03312020মঙ্গল
স্পটলাইট

স্পটলাইট (915)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ অধিকতর বেগবান এবং কার্যকরী করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই তহবিলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যদের একদিনের বেতনের পাশাপাশি সেনা কল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী লিমিটেড, বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে সর্বমোট ২৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় সকল নৌ সদস্যদের এক দিনের বেতন এবং নৌকল্যাণ ফাউন্ডেশন, খুলনা শিপইয়ার্ড, নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড ও চট্টগ্রাম ড্রাই ডক হতে সর্বমোট ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং সকল বিমান সেনাদের এক দিনের বেতন বাবদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদান করা হয়েছে । আইএসিপআর।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: রোনা আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রিন্স চার্লস এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বিদেশ ও কনমওয়েলথ বিষয়ক) লর্ড আহমেদ অব উইম্বলডন শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেখ হাসিনাকে ফোন করলে তিনি তাদের খোঁজ খবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেছেন। টেলিফোনে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রিন্স চার্লস এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তার সরকরের পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্রিটিশ
বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আজ সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। তবে যেকোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। সব সময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। আমি নিজে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। 'দুর্যোগের সময়ই মনুষত্যের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার; মানবতা প্রর্দশনের। বাঙালি বীরের জাতি। নানা দুর্যোগে-সঙ্কটে বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে সেগুলো মোকাবিলা করেছে।' তিনি বলেন, আবারও বলছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে যাঁর যাঁর ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: সেনাবাহিনী কর্তৃক কোয়ারেন্টিন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগের জন্য ইতোপূর্বে প্রদত্ত সকল নম্বরের পরিবর্তে শুধুমাত্র ০১৭৬৯০৪৫৭৩৯ ( ০১৭৬৯০৪৫৭৩৯) নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হলো। আইএসপিআর।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশে করোনা ভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো তিন জনে। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, নতুন করে আরও ছয় জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগী ৩৩ জন। নতুন ছয় রোগীর মধ্যে পুরুষ তিনজন, নারী তিন জন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে দেশে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ জনে দাঁড়াল। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘন্টায় ৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছি। সর্বমোট ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ২৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছি। এদের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন এবং ৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এদের মধ্যে আগেই ৩ জন সুস্থ হয়েছিলেন, নতুন আরো ২ জন আজ বাড়ি চলে যাচ্ছেন।’ ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন যে ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এদের ২ জন বিদেশ ফেরত এবং ১ জন আগের একজন রোগি থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ৩ জনের মধ্যে ২ জন নারী ও ১ জন পুরুষ। ১ জনের বয়স ৪০ এর ঘরে, আরেক জনের বয়স ৩০ এর ঘরে, অপরজনের বয়স ২০ এর ঘরে। এদের একজনের ডায়াবেটিস ও হাঁপানী রয়েছে। শারীরিকভাবে ৩ জনেরই লক্ষণ উপসর্গ মৃদু, অর্থাৎ তারা ভাল আছেন। ২৭ জনের মধ্যে এখন ২০ জনের সংক্রমণ রয়েছে। এই ২০ জনের মধ্যে ১ জনের কিডনী সমস্যা রয়েছে। তাকে ডায়ালাইসিস নিতে হয়। তিনি এই অবস্থায়ই রয়েছেন। আর বাকি যারা রয়েছেন তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক, অর্থাৎ তারা ভাল আছেন।” চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য নিরাপত্তা পোশাক হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা পোশাক ও পরীক্ষা কীট সংগ্রহ করা হয়েছে।
শনিবার, 21 মার্চ 2020 14:53

করোনা: বাংলাদেশে আরেক জনের মৃত্যু

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবদেক: বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া নতুন করে আরও চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আজ শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ নিয়ে দেশে মোট দুজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলো। এছাড়াও আজ আরো চারজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর। এ নিয়ে মোট আক্রান্তে র সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪ জন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও তিন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে; এর মধ্যদিয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছ ২০ জনে। শুক্রবার মহাখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এতথ্য জানিয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া এই তিন ব্যক্তির একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। এদের মধ্যে একজনের বয়স ৭০ বছরের বেশি; তাকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের সকল দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশবাসীকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী আজ। এই দিনে আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি- আমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।’ শেখ রেহানা ১৭ মার্চ রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্তকালে একথা বলেন। বাসস। বাবা ‘আজ জীবিত না থাকলেও বাংলার কোটি মানুষের হদয়জুড়েই তিনি রয়েছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ব। সোনার বাংলাকে ভালবাসব। পরশ্রীকাতরতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব।’ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা’র অনুকরণে শেখ রেহানা বলেন, ‘ঘরে ঘরে মুজিবের আদর্শের দুর্গ তৈরি করে তার আলো ছড়িয়ে দিব। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি জানান, বাবা বলতেন, ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়া কোন জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। একটা মানুষ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তা আমরা খুঁজে পাই তাঁরই লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে। শেখ রেহানা বলেন, জাতির পিতা কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত ও আপোষ করেননি এবং লোভ-লালসা ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রেখেছেন। কারণ মানব কল্যাণই ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণায় এবং বিশ্বাসে-নিঃশ্বাসে। তিনি বলেন, ‘এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসেন। আসলেও তাঁরা ক্ষণস্থায়ী হন।’ তাঁর মাতা এবং জাতির পিতার ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা বেগম মুজিব এবং দাদা-দাদিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শেখ রেহানা। তিনি বলেন, ‘এই দিনে আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি মুজিবের রতœগর্ভা মা শেখ সায়রা খাতুন এবং বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে। আরও স্মরণ করি চিরদিনের সুখে-দুঃখে মরণের সাথী তাঁর প্রিয় রেণু-কে।’ তিনি জাতির পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে নিজের বাবা ও বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের স্থপতির জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা তাঁর (বঙ্গবন্ধু) আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে হাত তুলে দো’য়া করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশের এক কোটি ৪০ লাখ শিশুর হাতে চলে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি চিঠি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ চিঠি লিখেছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা তার এ চিঠি ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ূয়া এক কোটি ৪০ লাখ শিশুর পাঠ করার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা আসার পর আপাতত এ কর্মসূচি বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা আমাদের প্রোগ্রামটা বাতিল করেছি। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেব। সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসেই এ চিঠি পাঠ করবেন। আমরা সারা বাংলাদেশে আজকেই প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছে দেব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী এ সময় জানান। তিনি বলেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বন্ধের সময়টা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে হবে। বাইরে ঘোরাফেরা করা যাবে না। বাসায় বসে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে আবারও স্কুল খোলা হবে। নতুবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের ভালোবেসে নিজে কলম তুলে নিয়েছেন। তাদের কাছে চিঠি লিখেছেন। শিশুদের কোমল হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করানোর জন্য এ উদ্যোগ। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন পুত্রের শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তা ইতিহাস হয়ে আছে। শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই চিঠিও ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।' সচিব বলেন, জাতির পিতার জীবন ও সংগ্রামের তথ্যগুলো জানার মধ্য দিয়ে সারাদেশের প্রায় দেড় কোটি শিশুর মধ্যে দেশপ্রেম বোধ, স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করা এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। আজকের শিশুরাই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাই তাদের উজ্জীবিত করার জন্যই এ উদ্যোগ। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে লেখা মুজিববর্ষের লোগোসহ হুবহু চিঠিটি শিশুদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ঘরে বসে তারা চিঠি পড়বে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিশুকে লেখা সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম চিঠি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি বিশ্বরেকর্ড হতে পারে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী যা লিখেছেন- "ছোট্ট সোনামণি, আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো। আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের এদিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাই তো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি 'বঙ্গবন্ধু'। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ 'মুজিববর্ষ' উদযাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রিয় বন্ধু, ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়। সোনামণি, জাতির পিতার কাছে আমার অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বোই। আর সেদিন বেশি নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জেগে রইবো তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ-প্রজন্মের পর প্রজন্ম- তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। জাতির পিতার দেওয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন। তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়। ইতি, তোমারই শেখ হাসিনা।''

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা