08112022বৃহঃ
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (1159)

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী ও মহিয়সী নারী বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচ জন বিশিষ্ট নারীকে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২’ প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পদক বিতরন অনুষ্টানে যোগ দেন। সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক আয়োজিত বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিল। যে পাঁচ বিশিষ্ট নারী ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২’ পেয়েছেন তাঁরা হলেন, ‘রাজনীতি’র ক্ষেত্রে সৈয়দা জেবুন্নেছা হক (সিলেট), অর্থনীতিতে সেলিমা আহমাদ এমপি (কুমিল্লা), শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, সমাজসেবা ক্ষেত্রে মোছা. আছিয়া আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য (মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার)। বঙ্গমাতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করার লক্ষে প্রতি-বছর আটটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত সর্বোচ্চ জাতীয় পদক ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ পদক ২০২১ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা পদক প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৪০ গ্রাম ওজনের পদক, সম্মাননাপত্র এবং ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বঙ্গমাতার জীবনীর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল স্বাগত বক্তৃতা করেন। পদক বিজয়ীদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন সৈয়দা জেবুন্নেছা হক। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর লেখা ‘শেখ ফজিলাতুন নেছা আমার মা' শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি ঢাকায় কর্মজীবী নারীদের জন্য ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ অত্যাধুনিক ১০ তলা হোষ্টেলও উদ্বোধন করেন। বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ২৫০০ অসচ্ছল নারীর মাঝে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুরু করলেও যুগপৎ সারাদেশেই এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রত্যেক নারী পাচ্ছেন ২০০০ টাকা। মোট অর্থের মধ্যে ১৩ লাখ টাকা বন্যা কবলিত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার নারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে সারাদেশে দুস্থ নারীদের মধ্যে মোট সাড়ে চার হাজার সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবনী ভিত্তিক প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত অত্যাধুনিক কর্মজীবী মহিলা হোষ্টেলের বিষয়েও একটি তথ্য চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। পরে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে ‘বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের নেপথ্যের সংগঠক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি আগামীকাল সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায়, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার এডিটর ইনচার্জ মাসুদা ভাট্টি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুর রহমান। সঞ্চলনা করবেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর পৈতৃক বাড়ি দেখতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার পথে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে পদ্মা সেতুতে কিছু সময় কাটিয়েছেন। গত ২৫ জুন যান-চলাচলের জন্য উদ্বোধনের পর সোমবার সকালে প্রথমবার পদ্মা সেতু পার হয়ে পৈতৃক বাড়ি যাওয়ার পথে তারা সেতুর ওপর কয়েকটি ছবি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি (সেলফি) পোস্ট করেন। ছবিটি অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেছেন। সেলফিতে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে জয় ও মেয়ে পুতুলকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে তাদের যাত্রা উপভোগ করতে দেখা যায়। তারা জাঞ্জিরা পয়েন্টের সার্ভিস এলাকায় কিছুক্ষণ বিশ্রামও নেন। গত ২৫ জুন উদ্বোধনের সময শেখ হাসিনা দেশের দীর্ঘতম স্থাপনা পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দেন। আজও সেতু পারাপারের সময় তিনি টোল দেন। প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পরে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত স্বাধীনতার স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নীরতা পালন করেন। শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা পৌঁছান।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: গ্রিসে বিশেষ প্রদর্শনীতে দেখানো হবে দেশের জনপ্রিয় ডকুড্রামা ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’। রোববার (৩ জুলাই) অ্যাথেন্সের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে মাল্টি কালচারাল লাইব্রেরি ‘উই নিড বুকস’- এ এই বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ‘উই নিড বুকস’-এর আয়োজনে এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর সহায়তায় আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ‘উই নিড বুকস’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লেখে, "হাসিনা: এ ডটারস টেল’ মোটেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তৈরি কোন ডকুমেন্টারি নয়। বরং এটি বঙ্গবন্ধু কন্যাদের গল্প বলেছে। এই ডকুড্রামাটি তার শিরোনামের মতই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক আবহ তৈরি করে। যা বর্ণনা করে দেশটির (বাংলাদেশের) অন্ধকার একদিন কিভাবে দুই কন্যার জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন। প্রযোজক হচ্ছেন- রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু। পরিচালনা করেছেন অ্যাপল বক্স ফিল্মসের পিপলু খান। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল আছে সবার। তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর কিভাবে তিনি বেঁচে ছিলেন তার ইতিহাস অনেকের কাছেই অজানা। আর সে কারণেই সারা দেশে এই ডকুড্রামা সারা ফেলেছে। দেশে ও বিদেশে এখনো ডকুড্রামাটির চাহিদা রয়েছে বলে জানান- এর পরিবেশক গাউসুল আজম শাওন। 'ডকুড্রামায় একজন শেখ হাসিনার রান্না ঘর থেকে শুরু করে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন, বেঁচে থাকার সংগ্রামসহ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে।'- কথাগুলো বলেন ডকুড্রামাটির পরিচালক পিপলু খান। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার জীবনের কথাও উঠে এসেছে এতে। এই ডকুড্রামার মধ্য দিয়ে একটি সত্যনিষ্ঠ জীবনপ্রবাহকে পর্দায় হাজির করতে চেয়েছি। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) প্রযোজিত ৭০ মিনিট দৈঘ্যের ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে পিপলু খানের সময় লেগেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর ছবিটি মুক্তির পরেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়েছে।
মঙ্গলবার, 28 জুন 2022 15:17

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পদ্মা সেতু

লিখেছেন
ইয়াকুব আলী: পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এপি, এএফপি, আল জাজিরা, বিবিসি বাংলাসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের মূলধারার গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তাল পদ্মা নদীর উপর একটি যুগান্তকারী সেতু উদ্বোধন করেছেন যা দেশের অনুন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে সংযুক্ত করবে। এ যাবৎ বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু যা ‘জাতীয় গৌরবের প্রতীক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটি বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোর একটি এবং নিজ তহবিল থেকে বাংলাদেশ সরকার সেতু নির্মাণ ব্যয় বাবদ সমস্ত অর্থ যোগান দিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি থেকে নিজকে প্রত্যাহার করে নেয়। এডিবি ও জাইকাও সরে যায়। হাসিনা, যিনি সেতুটি নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর সরকার এ প্রকল্পে নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করবে। বহুপাক্ষিক দাতাদের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের বিপুলায়তনের অবকাঠামো নির্মাণের কোনো নজির না থাকায় তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং দেশের অর্থনীতিবিদদের সংশয়বাদের দিকে ঠেলে দেয়। ‘কেউ কেউ মনে করে আমরা তাদের মুখাপেক্ষী থাকব, কিন্তু জাতির পিতা আমাদেরকে আত্মমর্যাদার গুরুত্বের বিষয়টি শিখিয়েছেন।’ আল জাজিরার প্রতিবেদনে পদ্মাসেতুকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে প্রতি ২০ সেকেন্ডে যে পানি প্রবাহিত হয় তা ঢাকা শহরে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট পানির সমান। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের শিরোনাম করা হয়েছে: ‘এক দশক আগে বিশ্বব্যাংকের ছেড়ে যাওয়া সেতু উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ’। প্রকল্পটিকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অরূণ দেবনাথের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজ শুরু হওয়ার আট বছর পর, হাসিনা শনিবার পদ্মা নদীর উপর ছয় কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সেতুটির উদ্বোধন করেন। এটি ৮ কোটি মানুষকে যুক্ত করবে – যারা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক। আরো বলা হয়, পঞ্চাশ বছর আগে সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল দারিদ্র্যের সমার্থক। মাথাপিছু জিডিপি ও জেন্ডার ইকুইটির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বৃহৎ ও অপেক্ষাকৃত ধনী দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশীয় এই ক্ষুদ্র দেশটির এখন বন্দনা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। দেশটির জিডিপিতে সেতুটি ১ শতাংশের বেশি পয়েন্ট বৃদ্ধি করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। “যখন আমি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করি, তখন বাংলাদেশের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাদের ভুল প্রমাণ করেছি,” বুধবার রাজধানী ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন “দাতাদের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ কিছু করতে পারে না এমন ধারণা উবে গেছে।" বিবিসি বাংলা নিয়মিতভাবে পদ্মা সেতুর ওপর সংবাদ পরিবেশন করেছে। সেতুর বিভিন্ন দিক নিয়েই এসব রিপোর্টে আলোকপাত করা হয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকা (ভোয়া) এর খবরে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলি প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরে নিজস্ব অর্থায়নের সরকার সেতুটি নির্মাণ করে। কানাডার প্রসিকিউটররা শেষ পর্যন্ত কোম্পানির নির্বাহীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে যখন একটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে কিছু ওয়্যারটেপ প্রমাণ অগ্রহণযোগ্য বলে রায় দেয়। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করেছে ভয়েস অব আমেরিকা বলেছে, ‘‘পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে জনসমক্ষে বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাসহ সব দাতাগোষ্ঠীকে আমাদের দৃঢ় মনোবল দেখিয়ে দেওয়া গেল।’’ আনাম, যিনি হাসিনার কট্টর সমালোচক, লিখেছেন, বহু দেশ তাদের নিজের টাকায় সেতু বানায়। কিন্তু এই সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, কারণ এর মধ্য দিয়ে দান-খয়রাতের ওপর নির্ভরশীলতার যে ভাবমূর্তি আমাদের ছিল তা চিরতরে মুছে গেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সেতুটি দেশের দারিদ্র্য-পীড়িত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরাসরি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে দলের রাজনৈতিক সমর্থন বেশি। পদ্মা সেতু এ এলাকার মানুষের ভ্রমন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। সেতুটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড তৈরি করেছে এবং বেইজিং এটিকে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখে। চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এটিকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করেছে, যা বাংলাদেশ সরকার এই সপ্তাহের শুরুতে খারিজ করে দিয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার শক্তিশালী রিজার্ভের কারণে চাঙা বাংলাদেশ সরকার এর আগে সেতু নির্মাণে চীনের ঋণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। এপির প্রতিবেদনে ঢাকা থেকে জুলহাস আলম লিখেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড অবকাঠামো উদ্যোগের সরাসরি অংশ না হলেও, চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের বিবৃতির ভাষ্যমতে বেইজিং পদ্মা সেতুকে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসাবে দেখছে। চায়না রেলওয়ে গ্রুপ বলেছে যে, পদ্মা সেতুতে পরবর্তীতে একটি রেল নেটওয়ার্ক থাকবে যা অন্যান্য বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সাথে সংযোগ ঘটাবে এবং এটি চীন এবং প্যান-এশীয় রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করবে। এপির খবরে আরো বলা হয়, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন প্রতি বছর অতিরিক্ত ১.৩% বৃদ্ধি করবে। যা ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার জিডিপির বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৯% এবং ২০২২ সালে তা ৭.১% তে উন্নীত হবে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, সেতু নির্মাণে ৪,০০০ এরও বেশি প্রকৌশলী সম্পৃক্ত ছিলেন। নির্মাণে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল। পানির নিচের পাইলগুলো ১২২ মিটার (৪০০ফুট) গভীরে প্রোথিত- যা একটি বিশ্ব রেকর্ড। এছাড়া সেতুর জন্য পিলার লেগেছে ৪১ টি। পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগগুলি কানাডার অন্টারিওতে একটি সুপিরিয়র কোর্টে গিয়েছিল, যা ২০১৭ সালে সেতুর নির্মাণের সাথে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক ঘুষের মামলায় কানাডিয়ান সংস্থা এসএনসি-লাভালিনের তিনজন প্রাক্তন শীর্ষ নির্বাহীকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) পরিবেশিত বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট । এছাড়াও এপির খবর পরিবেশন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত দৈনিক খালিজ টাইমস। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দেশের দীর্ঘতম সেতুটি উদ্বোধন করেছেন। এটি রাজধানী ঢাকার সাথে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার মধ্যে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টও ‘বাংলাদেশ দীর্ঘ সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করতে যাচ্ছে’ শিরোনামে এপির রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে। আরব নিউজের শিরোনাম করা হয়েছে: ‘বাংলাদেশ ৩.৬ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছে’। শিহাব সুমন পরিবেশিত সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজের খবরে বলা হয়, ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু -যা নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে এবং যে নদীর নামে সেতুর নামকরণ করা হয়েছে - ঢাকাকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করেছে। রাজধানী এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার মধ্যে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমিয়ে দিয়েছে এই সেতু। ঢাকা-ভিত্তিক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরকে উদ্ধৃত করে বলা হয় যে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে যে যাত্রায় দুই থেকে তিন দিন লাগত তা এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা যেতে পারে। সেতুটি নির্মাণে আনুমানিক ৩.৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা সবই অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হয়েছে। ‘‘সেতুটি বাংলাদেশের জনগণের। এটি আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহস, আমাদের ধৈর্য এবং আমাদের অধ্যবসায়কে প্রমাণ করে,” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মাওয়ায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। কিছু সংখ্যক বিদেশি প্রকৌশলীসহ ১৪,০০০ এরও বেশি কর্মী এই প্রকল্পে কাজ করেছে। মনসুর আরব নিউজকে বলেছেন যে, সেতুটি বাংলাদেশের জন্য একটি "আইকনিক বিনিয়োগ" এবং এটি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছে। ২৫ জুন শনিবার পদ্মা নদীর উপর ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক-রেল সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরিপক্কতার গল্প হিসেবেই এসেছে। হার্ষিত সাবরওয়াল এর লেখা হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে। পদ্মা সেতুকে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প বলে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে পদ্মা সেতুর বিস্তারিত বিবরণ উপশিরোনামে উল্লেখ রয়েছে: সেতুটি ঢাকা ও ভারতের কলকাতার মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনবে। হিন্দুস্তান টাইমস স্থিরচিত্র ও গ্রাফিকস দিয়ে ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের চমৎকার একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। দি হিন্দু পত্রিকার কল্লোল ভট্টাচার্য রিপোর্টে বলা হয়, পদ্মা সেতু শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগকেই সাহায্য করবে না বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সরবরাহের উন্নতি ঘটাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন বলেছে, অবকাঠামো প্রকল্পটি হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে চিত্রিত করে এবং ভারত সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। সেতুটি ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ - নেপাল এবং ভুটানের সাথে দ্রুত পণ্য ও পণ্য পরিবহনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা হয় যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও মিস হাসিনাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, "ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সেতুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’’। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছেন মনোজিৎ মজুমদার। যোগাযোগ, ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে যে দুর্বার গতি আনবে সে বিষয়ে প্রতিবেদনটিতে আলোকপাত করা হয়েছে। নয়াদিল্লী ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া নিউজ এজেন্সি এএনআই পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে তার পারিবারিক সুনাম নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এশিয়ানা টাইমস এর সংবাদেও পদ্মাসেতু দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক কী প্রভাব ফেলবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনেক তাৎপর্য বহন করে কারণ প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পটি বিভিন্ন প্রকৌশল বিস্ময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ প্রত্যক্ষ করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিস্ময়কর কাঠামো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জ্ঞানের ব্যবহার করা হয়েছে সেতুতে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, "এই সেতুটি শুধু ইট, সিমেন্ট, লোহা এবং কংক্রিটের নয়... এই সেতুটি আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা, আমাদের শক্তি এবং আমাদের মর্যাদার প্রতীক। এই সেতুটি বাংলাদেশের জনগণের।’’ পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় এএফপি পরিবেশিত সংবাদে বাংলাদেশে সেতু উদ্বোধনের খবর দিয়ে নির্মাণকালে সামাজিক যোগাযোগ মা্ধ্যমে কি কি গুজব ছড়িয়েছিল তারও উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও, ৬.২ কিলোমিটার সড়ক ও রেল সংযোগ সেতুটিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়াদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে সেতু নির্মাণ চলাকালে প্রচুর রিপোর্ট করেছে সে বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান যে বাংলাদেশের সাফল্যকে এখনো বাঁকা চোখে দেখে এ বিষয়টি প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। উদ্বোধনের চমৎকার ছবি দিয়ে একই খবর প্রকাশ করেছে দুবাই ভিত্তিক গালফ নিউজ। ব্রুনাই দারুসসালামের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক বোর্নিও বুলেটিন পরিবেশিত খবরে দেখা যায় সেদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পদ্মাসেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টেলিভিশনে দেখার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা একত্রিত হয়েছে। কেক কেটে উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়। শিলং ভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দি মেঘালয়ান এ সেতু উদ্বোধনের খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দারুণ কভারেজ দিয়েছে। সেতু উদ্বোধনের দিনে পদ্মা ব্রিজ: আরও কাছাকাছি ঢাকা ও কোলকাতা আজ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা’ শিরোনামের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রচার করেছে। ‘জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়! পদ্মা সেতু উদ্বোধনে হাসিনার কণ্ঠে সুকান্ত’ শিরোনামে পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়: শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা গেল সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার লাইন। হাসিনা বলেন, ‘‘কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অনুযোগ নেই। আমরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশবাসীকে নিয়ে সব সমস্যা মোকাবিলা করে যাচ্ছি।’’ হাসিনা এর পর সুকান্তের কবিতাতে থেকে দুটি লাইন শোনান, ‘‘জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়। আমরা মাথা নোয়াইনি, আমরা মাথা নোয়াব না। জাতির পিতা আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি।’’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা থেকে বাসে ঢাকায় আসতে হলে কিছু দিন আগে পর্যন্ত পদ্মা পার হতে স্টিমারের প্রয়োজন হত। কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব অন্তত ৫০ শতাংশ কমে যাবে। আগে কলকাতা থেকে ঢাকা, ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগত ১০ ঘণ্টা। এখন তা মোটামুটি চার ঘণ্টায় হয়ে যাবে। আর রেলপথে পৌঁছতে সময় লাগবে মোটামুটি সাড়ে ছয় ঘণ্টা। পদ্মা সেতুর ফলে বঙ্গোপসাগর তীরের মংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব একশো কিলোমিটার কমে যাবে। সংশ্লিষ্ট বন্দর দুটিকে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুগম হবে। পদ্মা সেতু দুদেশের বাণিজ্যেও নতুন সেতুবন্ধন করবে। আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন পদ্মাসেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করেছে। ‘পদ্মা ব্রিজ: ১০০ টাকা থেকে ছ হাজার টাকা! পদ্মা সেতু পেরোতে খরচ করতে হবে কত?’ শিরোনামে ১৬ টি ছবির অসাধারণ একটি ফটোফিচার প্রকাশ করেছে। ফটোফিচারে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সব ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শেখ হাসিনা ভারত সফরে যেতে পারেন এই পদ্মা সেতু দিয়েই। আনন্দবাজার অনলাইনে ২৭ জুন ‘পদ্মা ব্রিজ: পদ্মা সেতুর নকশা তৈরিতে চারটি সংস্থা! কিন্তু নেপথ্যে কার মস্তিষ্ক ‘শিরোনামে ২৫ টি ছবির আরো একটি ফটোফিচার তৈরি করেছে। ইয়াকুব আলী, সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস অ্যান্ড মিনিস্টিরিয়াল পাবলিসিটি), তথ্য অধিদফতর।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনাই হয় না। সন্তান যত বড়ই হোক না কেন, মায়ের কাছে সে সব সময় শিশু, ছোট। তা আবারও প্রমাণিত হলো। বিশ্বের অন্যতম একজন প্রভাবশালী তিনি। গোটা বাংলাদেশের দায়িত্বভার তার হাতে। শুধু তাই নয়, একটি বৃহৎ দলেরও দায়িত্বে রয়েছেন। এত কিছু সামলানোর পর যখন এ রকম একটি ভিডিও চোখের সামনে আসে, তখন নিঃসন্দেহে চোখে পানি চলে আসে! তিনি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীই নন, একজন মমতাময়ী মাও। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতুতে দাঁড়িয়ে যখন বিমান বাহিনীর ‘ফ্লাইং ডিসপ্লে’ উপভোগ করছিলেন শেখ হাসিনা, তখন তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সেখানেই ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে মা-মেয়ের ভালোবাসার নজির। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামেরা হাতে ছবি তুলছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, পাশেই দাঁড়ানো শেখ হাসিনা। প্রমত্তা পদ্মার এলোমেলো হাওয়ায় পুতুলের চুলগুলো উড়ছিল। পেছন থেকে মাথার চুলগুলো চোখের ওপরে এসে পড়ছিল বারবার। মায়ের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি এ দৃশ্য। পুতুল মায়ের দিকে ঘোরেন। মাস্ক পরে থাকা পুতুল মাকে কিছু বলেন কি না তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। তবে তার আগেই মাথায় হাত দিতে দেখা যায় শেখ হাসিনাকে। যে পাশ থেকে ভিডিওটি করা হয়েছে তার বিপরীত পাশে, কয়েক সেকেন্ড চুলে হাত রেখে নিজের মাথায় থাকা একটি কালো ক্লিপ খোলেন তিনি। এরপর মেয়ের দিকে ঘুরে ক্লিপটি কিছুক্ষণ হাতে ধরে রাখেন শেখ হাসিনা। মায়ের হাতে ক্লিপ দেখে এলোমেলো বাতাসে উড়তে থাকা চুলগুলো দু’হাতে ঠিক করে এক হাত দিয়ে মায়ের হাতে থাকা ক্লিপটি নেন পুতুল। তারপর খুব সাধারণ একটা বাঙালি মেয়ের মতো করেই ক্লিপটি মুখ দিয়ে একটু টেনে ধরে ঠিকঠাক করে মাথার পেছনের দিকে গুঁজে নেন। অসাধারণ এক দৃশ্য। এমন দৃশ্য বিরল। যে মানুষটির সকাল থেকে সারাদিনের হাজারও ব্যস্ততা, তার ভেতরেও যে একজন মা লুকিয়ে আছে এই ভিডিওটিই তার সর্বোচ্চ প্রমাণ। সেই দৃশ্যের একটি ভিডিও এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। সেই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ক্যাপশনে লিখেছেন- আমি তোমার ছায়ায় ছায়ায় থাকি মা আমি তোমার চোখের তারায় বাঁচি মা, আমি তোমার মায়ায় মায়ায় থাকি মা আমি তোমায় হাওয়ায় আবার ডাকি মা, আমি তোমায় ভালোবাসায় মুড়ে রাখি মা। এই ভিডিওটি অনেকেই শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা দেখে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর পরই টোল দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীই প্রথম ব্যক্তি যিনি টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার পদ্মা বহুমুখী সেতুর টোল প্লাজার জন্য মাওয়া প্রান্তে টোল প্লাজা অতিক্রম করে কিছু পাবলিক গাড়ি নিয়ে পরীক্ষা চালায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলক যানচলাচল প্রক্রিয়া সাত দিন ধরে চলমান ছিল এবং কর্তৃপক্ষ এই সময়ের মধ্যে টোল নেওয়া এবং স্লিপ দেওয়ার প্রক্রিয়াটির মহড়া দেয়। পদ্মা সেতু আজ যানবাহন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হলেও আগামীকাল (২৬ জুন) সকাল ৬টায় সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ ‘পদ্মা সেতু’ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। ’’ দেশের সর্ববৃহৎ ‘পদ্মা সেতু’ যান চলাচলের জন্য আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জিং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানাই। সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ‘পদ্মা সেতু’ উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকেআন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ’’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সকল দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’―এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা। ’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটনশিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়াস্থ জাতির পিতার সমাধিসৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদীবিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাসমূহের সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিবছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি, অর্থনীতিবিদদের একাংশ, সাবেক আমলা এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বদের ‘নেতিবাচক ও নিরুৎসাহিতকর’ মন্তব্যের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছেন। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে প্রধান ঋণদাতা বিশ্বব্যাংক স্বপ্নের প্রকল্পের জন্য ঋণ প্যাকেজ বাতিল করলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের সক্ষমতা কমে যায়। ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের কোন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন বাতিল করলো। তিনি ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনায় বলেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে। ২০১২ সালের ১ জুলাই ড. আকবর আলি খান বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে পরবর্তীতে ঋণ সহায়তা পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়বে। যখনই কোন দাতা সংস্থা কোন নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী হবে, তারা দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে। সরকার যদি বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতু কাজ শুরু করে, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্নীতি যে আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে নষ্ট করছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আলী আহসান মনসুর বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সুশাসনের অভাবে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প আজ অনিশ্চয়তার মুখে। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিকল্প উৎস হতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা (দুর্নীতির অভিযোগের ওপর থেকে) দৃষ্টি সরানোর উপায় বলে মনে হতে পারে। যদি এই সিদ্ধান্ত সফলও হয় তাতেও সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না। ২০১২ সালের ১০ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বব্যাংক সুনির্দিষ্টভাবে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে- প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী। এমকে আনোয়ার বলেন, নিজস্ব অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের নাই। ২০১২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পক্ষ থেতে বলা হয়, অভিযোগ ওঠার দশ মাস পর যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ এটাই প্রমাণ করে যে এই প্রকল্পে আসলেই দুর্নীতি হয়েছে। ২০১২ সালের ২৪ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আবুল হোসেনের পদত্যাগ এটাই প্রমাণ করে যে দুর্নীতির সকল অভিযোগ সত্য। তিনি যদি আরও আগেই পদত্যাগ করতেন তাহলে (বিশ্বব্যাংক) ঋণচুক্তি বাতিল করতো না। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখন অনেক দেরি হয়ে গেলো। কয়েক মাস আগে বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগ আনলো তখনই (পদত্যাগ) হওয়া উচিত ছিল। ড. আকবর আলি খান বলেন, অনেক দেরিতে আসলো এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। ২০১২ সালের ২৮ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আবুল হোসেন কোন দেশপ্রেমিক নন, তিনি একজন নির্লজ্জ ব্যক্তি। তাই, তিনি বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ আসার ১০ মাস পরে পদ ছেড়েছেন। একজন দুর্নীতিবাজের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী এতদিন সাফাই গেয়েছেন। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব) এএসএম হান্নান শাহ বলেন, শেখ হাসিনা একজন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী। তারও উচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, আবুল হোসেন যদি দেশপ্রেমিক হয় তাহলে দেশপ্রেমিক নয় কে? তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন এটাই প্রমাণ করে যে জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের রাজনৈতিক দলে থাকার অধিকার রয়েছে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কেন প্রধানমন্ত্রী কাউকে দেশপ্রেমিক বলে সার্টিফিকেট দিতে হবে আর কেনইবা সেটা লন্ডন গিয়ে করতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী যোগাযোগ মন্ত্রীর যদি আত্মসম্মানবোধ থাকতো তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার সাথে সাথেই তিনি পদত্যাগ করতেন। ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আলি ইমাম মজুমদার বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে দুদক নিজেদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুদক যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতো তাহলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতো না। উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি দেশের জনগণও দুদকের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা আশা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন বলেন, নিজ অর্থায়নে সরকার পদ্মা সেতু করার যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার ইচ্ছা করলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে; কিন্তু শেষ করতে পারবে না। আইনজীবী শাহ্দীন মালিক বলেন, পদ্মা সেতু দেশি অর্থায়নে হবে না, সম্ভব নয়। ২০১২ সালের ১ জুলাই পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারলেও শেষ করার গ্যারান্টি থাকবে না।... এই মুহূর্তে সরকার নিজস্ব অর্থে করতে গেলে ডলারের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং টাকার মান ব্যাপকভাবে কমে যাবে। বাড়বে অযাচিত মুদ্রাস্ফীতি।’ সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন, যা জোগান দিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়বে। এর দায় সরকার এড়াতে পারবে না।... তবে এজন্য তাদেরও ভয়ঙ্কর নতুন সমস্যায় পড়তে হবে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু শুরু করা হলে দেশের অন্যসব অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে কাজগুলো করা যেত সেগুলো আর হবে না।
সিলেট সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহ পরান (র:) এর মাজার জিয়ারত করেন। শেখ হাসিনা সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও তৎসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আজ মঙ্গলবার সকালে এখানে পৌঁছে অপরাহ্নে প্রথমে বিভাগীয় শহরে হযরত শাহজালাল (র:) এর মাজার জিয়ারত করেন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহ পরান (র:) এর মাজার পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানেও পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা