের ভয়াবহ সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা। বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। রোববার দ্য সানকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বীকার করব না এটা কঠিন স্মৃতি। চিকিৎসকরা আমার মৃত্যু ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সদ্য বাবা হওয়া বরিস জানান, আইসিইউতে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চিকিৎসকেরা ‘লিটার-লিটার’অক্সিজেন দেন। আমার শ্বাসনালী দিয়ে টিউব প্রবেশ করানোর সময় বাঁচার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি চলে আসে। হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে গত বুধবার ছেলে সন্তানের মুখ দেখেন বরিস। ছেলের নাম রেখেছেন উইলফ্রেড ল্যারি নিকোলাস জনসন। এত বড় নামের পিছনে কিন্তু ইতিহাস আছে। পরিবার সূত্রে খবর, এই শিশুর নামের মধ্যেই রয়েছেন সেই দুই চিকিৎসক, যাঁরা প্রাণপণ লড়াই করে বরিস জনসনকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। নিকোলাস রেখেছেন ড. নিক প্রাইস এবং ড. নিক হার্টের নামানুসারে, যারা গত মাসে তার ‘জীবন রক্ষা করেছেন’। বরিস গত ২৭ মার্চ করোনা পজিটিভ হন। এর ১০ দিন পর জ্বর, কাশিসহ উপসর্গগুলো না কমায় তাকে সেন্ট্রাল লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। নিতে হয় আইসিইউতে। কয়েক দিনের লড়াই শেষে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন তিনি।
শনিবার, 02 মে 2020 12:52

২০ দিন পর জনসম্মুখে কিম

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুঞ্জনে কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম সরগরম। তবে তার মৃত্যুর গুজব নাকচ করে সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ১১ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে এসেছেন তিনি। কেসিএনএ নিউজ এজেন্সি বলছে, শুক্রবার তিনি একটি সার কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পরে এ অনুষ্ঠানের ছবিও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সবশেষ জনসম্মুখে আসার ২০ দিন পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কিমের প্রকাশ্যে আসার খবর দেওয়া হলো। খবর বিবিসির ১৫ এপ্রিল দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও তার দাদা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনে তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। এরপরই নানা জল্পনা ছড়িয় পড়ে। কিম জং উনকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১১ এপ্রিল দলের পলিটব্যুরোর এক মিটিংয়ে। জাপানি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, হার্টের অপারেশনের পর তিনি ‘অচেতন’ হয়ে গেছেন। হংকংয়ের একটি টেলিভিশনের দাবি করে, তিনি আসলে মারাই গেছেন। কেসিএনএ নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, শুক্রবার একটি সার কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার এই নেতা। সে সময় তাকে দেখে সমবেতরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। পরে কিম ফিতা কেটে ওই কারখানার উদ্বোধন করেন। এর আগে সোমবারও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উন উনসান এলাকায় টুরিস্ট রিসোর্ট তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা