10232020শুক্র
স্পটলাইট

স্পটলাইট (989)

রবিবার, 18 অক্টোবার 2020 18:52

'ছোট্ট শিশুটি আমাদের চোখের মনি ছিল'

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : 'রাসেলের জন্মের ক্ষণটা যখন এলো, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল। ছোট্ট শিশুটি আমাদের সবার চোখের মনি ছিল। কিন্তু একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে গেল, রাসেল আর ফুঁটতে পারেনি। ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।' শহীদ শিশু শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কথাগুলো বলেন বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাসেলের জন্মের সময়কার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'রাসেল যেদিন জন্ম নিয়েছে, সে দিনের কথাটা এখনো আমার মনে পড়ে। একটা ছোট্ট শিশু আসবে, আমাদের পরিবারে, আমি কামাল-জামাল, রেহানা- আমরা সবাই খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম, কখন সেই শিশুটির কান্না আমরা শুনবো, কখন তার আওয়াজটা পাবো, কখন তাকে কোলে তুলে নেবো। আর সেই ক্ষণটা যখন এলো, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সময় ছিল। ছোট্ট শিশুটি আমাদের সবার চোখের মনি ছিল।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়, রাসেল আর ফুটতে পারেনি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়। শৈশবে বাবাকে কাছে না পাওয়ায় ছোট্ট শিশু রাসেলের বেদনার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, কি দুর্ভাগ্য তার, ৬৪ সালের অক্টোবরের ১৮ তারিখ তার জন্ম। এরপর ৬৬ সালে আবার বাবা যখন ৬ দফা দাবি দিলেন- তিনি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ৬৬ সালের মে মাসে তিনি (বঙ্গবন্ধু) বন্দি হয়ে গেলেন। ছোট্ট রাসেল কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে। যখন সে একটু বড় হলো, তখন কারাগার থেকে বাবাকে কীভাবে নিয়ে আসবে, সে জন্য বাড়ি চল, বাড়ি চল বলে কান্নাকাটি করতো। শেখ হাসিনা বলেন, ৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন আমার বাবা মুক্তি পান, তখন যে জিনিসটা সব সময় দেখতাম, রাসেল সর্বক্ষণ- মনে হয় যেন ওর ভেতরে একটা ভয় ছিল যে কোনো মুহূর্তে বুঝি বাবাকে হারাবে, তাই বাবা যেখানেই যেতেন, যে কাজই করতেন, খেলার ছলে কিছুক্ষণ পর পরই একবার করে সে দেখে আসতো যে বাবা ঠিক আছেন তো। বাবা মিটিংয়ে থাক বা যেখানেই থাক, সে ছুটে ছুটে যেত। রাসেলের নীরব কান্নার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তর সাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। তারপর থেকে তিনি কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, আমরা জানি না। বেঁচে আছেন কিনা সেটা জানাও আমাদের সম্ভব ছিল না। ১৯৭১ সালে শুধু জাতির পিতাকে বন্দি করা হয়নি, আমার মাকেও বন্দি করা হলো। রাসেলও তখন বন্দি। আমার ভাই কামাল মুক্তিযুদ্ধে চলে যাচ্ছে, এক সময় জামালও গেরিলা কায়দায় বন্দিখানা থেকে চলে গেল মুক্তিযুদ্ধে। রাসেলের চোখে সব সময় পানি। ওইটুকু একটা ছোট্ট শিশু, সে তার কষ্টটা কাউকে বুঝতে দিত না। যদি জিজ্ঞেস করতাম, কি হয়েছে? বলতো, চোখে কিছু একটা পড়ে গেছে। তার যে নীরব কান্না তা সে কখনো প্রকাশ করতো না। শেখ হাসিনা আরো বলেন, সবাইকে শার্ট কিনে দিতো, প্যান্ট কিনে দিতো। মা সব সময় কিছু কাপড় টুঙ্গিপাড়ায় রেখে দিতেন আলমিরাতে। ১৯৭৫ এর পর আমি যখন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। আমি আসতে পারিনি এ দেশে, ১৯৮১ সালে যখন আমি এলাম, যখন আমি টুঙ্গিপাড়া গেলাম, সেই আলমিরা খুলে দেখি অনেকগুলো কাপড়, বিশেষ করে শার্ট সেখানে রাখা ছিল। রাসেল যতবার টুঙ্গিপাড়া যেত, সে ততবার শিশুদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করতো। তার মনটা ছিল অনেক উদার। তাদের জন্য খাবারও দিত। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টরি 'বুবুর দেশ' প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি শেখ রাসেলের জীবনীগ্রন্থ 'শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালোবাসা'র মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন; ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শেখ রাসেলের 'ম্যুরাল' উন্মোচন ও 'শহীদ শেখ রাসেল ভবন' উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন, 'স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল' শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে ল্যাপটপ ও পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, সংগঠনটির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এবং ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগানের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর ইউএনবির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুসংবাদটি হলো আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আরও বেশি মনোযোগ পাচ্ছে। আরও লক্ষ্য অর্জনে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক থাকবে।’ ব্রিফিংয়ে বিগান বলেন, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অব্যাহত সহায়তা করে যাবে। তিনি বলেন, ‘এখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ এটা শুধু বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়, এটি বৈশ্বিক প্রায়োরিটি।’ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভিসার সমস্যা, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমুদ্র অর্থনীতি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই হত্যাকারীদের আবাসভূমি হতে পারে না। তাদের অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি দেখছেন। ড. মোমেন জানান, আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেনি। এক প্রসঙ্গে ‘আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের চোখে দেখে’ এমন কথা উড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকা বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং আমেরিকার সম্পর্ক দিন দিন সুদৃঢ় হচ্ছে। এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছেলেবেলার স্মৃতি থেকে কীভাবে সংবাদপত্র তাঁর দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হয়ে উঠেছে এবং বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রভাবে শৈশবকাল থেকেই কীভাবে তিনি অভ্যাসটি বিকাশ করেছিলেন তা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত আকারে ইতোপূর্বে একটি টিভি চ্যানেলের বিশেষ সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটি নীচে দেয়া হলো- পত্রিকা পড়ার গল্প শেখ হাসিনা এক ভোরে ঘুম থেকে উঠে একে একে সকলে জড়ো হতাম মায়ের শোবার ঘরে। হাতে চায়ের পেয়ালা, বিছানার উপর ছড়ানো-ছিটানো খবরের কাগজ … একজনের পর আরেকজন, এক-একটা খবর পড়ছে আর অন্যেরা মন দিয়ে শুনছে বা মতামত দিচ্ছে। কখনও কখনও তর্কও চলছে – কাগজে কী লিখল বা কী বার্তা দিতে চাচ্ছে? যার যার চিন্তা থেকে মতামত দিয়ে যাচ্ছে। এমনিভাবে জমে উঠছে সকালের চায়ের আসর আর খবরের কাগজ পড়া। আমাদের দিনটা এভাবেই শুরু হতো। অন্ততঃ ঘণ্টা তিনেক এভাবেই চলতো। আব্বা প্রস্তুত হয়ে যেতেন। আমরাও স্কুলের জন্য তৈরি হতাম। আব্বার অফিস এক মিনিটও এদিক-সেদিক হওয়ার জো নেই। সময়ানুবর্তিতা তাঁর কাছে থেকেই আমরা পেয়েছি। সংবাদপত্র পড়া ও বিভিন্ন মতামত দেওয়া দেখে আব্বা একদিন বললেন: “বলতো? কে কোন খবরটা বেশি মন দিয়ে পড়?” আমরা খুব হকচকিয়ে গেলাম। কেউ কোন কথা বলতে পারি না। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা, খোকা কাকা, জেনী সকলকেই সেখানে। এমন কি ছোট্ট রাসেলও আমাদের সাথে। তবে, সে পড়ে না, কাগজ কেড়ে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকে। আমরা কিছু বলতে পারছি না দেখে আব্বা নিজেই বলে দিলেন-কে কোন খবরটা নিয়ে আমরা বেশি আগ্রহী। আমারা তো হতবাক। আব্বা এত খেয়াল করেন! মা সংবাদপত্রের ভিতরের ছোট ছোট খবরগুলি, বিশেষ করে সামাজিক বিষয়গুলি, বেশি পড়তেন। আর কোথায় কী ঘটনা ঘটছে তা-ও দেখতেন। কামাল স্পোর্টসের খবর বেশি দেখতো। জামালও মোটামুটি তাই। আমি সাহিত্যের পাতা, আর সিনেমার সংবাদ নিয়ে ব্যস্ত হতাম। এভাবে একেকজনের একেক দিকে আগ্রহ। খুব ছোটবেলা থেকেই কাগজের প্রতি রেহানা’র একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। আব্বা ওকে কোলে নিয়ে বারান্দায় চা খেতেন আর কাগজ পড়তেন। কাগজ দেখলেই রেহানা তা নিয়ে টানাটানি শুরু করতো – নিজেই পড়বে – এমনটা তার ভাব ছিল। এর পর ধানমন্ডির বাড়িতে যখন আমরা চলে আসি, তখন আমাদের সাথে সাথে ওরও কাগজ পড়া শুরু হয়। যখন একটু বড় হলো, তখন তো তার খুটিয়ে খুটিয়ে খবর পড়ার অভ্যাস হলো। ওর দৃষ্টি থেকে কোন খবরই এড়াতো না, তা সিনেমার খবর হোক বা অন্য কিছু। আর ছোটদের পাতায় অনেক গল্প, কবিতা, কুইজ থাকতো। রেহানা সেগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তো। এখন রেহানা ল-নে থাকে। সেখানে সে অনলাইনে নিয়মিত দেশের পত্রপত্রিকা পড়ে। শুধু যে পড়ে তাই না, কোথায়ও কোন মানুষের দুঃখ-কষ্টের খবর দেখতে পেলে সাথে সাথে আমাকে মেসেজ পাঠায় – অমুককে সাহায্য কর, এখানে কেন এ ঘটনা ঘটলো, ব্যবস্থা নাও…। উদাহরণ দিচ্ছি। এই তো করোনাভাইরাসের মহামারির সময়েরই ঘটনা। একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করে টাকা জমিয়েছিলেন ঘর বানাবেন বলে। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ায় ঐ ভিক্ষুক তাঁর সব জমানো টাকা দান করে দেন করোনাভাইরাস রুগীদের চিকিৎসার জন্য। খবরের কাগজে এই মহানুভবতার খবর রেহানার মনকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। আমাকে সাথে সাথে সে বিষয়টা জানায়। আমরা তাঁর জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এভাবে এ পর্যন্ত অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি শুধুমাত্র আমার ছোট্ট বোনটির উদার মানবিক গুণাবলীর জন্য; ওর খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাসের কারণে। সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রতিনিয়ত সে দেশের মানুষের কথা ভাবে। পত্রিকায় পাতা থেকে খবর সংগ্রহ করে মানুষের সেবা করে। দুই আমার ও কামালের ছোটবেলা কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে। সেকালে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় যেতে সময় লাগতো দুুই রাত একদিন। অর্থাৎ সন্ধ্যার স্টিমারে চড়লে পরের দিন স্টিমারে কাটাতে হতো। এরপর শেষ রাতে স্টিমার পাটগাতি স্টেশনে থামতো। সেখান থেকে নৌকার দুই-আড়াই ঘন্টার নদীপথ পেড়িয়ে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে পৌঁছানো যেতো। কাজেই সেখানে কাগজ পৌঁছাত অনিয়মিতভাবে। তখন কাগজ বা পত্রিকা পড়া কাকে বলে তা শিখতে পারিনি। তবে, একখানা কাগজ আসতো আমাদের বাড়িতে। তা পড়ায় বড়দের যে প্রচ- আগ্রহ তা দেখতাম। ঢাকায় আমরা আসি ১৯৫৪ সালে। তখন রাজনৈতিক অনেক চড়াই-উৎড়াই চলছে। আব্বাকে তো আমরা পেতামই না। তিনি প্রদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আবার মন্ত্রিত্বও পেলেন। তিনি এত ব্যস্ত থাকতেন যে গভীর রাতে ফিরতেন। আমরা তখন ঘুমিয়ে পড়তাম। সকালে উঠে আমি আর কামাল স্কুলে চলে যেতাম। মাঝেমধ্যে যখন দুপুরে খেতে আসতেন, তখন আব্বার দেখা পেতাম। ঐ সময়টুকুই আমাদের কাছে ভীষণ মূল্যবান ছিল। আব্বার আদর-ভালবাসা অল্প সময়ের জন্য পেলেও আমাদের জন্য ছিল তা অনেক পাওয়া। বাংলার মানুষের জন্য তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবনের সবটুকু সময়ই যেন বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য নিবেদিত ছিল। এর পরই কারাগারে বন্দি তিনি। বাইরে থাকলে মানুষের ভিড়ে আমরা খুব কমই আব্বাকে কাছে পেতাম। আর কারাগারে যখন বন্দি থাকতেন তখন ১৫-দিনে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দেখা পেতাম। এইতো ছিল আমাদের জীবন! আমার মা আমাদের সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতেন তাঁর ¯েœহ ভালবাসা দিয়ে। আর আমার দাদাদাদী ও চাচা শেখ আবু নাসের – আমাদের সব আবদার তাঁরা মেটাতেন। যা প্রয়োজন তিনিই এনে দিতেন। আর আব্বার ফুফাতো ভাই – খোকা কাকা – সব সময় আমাদের সাথে থাকতেন। আমাদের স্কুলে নেওয়া, আব্বার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সরকার যে মামলা দিত তার জন্য আইনজীবীদের বাড়ি যাওয়া – সবই মা’র সাথে সাথে থেকে খোকা কাকা সহযোগিতা করতেন। তবে আমার মা পড়াশেখা করতে পছন্দ করতেন। আমার দাদা বাড়িতে নানা ধরনের পত্রিকা রাখতেন। আব্বার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে দাদার পত্রিকা কেনা ও পড়ার কথা উল্লেখ আছে। তখন থেকেই আব্বার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। আর আমরা তাঁর কাছ থেকেই পত্রিকা পড়তে শিখেছি। পত্রিকার সঙ্গে আব্বার একটা আত্মিক যোগসূত্র ছিল। আব্বা যখন কলকাতায় পড়ালেখা করছিলেন, তখনই একটা পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জনাব হাশেম এ পত্রিকার তত্ত্বাবধান করতেন এবং তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। পত্রিকাটির প্রচারের কাজে আব্বা যুক্ত ছিলেন। ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’ নামে ২টি পত্রিকাও প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলির সঙ্গেও আব্বা জড়িত ছিলেন। ১৯৫৭ সালে ‘নতুন দিন’ নামে আরেকটি পত্রিকার সঙ্গে আব্বা সম্পৃক্ত হন। কবি লুৎফর রহমান জুলফিকার ছিলেন এর সম্পাদক। পাকিস্তান সৃষ্টির পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আর্থিক সহায়তায় ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এ পত্রিকার সঙ্গেও আব্বা সংযুক্ত ছিলেন এবং কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর আব্বা ১৯৫৭ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে সংগঠনের কাজে মনোনিবেশ করেন। ১৯৫৮ সালে মার্শাল ’ল জারি করে আইয়ুব খান। আব্বা গ্রেফতার হন। ১৯৬০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে তিনি আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি শুরু করেন। কারণ, এ সময় তাঁর রাজনীতি করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এমনকি ঢাকার বাইরে যেতে গেলেও থানায় খবর দিয়ে যেতে হতো, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে যেতে হতো। তবে আমাদের জন্য সে সময়টা আব্বাকে কাছে পাওয়ার এক বিরল সুযোগ এনে দেয়। খুব ভোরে উঠে আব্বার সাথে প্রাতঃভ্রমণে বের হতাম। আমরা তখন সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে থাকতাম। রমনা পার্ক তখন তৈরি হচ্ছে। ৭৬ নম্বর সেগুনবাগিচার সেই বাসা থেকে হেঁটে পার্কে যেতাম। সেখানে একটা ছোট চিড়িয়াখানা ছিল। কয়েকটা হরিণ, ময়ূর পাখিসহ কিছু জীবজন্তু ছিল তাতে। বাসায় ফিরে এসে আব্বা চা ও খবরের কাগজ নিয়ে বসতেন। মা ও আব্বা মিলে কাগজ পড়তেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। ইত্তেফাক পত্রিকার ‘কচিকাঁচার আসর’ নামে ছোটদের একটা অংশ প্রতি সপ্তাহে বের হতো। সেখানে জালাল আহমেদ নামে একজন ‘জাপানের চিঠি’ বলে একটা লেখা লিখতেন। ধাঁধাঁর আসর ছিল। আমি ধাঁধাঁর আসরে মাঝেমধ্যে ধাঁধাঁর জবাব দিতাম। কখনও কখনও মিলাতেও পারতাম। পত্রিকাগুলিতে তখন সাহিত্যের পাতা থাকতো। বারান্দায় বসে চা ও কাগজ পড়া প্রতিদিনের কাজ ছিল। আমার মা খুব খুটিয়ে খুটিয়ে কাগজ পড়তেন। দুপুরে খাবার খেয়ে মা পত্রিকা ও ডাকবাক্সের চিঠিপত্র নিয়ে বসতেন। আমাদের বাসায় নিয়মিত ‘বেগম’ পত্রিকা রাখা হতো। ন্যাশনাল ‘জিওগ্রাফি’, ‘লাইফ’ এবং ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’ – কোনটা সাপ্তাহিক, কোনটা মাসিক আবার কোনটা বা ত্রৈমাসিক – এই পত্রিকাগুলি রাখা হতো। ‘সমকাল’ সাহিত্য পত্রিকাও বাসায় রাখা হতো। মা খুব পছন্দ করতেন। ‘বেগম’ ও ‘সমকাল’ – এ দুটোর লেখা মায়ের খুব পছন্দ ছিল। সে সময়ে সাপ্তাহিক ‘বাংলার বাণী’ নামে একটা পত্রিকা প্রকাশ করা শুরু করলেন আব্বা। সেগুনবাগিচায় একটা জায়গা নিয়ে সেখানে একটা ট্রেড মেশিন বসানো হলো। যেখান থেকে ‘বাংলার বাণী’ প্রকাশিত হতো। মণি ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা’য় পড়তেন। তাঁকেই কাগজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬২ সালে আব্বা আবার গ্রেফতার হন। আমরা তখন ধানমন্ডির বাড়িতে চলে এসেছি। কারাগারে আব্বা যখন বন্দি থাকতেন, বাইরের খবর পাওয়ার একমাত্র উপায় থাকতো খবরের কাগজ। কিন্তু যে পত্রিকা দেওয়া হতো সেগুলি সেন্সর করে দেওয়া হত। বন্দি থাকাবস্থায় পত্রিকা পড়ার যে আগ্রত তা আপনারা যদি আমার আব্বার লেখা “কারাগারের রোজনামচা” পড়েন তখনই বুঝতে পারবেন। একজন বন্দির জীবনে, আর যদি সে হয় রাজবন্দি, তাঁর জন্য পত্রিকা কত গুরুত্বপূর্ণ – তাতে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও বাইরের খবরাখবর পেতে আব্বার খুব বেশি বেগ পেতে হতো না, কারণ জেলের ভিতরে যাঁরা কাজ করতেন বা অন্য বন্দিরা থাকতেন, তাঁদের কাছ থেকেই অনায়াসে তিনি খবরগুলি পেতেন। আমার মা যখন সাক্ষাৎ করতে যেতেন, তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তিনি আব্বাকে অবহিত করতেন। আর আব্বা যেসব দিক-নির্দেশনা দিতেন, সেগুলি তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। বিশেষ করে ছয়-দফা দেওয়ার পর যে আন্দোলনটা গড়ে উঠে, তার সবটুকু কৃতিত্বই আমার মায়ের। তাঁর ছিল প্রখর স্মরণশক্তি। বন্দি থাকাবস্থায় পত্রিকা যে কত বড় সহায়ক সাথী তা আমি নিজেও জানি। ২০০৭-০৮ সময়ে যখন বন্দি ছিলাম আমি নিজের টাকায় ৪টি পত্রিকা কিনতাম। তবে নিজের পছন্দমত কাগজ নেওয়া যেতো না। সরকার ৪টা পত্রিকার নাম দিয়েছিল, তাই নিতাম। কিছু খবর তো পাওয়া যেতো। তিন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে আমার আব্বা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নির্মমভাবে নিহত হন। সেই সাথে আমার মা, তিন ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম। সব হারিয়ে রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে রিফুইজি হিসেবে যখন পরাশ্রয়ে জীবযাপন করি, তখনও পত্রিকা যোগাড় করেছি এবং নিয়মিত পত্রিকা পড়েছি। ১৯৮০ সালে দিল্লী থেকে লন্ডন গিয়েছিলাম। রেহানার সাথে ছিলাম বেশ কিছুদিন। তখন যে পাড়ায় আমরা থাকতাম, ঐ পাড়ার ৮-১০জন ছেলেমেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম। ছুটি হলে সকলকে নিয়ে আবার ঘরে পৌঁছে দিতাম। বাচ্চা প্রতি এক পাউ- করে মজুরি পেতাম। ঐ টাকা থেকে সর্বপ্রথম যে খরচটা আমি প্রতিদিন করতাম তা হলো কর্নারশপ থেকে একটা পত্রিকা কেনা। বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ঘরে ফেরার সময় পত্রিকা, রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাসায় ফিরতাম। তখন একটা পত্রিকা হাতে না নিলে মনে হত সমস্ত দিনটাই যেন ‘পানসে’ হয়ে গেছে। সব সময়ই আব্বা ও মায়ের কথা চিন্তা করি। তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভাবতে শিখিয়েছেন। মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ জাগ্রত করেছেন। সাধাসিধে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে উন্নততর সুচিন্তা করতে শিখিয়েছেন। মানবপ্রেম ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। সে আদর্শ নিয়ে বড় হয়েছিলাম বলেই আজ দেশসেবার মত কঠিন দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছি। প্রতিদিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা নিতে পারছি এবং তা বাস্তবায়ন করছি। যার সুফল বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করছে। সমালোচনা, আলোচনা রাজনৈতিক জীবনে থাকবেই। কিন্তু সততা-নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করলে, নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে সিদ্ধান্ত নিলে, সে কাজের শুভ ফলটা মানুষের কাছেই পৌঁছবেই। গণমাধ্যম সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। আমি সরকার গঠন করার পর সব সরকারি পত্রিকা ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেই। যদিও সরকারিকরণের বিরুদ্ধে যাঁরা ছিলেন এবং সরকারিকরণ নিয়ে যাঁরা খুবই সমালোচনা করতেন, তাঁরাই আবার যখন বেসরকারিকরণ করলাম, তখন তাঁরা আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেন। আন্দোলন, অনশনও হয়েছে। আমি মাঝেমধ্যে চিন্তা করি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যে কয়টা পত্রিকা ছিল তা সরকারিকরণ করে সব সাংবাদিকের চাকুরি সরকারিভাবে দেওয়া হলো, বেতনও সরকারিভাবে পেতে শুরু করলেন তাঁরা, আবার তাঁরাই সকল সুযোগসুবিধা নিয়েও আব্বার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা শুরু করলেন। কেন? আবার আমি যখন সব ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিলাম, সরকারি পত্রিকা তখন কেন বেসরকারি করছি তা নিয়ে সমালোচনা, আন্দোলন, অনশন সবই হলো। কেন? এর উত্তর কেউ দেবেন না, আমি জানি। ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকটা পত্রিকা ছিল। সেগুলিরও নিয়ন্ত্রণ হত বিশেষ জায়গা থেকে। সরকারি মালিকানায় রেডিও, টেলিভিশন। বেসরকারি খাতে কোন টেলিভিশন, রেডিও চ্যানেল ছিল না। আমি উদ্যোগ নিয়ে বেসরকারি খাত উম্মুক্ত করে দিলাম। এ ক্ষেত্রে আমার দুটি লক্ষ্য ছিল – একটা হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আরেকটা হলো আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ – বর্তমান যুগের সাথে আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সংস্কৃতি-শিল্পের সম্মিলন ঘটানো। যাতে আধুনিকতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়, তৃণমূলের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার করেছিলাম। ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের কর্মজীবনে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করতে সহায়তা করছে। সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল রাখার সুযোগ পাচ্ছি। ১৯৯৬ সালেই মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উম্মুক্ত করে দিয়েছি। আজ সকলের হাতে মোবাইল ফোন। বাংলাদেশে সিনেমা শিল্পের শুরু হয়েছিল আব্বা’র হাত ধরে। এ শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন করে বাংলাদেশের মানুষের চিত্তবিনোদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। আবার সার্বিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখতে পারে এ শিল্প। বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের কারণে আমরা এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন যাপন করছি। আমি আশাবাদী এ কালোমেঘ শিগগিরই কেটে যাবে, উদয় হবে আলোকোজ্জ্বল নতুন সূর্যের। সকলের জীবন সফল হোক, সুন্দর হোক। সবাই সুস্থ্য থাকুন, এই কামনা করি। লেখক- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আয়োজিত ইউএনও ফিটলিস্টভুক্ত ও কর্মরতদের ওরিয়েন্টেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণ দ্রুত ও সঠিক সময়ে যথাযথ সেবা প্রাপ্তির জন্য সরকারি অফিসগুলোতে যান। তারা যাতে প্রত্যাশিত সেবা পায়, মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীদের সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মচারীদের সততা, আন্তরিকতা, মানুষের প্রতি সহানুভূতিসহ বিভিন্ন মানবিক গুণাবলী ধারণ করতে হয়। এসকল গুণাবলী না থাকলে জনগণকে প্রত্যাশিত সেবা প্রদান সম্ভব নয়। তাই মাঠ প্রশাসনের কর্মরতদের এসকল মানবিক গুণাবলী ধারণ করে জনগণের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মচারীরা সরকারের প্রতিনিধি। তাদের মাধ্যমে জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক বজায় থাকে। জনগণের সাথে সরকারি কর্মচারীরা কোন ধরনের দুর্ব্যবহার করলে, তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। তাই প্রতিমন্ত্রী জনগণকে হাসিমুখে সেবা প্রদান করে সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান। বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বদরুন নেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডঃ মোঃ হুমায়ুন কবীর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির মেম্বার ডিরেক্টিং স্টাফ মাহবুব-উল-আলম, সালেহ আহমেদ মোজাফফর এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো: আবদুল আউয়াল বক্তব্য রাখেন।
বৃহস্পতিবার, 08 অক্টোবার 2020 06:42

এক ঘণ্টার বিভাগীয় কমিশনার কলেজছাত্রী রাইমু

লিখেছেন
বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার হলেন বরগুনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রাইমু জামান। তবে তা এক ঘণ্টার জন্য। প্রতীকী দায়িত্ব নিয়েই বরিশালের ছয় জেলাকে নারীবান্ধব করতে আর নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সুপারিশমালা তুলে ধরেন তিনি। সে প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের ঘোষণাও দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকারের কাছ থেকে প্রতীকীভাবে কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাইমু জামান। এক ঘণ্টার জন্য তার অধীন হন সবাই। ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় তাকে। কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বেসরকারি সংস্থা প্লান ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে এ আয়োজন। পরে এক গোলটেবিল আলোচনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, বাল্যবিবাহ রোধসহ করনণীয় তুলে ধরেন বক্তারা। আর স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন এক ঘণ্টার কমিশনার রাইমু জামান। নারীবান্ধব বরিশাল বিভাগ গড়ে তুলতে রাইমু নানা সুপারিশমালা তুলে ধরেন। ঐ কিশোরীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার বলেন, নারীরা রাষ্ট্রের অনেক সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এমন করে এক ঘণ্টার জন্য নয়, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামীতে দেশ পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তবে এজন্য প্রথমত পরিবার ও সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে দিতে।
বুধবার, 07 অক্টোবার 2020 07:24

ট্রাম্পের স্টান্টবাজি!

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: চমকের পর চমক দেখিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে তিনি করোনাভাইরাসের অস্তিত্বই মানতে চাননি। নিরুপায় হয়ে সে অংশটি মেনে নিলেও ভাইরাস এড়াতে বিধিনিষেধের বেড়াজালে নিজেকে আটকে রাখেননি কখনোই। আর করোনা নাটকের ট্রাম্পীয় সংস্করণের সবচেয়ে স্নায়ু টান টান পর্বগুলো ‘অভিনীত’ হয়ে চলেছে গত চার দিন ধরে। প্রথমে তিনি করোনা পজিটিভ হলেন, তারপর হাসপাতালে গেলেন, এরপর সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাতে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়লেন পথে। এ নাটকের সর্বশেষ প্রচারিত পর্বটি আরো চমকপ্রদ। করোনা পজিটিভ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় হাসপাতাল ছেড়ে হোয়াইট হাউসে গিয়ে উঠেছেন তিনি। মুখের মাস্ক সরিয়ে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছেন। সিনেমেটিক ভঙ্গিতে হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে ওঠা, হোয়াইট হাউসে নামা, বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সামরিক কায়দায় হেলিকপ্টারকে স্যালুট করার ‘শ্যুটিং’ করে টুইটারে ছেড়েছেন। ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগির নামবেন নির্বাচনী প্রচারে। ট্রাম্পের এই অতি তৎপরতা পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে স্তম্ভিত করেছে। নিরন্তর আলোচনা-সমালোচনা চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি ভালো আছেন। বাকিদের বার্তা দিয়েছেন, করোনার কাছে তারা যেন নতি স্বীকার না করে। ট্রাম্পের চিকিৎসকের দাবি, সুস্থতার সব শর্ত পূরণ করেই হাসপাতাল ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ করোনা পরীক্ষা কবে করা হয়েছে এবং তার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে কি না সে প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলতে অতি আগ্রহী ট্রাম্পও কিন্তু এ পেশার লোকজনের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তিনি হোয়াইট হাউসে ‘সুপার স্প্রেডার’ হতে যাচ্ছেন কি না সে প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্প গত সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে নাটকীয়ভাবে হোয়াট হাউসে ফেরেন। জানা গেছে, এখন এখানে থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলবে। মোট তিন রাত হাসপাতালে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে দুইবার অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটাই নেমে গিয়েছিল তাঁর। প্রথমবার অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়েছিল। অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের পাঁচটি ডোজের পাশাপাশি একটি পরীক্ষামূলক অ্যান্টিজেন ককটেল দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পকে। বাধ্য হয়েই শুরু হয়েছে স্টেরয়েড চিকিৎসা। নিয়মমাফিক চালু রয়েছে ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, ফ্যামোটিডিন, অ্যাসপিরিনও। ওষুধের বহর দেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর রবিবারের ‘অ্যাডভেঞ্চার’ নিয়ে সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গত সোমবার অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিনোদনের মাত্রা আরো বেশি ছিল। তিনি প্রেসিডেনশিয়াল হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান থেকে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে অবতরণ করেন। এ সময় হাত নেড়ে, বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, ভালো আছেন। কাছে থাকা একজন ফটোগ্রাফারের ভিডিওতে দেখা যায়, এ সময় জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে আবার বেলকনিতে দেখা যায়। মাস্ক খুলে, নেভি ব্লু রঙের স্যুট ঠিকঠাক করে, চিবুক উঁচিয়ে ছবির জন্য পোজ দেন তিনি। এরপর সামরিক কায়দায় হেলিকপ্টারের প্রতি স্যালুট ঠোকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ট্রাম্প পরিচালিত, সুশৃঙ্খল কোরিওগ্রাফির অংশ হিসেবেই এ দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়েছে। এরপর ভেতরে চলে যান মাস্কহীন ট্রাম্প। ফেরেন একজন ক্যামেরাম্যানকে সঙ্গে নিয়ে। এ সময়ও তাঁর মুখে মাস্ক ছিল না। পরে টুইটার ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘করোনাকে আপনাদের জীবনের রাশ হাতে নিতে দেবেন না! একে ভয় পাবেন না। আপনি একে পরাজিত করবেন। আমাদের সেরা মেডিক্যাল সরঞ্জাম রয়েছে। সম্প্রতি সেরা ওষুধও তৈরি করেছি আমরা।’ যদিও করোনা আক্রান্তদের জন্য সাধারণ যে নির্দেশনা রয়েছে তার ছিটেফোঁটাও তিনি নিজেই মানেননি। যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ ১০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্পের ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণেই এই দুরবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত দেশটি। ওই টুইটে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি যা করছি বিশ্বের কোনো নেতাই তা করতে পারবেন না। জানি, ঝুঁকি আছে। ভয় আছে। তবে আমি এখন অনেক ভালো আছি। আমার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হয়তো ভালো। আমি জানি না। তবে আপনাদের জীবনের রাশ এর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। বাইরে বের হন। সাবধানে থাকুন।’ তিনি আরো বলেন, ২০ বছর আগের চেয়েও এখন তিনি টগবগে বোধ করছেন। ভোটের মাসখানেক আগের এই ঘটনাকে ট্রাম্প-শিবির ‘অক্টোবর সারপ্রাইজ’ বলে চালাতে চাইলেও, চিকিৎসকদের একাংশ কিন্তু ট্রাম্পের এই আচরণে বিরক্ত। প্রেসিডেন্ট নিজেই কভিড-প্রটোকল ভেঙেছেন বলে অভিযোগও আনলেন অনেকে। হাসপাতালে ট্রাম্পের চিকিৎসায় নিযুক্ত চিকিৎসক জেমস পি ফিলিপস বলেছেন, ‘পুরোটাই রাজনীতির নাটক। নেহাতই পাগলামি। তাঁর সংস্পর্শে আসা গোয়েন্দা সংস্থার সবাইকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে। তাঁরা অসুস্থ হতে পারেন, মৃত্যুও হতে পারে। কে দায় নেবে!’ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান থিংক ট্যাংকের সভাপতি নীরা ট্যান্ডন বলেন, ‘কোনো সাধারণ মানুষ এতটা স্বার্থপর হবে, আমি সেটাই কল্পনা করতে পারি না। আর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আমাদের রক্ষার দায়িত্ব তাঁর।’ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট সুস্থ হয়ে ওঠায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বিস্মিত হয়েছেন তাঁর টুইট দেখে। বাইডেন বলেন, ‘মাস্ককে তিনি গোনার মধ্যেই ধরেন না। কিন্তু মাস্ক একটি বিষয়। এটি জীবন বাঁচায়।’ তবে সবাই যে ট্রাম্পের সমালোচনা করছে, তেমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফাউচি প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থার উন্নতি স্বস্তিকর। তবে রোগের যে পর্যায়ে তিনি রয়েছেন তা যেকোনো সময় বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে।’ এসব কি শুধুই ভোটের টানে! জনপ্রিয়তার নিরিখে বাইডেনের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ট্রাম্প। তার ওপর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে প্রচারও মাথায় উঠেছে। অনেকে বলছেন, সব মিলিয়ে ভোটের মুখে তৈরি হওয়া হতাশার জন্যই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করলেন প্রেসিডেন্ট। সূত্র : বিবিসি, গার্ডিয়ান, এএফপি, সিএনএন।
সোমবার, 28 সেপ্টেম্বর 2020 00:00

অগ্রগতির পথে আলোকের রথে শেখ হাসিনা

লিখেছেন
॥ জাফর ওয়াজেদ ॥ বাংলাদেশ হতদরিদ্র অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে। এই করোনা মহামারিতেও বিশ্ব উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তা যে কারও কাছে অভাবনীয় মনে হতেই পারে। এক কথায় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং এর নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব পরিম-লে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। একটি পশ্চাৎপদ দেশকে উন্নয়নের কাতারে শামিল করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের মাঝে নিজের অবস্থানকে একটা অনন্য ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই আর্থ-সামাজিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থার উল্লেখযোগ্য উদ্বোধনের ফল। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ও তার নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মৈত্রীর ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থান। তিনি নানা আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক জোট এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্বের যে ভূমিকা রাখছেন তা তাকে বিশ্ব পরিম-লে নেতৃত্বের আসন লাভে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ, জি-সেভেনের মতো আসরে তার বিশেষ মর্যাদা এ কারণেই। এসব কারণেই তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রণীত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। বস্তুত, দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ইত্যাকার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিম-লে স্বাতন্ত্র্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোপরি লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দান এবং সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বমহলে প্রশংসিত হয়ে আসছে। কোভিড-১৯ তথা করোনাকালে দেশের জীবনযাত্রাকে সমুন্নত রেখে মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার মধ্যেও যেভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি প্রদর্শন করে আসছে, তাতে বিশ্ববাসী বিস্মিত হলেও শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা, সাহসী ভূমিকা অন্যতম উচ্চমাত্রা এনে দিয়েছে। বলা চলে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে আজ এক ‘রোল মডেল’ দেশে উন্নীত হয়েছে নানা দিক থেকে। তাই বাংলাদেশকে অনুসরণ করে অগ্রযাত্রার পথ তৈরিতে অনেক দেশই এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ নিজে যেমন স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন এখন অনেক দেশকেই দেখানো হচ্ছে। শুধু দেখা নয়, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পথনির্দেশিকা এবং সঠিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যাত্রাপথ মসৃণ না হলেও স্বপ্ন পূরণের পালায় চড়াই-উতরাই ভেঙ্গে বেরিয়ে আসছে উন্নতির অগ্রযাত্রায়। তাকে পাড়ি দিতে হবে আরও বহু পথ। সেই পথে যতই থাক কাঁটা বিছানো, তা উপড়ে ফেলার সক্ষমতাও ক্রমশ ধারণ করছে দেশটি। বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার চৌহদ্দি স্বদেশ ছাড়িয়ে এখন বিশ্বসভায় পৌঁছে গেছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক সূচকে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে সত্যিকারার্থেই উত্থান ঘটেছে দেশটির। যে কারণে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। তার সামনে এখন ২০২১ সালের চ্যালেঞ্জ। এই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার এবং উন্নয়নশীল দেশের পথে অগ্রযাত্রার যে লক্ষ্য স্থির করেছেন তা পূরণে কঠোর শ্রম বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বিশ্বের মাঝে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রটিও করতে হচ্ছে সম্প্রসারিত। এটা সত্যি যে, জনগণের সমর্থন ছাড়া পৃথিবীর কোন নেতারই শক্তি নেই উন্নয়নমূলক কোন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে ভাগ্যবান অবশ্যই। দেশের ১৭ কোটি মানুষের বড় অংশও শ্রমজীবী, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, কৃষিজীবীসহ পেশাজীবী এবং অন্যান্য স্তরের জনগণের সমর্থন পাচ্ছেন ব্যাপকার্থে। জনগণ দু’বেলা দু’মুঠো খাবার এখন পাচ্ছে নিয়মিতভাবে। তিনি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো জনগণের দরজায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। কোভিড-১৯ কালেও তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশবাসীর প্রতি। শেখ হাসিনা তাঁর এক লেখায় বলেছেন, ‘আমি জনগণের ক্ষমতার শক্তিতে বিশ্বাস করি।’ এই বিশ্বাসই তাকে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আর জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হতে পেরেছেন বলেই শত বাধা-বিঘœ সত্ত্বেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির রথ টেনে নিতে পারছেন। তাই দেখা যায় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি উর্ধমুখী। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। বেড়েছে গড় আয়ু। কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। বাড়ছে রফতানি আয়। উন্মোচিত হচ্ছে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি উপযোগী সময়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা সঠিক যে, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অকুণ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশকে যে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে এখন তাই বাংলাদেশের অবস্থান, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং শেখ হাসিনার উন্নয়ন নীতিমালা। বাংলাদেশের দ্রুত ও অভাবনীয় উন্নয়নে বিশ্বনেতারাও বিস্মিত। তাই তারা উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এটা বাংলাদেশের, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা ও অর্জনের স্বীকৃতি। আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নত দেশ থেকে অধিকতর সহায়তা উন্নয়নশীল দেশের অনুকূলে সঞ্চালন, উন্নত দেশসমূহের বাজার অনুন্নতের জন্য অধিকতর মাত্রায় উন্মুক্তকরণ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিহতকরণে উন্নত দেশসমূহকে বিশ্বব্যাপী অধিকতর কার্যক্ষম পদক্ষেপ নেয়া ও উন্নয়নশীল দেশে বিশ্ব উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে অধিকতর বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উন্নয়নে তার নিজস্ব কৌশল এবং ভবিষ্যত উন্নয়ন ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন। উন্নত অবকাঠামো বিনির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ে তার বৈশ্বিক চিন্তা উপস্থাপন করেছেন। ‘কানেক্টিভিটিকে’ সামনে রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আর পরিবেশ ইস্যুতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলের উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্যখাতে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য অর্জনে বাংলাদেশ এমডিজিতে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি এসডিজিতেও নেতৃত্ব দেবেÑ এই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে গোটা বিশ্বকে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কৌশলে জোর দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিশ্চিত করার বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। নারীকে নীতি প্রণয়ন ও রাজনীতিতে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করা, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার কথা তুলে ধরেছিলেন। নারীর ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিও তিনি স্পষ্ট করেছেন বিশ্বসমাজের কাছে। বিশ্বের পশ্চাৎপদ অংশের এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সব ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর। বাংলাদেশের পথচলা এক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও যে অনুকরণীয় হতে পারে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। দেশের উন্নয়ন, অর্জন ও সাফল্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সবার দায়িত্ব এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন। এ পথে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নানান সময় শেখ হাসিনাকে যে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছেন তা ১৭ কোটি বাঙালিকেও মর্যাদাবান করেছে। শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নশীল দেশের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার মধ্যে বাংলাদেশ নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে তা নয়। তার স্বপ্ন আরও দূরে, যেখানে বিশ্বের শিল্পোন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ শক্তির পাশে দাঁড়াতে পারবে। বাস্তবতা বলে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ যেভাবে সমৃদ্ধতর হয়ে উঠছে, অগ্রগতির সোপানে নিজেকে সম্প্রসারিত করছে, তাতে ২০৪১-এর অনেক আগেই ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশবাসীর মধ্যে শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন জাগরিত করেছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি উন্নততর বিশ্ব আরও উন্নত একটি গ্রহ এবং শান্তিপূর্ণ ও বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য জনগণের জীবনকে রূপান্তর করতে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা এ অঞ্চলের বাকিদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাই। উন্নত দেশের নেতারা আবারও প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ নানাভাবে। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথে তারা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনা যেভাবে প্রতিভাত করেছেন নিজের ইমেজ, সর্বত্র তার প্রতিফলন ঘটে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা সারাবিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট ছাড়াও বাণিজ্য ও সমুদ্রসম্পদ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন শেখ হাসিনা। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার পর সমুদ্রসম্পদ আহরণের জন্য বাংলাদেশ জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে কোন জ্ঞান বা প্রযুক্তি নেই, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সম্পদ আহরণ করতে পারে। তাই ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতাও চান তিনি। শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। বিশ্বজুড়ে শেখ হাসিনা যে অবস্থান তৈরি করেছেন তা বাঙালী জাতিকে এক উঁচু অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। বাঙালী তথা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। শুধু বিশ্বাস নয়, এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্যও। তাই তো ভুবনজুড়ে শেখ হাসিনার নাম আজ জ্বলজ্বল করছে। পাল তুলে দিয়েছেন নৌকার। পারি দিচ্ছেন অপার সাগরে। সব বাধা-বিঘ্ন দলিত করে বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে বিশ্বসভায় নিজস্ব অবস্থান গড়ে উঠেছে। এক নতুন বিশ্ব গড়ে তোলায় নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন এই করোনা মহামারিকালেও। কোন প্রতিবন্ধকতাই তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি, পারবেও না। অন্তহীন পথ ধরে তিনি চলেছেন মানব সভ্যতার বিকাশে আর সাম্যের বিস্তারে। জয়যাত্রায় তিনি সফলতাকেই ধারণ করেন। কারণ দেশবাসী রয়েছে তার সাথে। তিনিও ধারণ করেন দেশের মানুষকে। লেখক: জাফর ওয়াজেদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও মহাপরিচালক প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
॥ কানাই চক্রবর্ত্তী ॥ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিনটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের সুন্দরতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ একটি দিন। একইভাবে বলা চলে বাংলায় বক্তৃতা তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) সমগ্র জীবনের স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক পরিণতি। আগামী কাল ২৫ সেপ্টেম্বর সেই ঐতিহাসিক দিন, ৪৬ বছর আগে ১৯৭৪ সালের এইদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এর আগে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য দেশের মর্যাদা লাভ করে। এর মাত্র সাত দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বাংলায় ভাষণ দেন। জাতিসংঘে এটিই ছিল প্রথম বাংলায় ভাষণ। এর মাধ্যমে বাংলাভাষা বিশ্ব দরবারে পেয়েছে সম্মানের আসন, আর এই ভাষাভাষী মানুষ পেয়েছে গর্ব করার অবকাশ। অনেকেই মনে করেন, বিশ্বপরিসরে এর আগে বাংলা ভাষাকে এমন করে কেউ পরিচয় করিয়ে দেননি। এ ভাষণের আর একটি দিক হল এটি সমগ্র বিশ্বের অধিকারহারা শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও সাহসী পদক্ষেপ। ভারতের প্রখ্যাত লেখক ও গ্রন্থ সমালোচক সুরজিৎ দাশগুপ্ত জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিনটিকে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) জীবনের সুন্দরতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসাবে অবিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া সত্ত্বেও লাহোরে মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হলেন এই শর্তে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে। পাকিস্তানের স্বীকৃতির সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্বীকৃতি এবং এই সঙ্গে জাতিসংঘে প্রবেশের অধিকার আর বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অন্যতম ভাষারূপে প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ’ সৈয়দ বদরুল আহসানের ‘শেখ মুজিবুর রহমান : ফ্রম রেবেল টু ফাউন্ডিং ফাদার’ গ্রন্থেটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে প্রখ্যাত লেখক ও গ্রন্থ সমালোচক সুরজিৎ দাশগুপ্ত ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই মূল্যায়ন করেন। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লী থেকে। প্রকাশক নিয়োগী বুকস। গ্রন্থ আলোচনায় সুরজিৎ দাশগুপ্ত আরো বলেন, এটা ঘটনা যে, জাতিসংঘের দরবারে ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাই সারণি-স্বীকৃত ভাষা। স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাংলা ভাষার এই গৌরব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, এই ভাষার জন্যই ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ‘অমর একুশে’ এর ঐতিহাসিকতা অর্জন করে। এর ৪৮ বছর পর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সুরজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন শরৎচন্দ্র বসু, আবুল হাসিম, কামিনী কুমার দত্ত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ তৎকালীন বাংলার নেতৃবৃন্দ। তখন মুজিবুর ছিলেন সোহরাওয়ার্দীর একান্ত অনুগত। সেই সময় থেকে তিনিও স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বলেন, মুজিবুর কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে সেখানেও ছাত্রনেতা হলেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গ্রেফতার হন এবং ১৫ মার্চ মুক্তি পান। আবার আইন অমান্যের জন্য ১৯৪৯ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হন। মুক্তি পান ২৭ জুলাই। চার মাস পর খাদ্য আন্দোলনের নেতা হিসেবে আবার কারাবাস। বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন জেলে একটানা প্রায় দু’বছর বন্দি রেখে ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যখন তাকে মুক্তি দেয়া হয়, তখন তাঁকে স্ট্রেচারে করে বাড়ি নিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মুজিবুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ফিরলেন খাদ্যাভাবে হাহাকার ক্লিষ্ট, গুপ্ত মারণাস্ত্রে সজ্জিত তারুণ্যপরিবৃত, যাদের কেউ কেউ ধর্মান্ধতায় উগ্র, দেশের অন্দরে আর দেশের বাইরে আমেরিকা, চীন প্রভৃতি বিরূপ বিশ্বশক্তি সঙ্গে নিয়ে। এসবের সঙ্গে আছে পাকিস্তানে আটকেপড়া প্রায় এক লক্ষ বাংলাভাষী আর বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রায় আড়াই লক্ষ উর্দুভাষী এবং ভারতে হস্তান্তরিত যুদ্ধবন্দিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। তবে, এত কিছুর পরও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকীতে আইনের শাসন ও বহুত্ববাদের ভিত্তিতে গৃহিত হয় বাংলাদেশের সংবিধান। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ঐতিহাসিক এ দিনটির সূচনা হয় একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্ররূপে আনুষ্ঠানিকভাবে গহণ করা হয়। তিনি বলেন, এই ঘোষণাটি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘আমি সুখী হয়েছি যে, বাংলাদেশ জাতিসংঘে তার ন্যায্য আসন লাভ করেছে। জাতি আজ গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে, যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তাদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। সেই শহীদদের কথা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।’ প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই ২৯তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে অনুরোধ করা হয়েছিল, ইংরেজিতে বক্তৃতা করার জন্য। কিন্তু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সুগভীর দরদ ও মমত্ববোধ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তিনি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করতে চান।’ সিদ্ধান্তটি তিনি আগেই নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলা বক্তৃতার ইংরেজি ভাষান্তর করার গুরু দায়িত্বটি অর্পিত হয়েছিল ফারুক চৌধুরীর ওপর। তিনি ছিলেন লন্ডনে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার। তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেয়ার বঙ্গবন্ধুর এই সিদ্ধান্তটি ছিল তাঁর সমগ্র জীবনের স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক পরিণতি। সেদিন বক্তৃতারত বঙ্গবন্ধুর দিকে তাকিয়ে কেবলই মনে হয়েছে, তিনি যেন বহু যুগ ধরে এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় থেকে নিজকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতষ্ঠার জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও জাতির পিতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দিচ্ছেন। এবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (৭৫তম ) অধিবেশনে ভার্চূয়াল অংশ গ্রহনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
বিশেষ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন শীতকালে কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাসের পুনরাবৃত্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ব্যাপকভাবে মাস্ক পরার এবং দেশে মারাত্মক কোভিড-১৯-এর বিস্তার বন্ধে সকল নির্ধারিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এই মুহূর্ত থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপ যদি আসে, আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যদি সচেতন হই, তাহলে আমাদের জন্য এটা সুবিধাজনক হবে।’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে যেহেতু অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বরের প্রথম দিকে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সে সময় নিউমোনিয়া, জ¦র বা অ্যাজমার একটা প্রবণতা আসে, তাছাড়া কোভিড-১৯-এর যদি দ্বিতীয় ধাপ আসে তাহলে এটাকে প্রতিরোধ করতে মাঠ পর্যায়ে একটা প্রস্তুতি থাকতে হবে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ব্যাপকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে এবং শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি ঠান্ডার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। এরআগে সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সবাই দেশবাসীর মাস্ক ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটা আরো ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। কারণ, আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, দুই তরফ থেকেই যদি মাস্ক পরা থাকে তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপদ। আর এক তরফে থাকলে ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ নিরাপত্তা থাকে। সুতরাং মাস্ক পরায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আমরা বলে দিয়েছি গ্রাম-গঞ্জের মসজিদগুলোতে মাইকে প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে যেন ঘোষণা করা হয়-‘মাস্ক পরাটা রাষ্ট্রীয় একটা নির্দেশ এবং কল্যাণকর একটা নির্দেশ এবং এটি মেনে চলাটাও আমাদের একটা কর্তব্য। না হলে সরকার বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ আসার আগে সরকার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি একটি কাজে একটি মার্কেটে গিয়েছিলাম, আমি সেখানে বেশি লোককে মাস্ক পরতে দেখিনি। পরে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি আমরা ক্রসচেক করবো যে কোনো দিন, সে মার্কেটে যদি সবাইকে মাস্ক পরা না দেখি তাহলে উই উইল টেক অ্যাকশন।’ বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ মাস্ক কিনতে না পারলে বাড়িতে কাপড় দিয়ে সহজেই তা তৈরি করে নেওয়া যায়। মাস্ক যেন সবাই পরে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট চলছে।
রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2020 18:16

রাশিয়ার করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া সবাই সুস্থ!

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি তৈরি করেছে মারণভাইরাস করোনার একটি টিকা। তাদের করোনা ভ্যাকসিনটির নাম স্পুটনিক-ভি। করোনার ওই ভ্যাকসিনটির ট্রায়ালে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশ নিয়েছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ করার পর সকল অংশগ্রহণকারীই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন মস্কোর মেয়র সার্জি সোবায়ানিন। রবিবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবায়ানিন ‘রোসিয়া-১’ টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন, সরকারিভাবে নিবন্ধিত বিশ্বের প্রথম এই টিকার বড় আকারের চূড়ান্ত ট্রায়াল চলছে। এই ট্রায়ালে ৬০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার আগে বেশ কয়েক হাজার মানুষ মেডিক্যাল পরীক্ষাও করিয়েছেন। সের্গেই সোবায়ানিন বলেন, সাতশরও বেশি মানুষ করোনার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবাই সুস্থ রয়েছেন। তবে তিনি এর বেশি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো জানিয়েছিলেন, ভ্যাকসিন নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত বিরূপ প্রভাব দেখেনি। তবে প্রায় ১৪ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী ২৪ ঘণ্টা ধরে দুর্বলতা, মাংসপেশীতে ব্যথা অনুভব করেন। তাদের আবার মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বলেও জানানো হয়। সূত্র: আরটি।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা