07282021বুধ
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (1071)

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, একটি উদ্বোধনী খাম এবং একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, একই মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যের ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন। এই উপলক্ষে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন ও বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আজ থেকে ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে স্ট্যাম্প, উদ্বোধনী খাম এবং ডাটা কার্ড বিক্রি করা হবে এবং সেগুলো পরে দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘরে পাওয়া যাবে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে একে আবদুল মোমেন শনিবার বলেছেন, জাপান কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ধাপে ধাপে ৩০ লাখ ডোজেরও বেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড ভ্যাকসিন পাঠাবে। তিনি বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে (ভ্যাকসিন) সরবরাহের জন্য আমি বাংলাদেশের পক্ষে জাপানের সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) জাপানের রাষ্ট্রদূত নওকি ইতোর কাছ থেকে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান হিসাবে ২,৪৫,২০০ ডোজ গ্রহণ উপলক্ষে এ মন্তব্য করেন। ড. মোমেন বলেন, আগে জাপান বলেছিল, তারা বাংলাদেশে ২৯ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠাবে। তবে, পরে তারা আরও ১.৫ লাখ ডোজ যুক্ত করেছে, ফলে মোট পরিমাণ প্রায় ৩০.৫ লাখ ডোজ দাঁড়াচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৫ লাখ ডোজের দ্বিতীয় চালানটি আগামী শুক্রবার এখানে পৌঁছবে। ড. মোমেন বলেন, ভ্যাকসিনের এই চালানটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অক্সফোর্ডের তৈরি এ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ এপর্যন্ত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই) থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ১.২ কোটি ডোজ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশবাসীর জন্য টিকার অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ক্রয়ের পাশাপাশি কোভ্যাক্সেও আওতায় বিভিন্ন উৎস থেকে আরও বেশি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহের সুব্যবস্থা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী সংকটময় মাসগুলোতে দেশে ভ্যাকসিনের অভাব হবে না।’ কোভ্যাক্স হচ্ছে একটি বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ টি ভ্যাকসিনের ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্স গাভি পরিচালিত একটি বৈশ্বিক জেট। তবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা দেওয়ার জন্য দেশে ভ্যাকসিন সহ-উৎপাদনের দিকে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থানীয়ভাবে এটি (ভ্যাকসিন) উৎপাদন করতে হবে... অন্য কোন বিকল্প নেই। আমরা শিগগিরই উৎপাদনে যাব। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতিগি তোশিমিতসুর কাছে প্রেরিত এক চিঠিতে ডাব্লিউএইচও-ক্যোভাক্স ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশকে ৩০ লাখেরও বেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কোভিড-১৯ মহামারী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রত্যক্ষ বাজেট সহায়তাসহ জাপানের অব্যাহত সহায়তার কথা গভীর প্রশংসার সাথে স্বীকার করেছেন। মোমেন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে সম্পদের গতিশীলতা নিশ্চিতকরণে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে আমরা একটি বৈশ্বিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাই।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের ২২ জুন ভ্যাকসিন সামিট আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী সুগার নেতৃত্ব এবং মহামারী মোকাবেলায় ভ্যাকসিন ও তহবিলের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি উপলক্ষে উভয় দেশই এখন বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ককে ‘সার্বিক অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘কৌশলগত অংশীদারিত’' পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’ বাংলাদেশ জাপানকে একজন সত্যিকার ও বিশ্বস্ত বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী বিবেচনা করে একথা পুনঃনিশ্চিত করে মোমেন আশা প্রকাশ করেন যে চলমান কোভিড সহযোগিতা ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার ও গভীর করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোকিও অলিম্পিক গেমসের ব্যাপক সাফল্য কামনা করেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি আজ বুধবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি রিজিয়নের ধূপশীল আর্মি ক্যাম্প ও বান্দরবান রিজিয়নের রুমা জোন পরিদর্শন করেন। সেনাবাহিনী প্রধান ধূপশীল আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মোঃ সাইফুল আবেদীন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান রাঙ্গামাটির ধূপশীল সেনা ক্যাম্প ও বান্দরবানের রুমা জোন সদরের সকল সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা এবং কুশলাদি বিনিময় করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট চলমান সংকট মোকাবিলায় সকল পদবীর সেনাসদস্যদেরকে সরকার প্রদত্ত বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে পালনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে সেনা বাহিনী প্রধান উভয় ক্যাম্পেই গাছের চারা রোপণ করেন এবং রুমা জোন সদরে সকল সদস্যদের সাথে ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরিদর্শনকালে জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ছাড়াও সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন ও রুমা জোনের অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি: দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাকালে ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জনে জনে ঈদের শুভেচ্ছা তিনি ।৩৮ সেকেন্ডের একটি ভয়েস রেকর্ডে কোরবানির ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভয়েস রেকর্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, শেখ হাসিনা বলছি। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। করোনা ভাইরাস মহামারীর এই দুঃসময়ে সকল আঁধার কাটিয়ে ঈদ-উল-আজহা আপনার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ।’ ‘আসুন কোরবানির ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। আপনাকে ও আপনার পরিবারের সকলকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। করোনাভাইরাস রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদে থাকুন। ঈদ মোবারক।’
তাপস হালদার: ১৬ জুলাই গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবস। ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু বিএনপি জামাত ক্ষমতাকে আঁকড়ে রাখার জন্য নির্বাচনের নীল নকশা তৈরি করে। বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে দলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম হাসানকে তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান, আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন গঠন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করে পাতানো মঞ্চে নির্বাচনসবই ছিল সাজানো নাটক। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে কে এম হাসান দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় সংবিধানেরর চারটি উপধারা লঙ্ঘন করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে যান। তিনি পরিচিতি পান খালেদা জিয়ার ইয়েস উদ্দিন হিসেবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আন্দোলনে জনগণ ইয়াজউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। একদিকে যে কোনো মূল্যে নির্বাচন করার পাঁয়তারা, অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের যে কোনো মূল্যে নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা। জনগণ আর সরকার যখন মুখোমুখি, তখনই সশস্ত্র বাহিনীর হস্তক্ষেপে ইয়াজউদ্দিন তত্ত্বাবধায়কের প্রধান থেকে পদত্যাগ করেন। বিএনপি মনোনীত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময়ের সেনাপ্রধানও ছিলেন বিএনপির খুবই আস্থাভাজন। বিএনপি যে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোট তৈরি করেছিল, সেজন্য ভোটার লিস্ট সংশোধন করার অজুহাতে সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা একটু সময় চেয়েছিলেন। জনগণ তাতে সায়ও দিয়েছিল। কিন্তু অনির্বাচিত সরকার যখন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে যায়, তখনই ফন্দি আঁটে কীভাবে দুই নেত্রীকে মাইনাস করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। তিন উদ্দিনের সরকার প্রথমেই বুঝে ফেলে তাদের ক্ষমতাকাল দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা শেখ হাসিনা। তখন কিছু বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমে সংস্কারের ধুয়া তুলে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাজারে ছেড়ে দেয়। কিন্তু মাইনাস টুর আড়ালে মূল টার্গেট হলো মাইনাস ওয়ান, মানে শেখ হাসিনা। ব্যক্তিগত সফরে জননেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। তিনি রাজি হন। তখনই বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশে ফেরার উদ্যোগ নেন। নেত্রীর দেশে ফেরার খবরে উদ্বিগ্ন ও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সরকার। দেশরতœ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়। এর পরও যখন তিনি আরো দৃঢ় অবস্থান নেন, তখন সরকার ১৮ এপ্রিল ‘বিপজ্জনক ব্যক্তি’ হিসেবে দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞা জারি করে, সব এয়ারলাইনসকে বলে দেয় শেখ হাসিনাকে বহন করলে ঢাকায় তাদের ল্যান্ড করতে দেওয়া হবে না। তখন দেশরতœ শেখ হাসিনা আলজাজিরা টেলিভিশনে এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে আমার জন্ম, ঐ মাটিতেই আমার মৃত্যু হবে। যে কোনো ভয়ভীতি আমাকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।’ কোনো অপশক্তিই সেদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। ৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। জরুরি অবস্থা ও সরকারের কঠোর প্রতিরোধ উপেক্ষা করে লাখ লাখ জনতা বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে সংবর্ধনা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে বঙ্গবন্ধু ভবন হয়ে সুধা সদনে নিয়ে আসে। সরকার যখন দেখল কোনো বাধাতেই শেখ হাসিনাকে দাবিয়ে রাখা যাচ্ছে না, তখনই গ্রেফতার করার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয়। ১৬ জুলাই, সকালে অন্ধকার নেমে এসেছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভাগ্যাকাশে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের সভাপতি, জাতির পিতার কন্যাকে কোনো প্রকার পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা হলো। দেশরতœ শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন একটি হলো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বিশ্বস্ত জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান; অপরটি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান তিনি। আমার প্রিয় দেশবাসী,আমার সালাম নিবেন।আমাকে সরকার গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে কোথায় জানি না। আমি আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সারা জীবন সংগ্রাম করেছি। জীবনে কোনো অন্যায় করিনি। তার পরও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ওপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও আপনারা দেশবাসী, আপনাদের ওপর আমার ভরসা। আমার প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে আবেদন, কখনো মনোবল হারাবেন না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। যে যেভাবে আছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। মাথা নত করবেন না। সত্যের জয় হবেই। আমি আছি আপনাদের সাথে, আমৃত্যু থাকব। আমার ভাগ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, আপনারা বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। জয় জনগণের হবেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বই। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন। বঙ্গবন্ধুর কন্যার এই চিঠি জাতিকে প্রেরণা ও শক্তি দিয়েছে। নেতাকর্মীদের ঐক্য সুদৃঢ় ও মনোবল চাঙ্গা রাখতে সাহস জুগিয়েছিল। জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গ্রেফতারের পূর্বে যেমনিভাবে চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, ঠিক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশরতœ শেখ হাসিনাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তাানের কারাগারে ৯ মাস বন্দি থাকাকালে এদেশের মুক্তিকামী বাঙালি যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছিলেন, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর কন্যার ৩৩১ দিন কারাবাসের সময় আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মীরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি ও নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করেছিল। সেই থেকে শুরু। টানা তিন মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। জাতির পিতার অসম্পূর্ণ কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতি হয়েছে কলঙ্কমুক্ত। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণের মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য বাংলাদেশ। জিডিপিতে বিগত কয়েক বছরই দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। বাংলাদেশ শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও আন্তর্জাতিক বিশ্বে স্বীকৃত। ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা আজ বিশ্বমানবতার মা। করোনা মোকাবিলায়ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ সারা বিশ্বে অপার বিস্ময়ের নাম। ‘রূপকল্প-২০২১’-এ মধ্যম আয়ের দেশ বাস্তবায়ন করে ‘রূপকল্প-২০৪১-এর মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গঠনে দুর্বার দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। লেখক: সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন হলে দেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালে যদি আর নতুন রোগীকে জায়গা দেয়া না যায় তাহলে আমরা সবাই বিপদে পড়ে যাব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে এই বিধি-নিষেধ শিথিল করা সাপেক্ষে আমাদের সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আজ বুধবার দুপুরে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গত বছর থেকে বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট ও ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন নিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, বর্তমান সময়ের করুণতম পরিস্থিতির উপক্রমে আমরা চলে এসেছি। যেখানে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যু ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর একটি মূল জায়গা হলো টেস্ট। আমরা টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ডা. রোবেদ আমিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুই শ-এর উপরে মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি। এক দিনে শনাক্তের হারও অনেক বেশি এখন প্রায় ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রথম থেকে হিসাব করলে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আমাদের মৃত্যুর হারও বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে ঢাকায় এবং খুলনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। প্রথম থেকে হিসাব করলে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সংক্রমণের মাত্রা বরিশাল ও চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বরিশালে গত এক সপ্তাহে শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামে ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকায় অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। রাজশাহীতে সবচেয়ে কম যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাধ্যমে সংক্রমণের ঢেউ আমরা সবচেয়ে আগে দেখেছিলাম। সেখানে এখন মাত্রা ১৫ শতাংশ। এর কারণে হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আদর্শ বলা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল, প্রশাসন সহায়তা করেছে এবং প্রান্তিক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি পালন করেছে— দুই থেকে তিন সপ্তাহের স্থানীয় কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে তারা ৭২ শতাংশ থেকে সংক্রমণের হার ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যেসব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে তা কঠোরভাবে পালন করলে সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব। সারা বাংলাদেশে গত সাত দিনের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কিছুটা হলেও যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার মাধ্যমে সংক্রমণের মাত্রা ৩২ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে। জুলাই মাস অত্যন্ত কঠিন মাস। জুনে ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। জুলাইয়ের ১৪ দিনে আমরা এত রোগী পেয়ে গেছি। এই মাসের আরও ১৬ দিন বাকি আছে। যেহেতু সংক্রমণের মাত্রা এখন অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা যদি না নেয়া হয়, দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কিন্তু টানা এভাবে চলতে পারে। মৃত্যু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এভাবে চলতে পারে। হাসপাতালে যদি আর নতুন রোগীকে জায়গা দেয়া না যায় তাহলে আমরা সবাই বিপদে পড়ে যাব, বলেন ডা. রোবেদ আমিন। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলমান বিধি-নিষেধ ১৫ থেকে ২২ জুলাই আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে এই বিধি-নিষেধ শিথিল করা সাপেক্ষে আমাদের সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন গণপরিবহন, বাজার ও পশুরহাট এবং শপিং মলগুলো খোলা রাখা হয় সেটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বারবার কঠোরভাবে বলার চেষ্টা করছে। পরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেক করা না হলে সংক্রমণের মাত্রা কমার কোনো সুযোগ থাকবে না। ঢাকায় ১৭ থেকে ২১শে জুলাই পর্যন্ত কোরবানির পশুরহাট বসবে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হোক বা না হোক, আমাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। ভার্চুয়াল বুলেটিনে অংশ নিয়ে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, বিদেশে আমাদের অনেক ছেলে-মেয়ে পড়ালেখা করেন। করোনার কারণে তারা দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের ভ্যাকসিনের রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি পরিপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের হাতে এসেছে। বিদেশে অধ্যায়ণরত এসব শিক্ষার্থীদের করোনা রেজিস্ট্রেশনের আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে। তাদের ছাত্রত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট ও ভিসার কপি ২৭ই জুলাইয়ের মধ্যে ইমেইল করতে হবে। ডা. শামসুল হক আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন— এই চারটা ভ্যাকসিনই গ্রহণযোগ্য। প্রবাসীকর্মী যারা জনশক্তি ব্যুরোর মাধ্যমে ভ্যাকসিন পেতে নিবন্ধন করেছেন, এই চারটি ভ্যাকসিনের যে কোনো একটি গ্রহণ করে বিদেশে গেলে কোয়ারেন্টিন থাকতে হবে না। সৌদি আরবে যারা যাচ্ছেন তাদের জন্য এই চারটি ভ্যাকসিন প্রযোজ্য। সৌদি গেজেট থেকে একটি তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, সিনোফার্মের ভ্যাকসিন নিয়েও তাদের দেশে যায়া যাবে। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ফাইজারের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা মডার্নার টিকা সরবরাহ করেছি। অনেক জায়গায় সেই টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, বাকি কন্দ্রেগুলোতে দুএক দিনের মধ্যে শুরু হবে। আমাদের বিদেশগামী ভাইয়েরা সেই টিকা নিচ্ছেন না। এতে আমাদের সিস্টেমে ঝামেলা হয়ে যাবে। ফাইজারের যে ভ্যাকসিন ছিল, দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষণ করে আমরা প্রথম ডোজ বিতরণ করেছি। ইতিমধ্যে সব কেন্দ্রে পৌঁছেও গেছে। ফাইজারের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে মডার্নার টিকা চালু করায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রবাসীকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমরা মডার্নার ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি, আপনারা মডার্নার ভ্যাকসিন নেবেন। আমরা আরও অনুরোধ করবো, যাদের বিদেশে যাওয়ার দেরি আছে তারা পরে নিবন্ধন করবেন। আমাদের মধ্যে সংশয় কাজ করতে পারে কোন ভ্যাকসিন ভালো। সব ভ্যাকসিনই ভালো, কোনোটাই কোনোটার চেয়ে বেটার না বলেন ডা. শামসুল হক।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতবিদেক: করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে চলমান বিধিনিষেধে সরকারি অফিসের সব কার্যাক্রম ভার্চুয়ালি পরিচালনা করতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ রোববার বিভাগ থেকে সব সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে আরোপিত বিধিনিষেধে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হিসেবে সব জরুরি অফিস ও সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।’ ‘এক্ষেত্রে সব সরকারি অফিসের দাফতরিক কাজগুলো ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১ জুলাই থেকে সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। সংক্রমণ না কমায় বিধিনিষেধ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। এ সময় সরকারি কয়েকটি অফিসের দাফতরিক কাজ ভার্চুয়ালি চলছে। এবার করোনাকালে বন্ধ থাকা বাকি সরকারি অফিসের দাফতরিক কাজগুলো ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার, 06 জুলাই 2021 23:55

করোনা নিয়ে গুজব ছড়াবেন না: জয়

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, সচেতন থাকুন। এসময় করোনা নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব বলেন। করোনাভাইরাসের সতর্কতা বিষয়ক এ পোস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি সহায়তা ও ভ্যাকসিন সম্পর্কিত বিষয়াদিও তুলে ধরেন। কোনো তথ্য শুনে বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনের নাম্বারগুলো দেন। করোনাভাইরাস নিয়ে আতংকিত নয়, সচেতন থাকুন। কোন তথ্য শুনে বিশ্বাস করবেন না। আগে যাচাই করুন। গুজবে বিশ্বাস করবেন না, গুজব... Posted by Sajeeb Wazed on Tuesday, July 6, 2021 সজীব ওয়াজেদ জানিয়েছেন, জাতীয় তথ্য সেবা- ৩৩৩, স্বাস্থ্য বাতায়ন- ১৬২৬৩, আইইডিসিআর- ১০৬৫৫। এছাড়া তিনি আরও কিছু হটলাইন নাম্বার ০১৩১৩৭৯১১৩০, ০১৩১৩৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯, ০১৩১৩৭৯১১৪০, ০১৩২১১৭৩৮৬৫ উল্লেখ করেন।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: করোনাকালে জেলাওয়ারি স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় করতে সচিবদের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সরকারি দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এতে রাজনীতিবিদের কর্তৃত্ব ম্লান হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব দেওয়া হলেও সচিবদের অনেকই সংশ্লিষ্ট জেলায় যাননি। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন- ফেরাউনের সময়েও আমলা ছিল। তিনিও একজন আমলা ছিলেন। আমরা যেসব কথাবার্তা বলি, মানুষ এসব পছন্দ করে না।’ প্রবীণ এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম) এ এমপিরা সচিবদের ওপরে। বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির বন্ধুরা আছেন, দুঃখ পাবেন না। জাতির পিতার হত্যার পরে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন- আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেবো। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেটি করেছিলেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।’ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘করোনাকালীন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য... আমরা যারা জাতীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত। এমন একজনও নাই যিনি নিজস্ব অর্থায়নে বা যেকোনোভাবে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সবাই দাঁড়িয়েছেন, আমরাও দাঁড়িয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের জেলায় জেলায় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মানুষ মনে করে আমরা যা দিই, এগুলো দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অথচ প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিন্তু দেননি, অনেকই যাননি।’ প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমার নিজের জেলা ভোলায় যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি এখন পর্যন্ত যাননি। এটা কিন্তু ঠিক না! এটা একটা রাজনৈতিক সরকার। রাজনীতিবিদদের যে একটা কর্তৃত্ব বা কাজ, সেটা কিন্তু ম্লান হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান যেখানে আছে সেখানে থাকা উচিত। আমাদের জেলায় একজন সচিব যাবেন। তাকে গ্রহণ করবো, বরণ করে নেবো এটা ঠিক আছে। কিন্তু যারা একদিনের জন্যও যায় না। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। আর আমাদের মতো লোক আমরা... এগুলো আমি বললাম না।’
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি আজ বৃহস্পতিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন । তিনি পূর্বতন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি (বার), বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি, পিএইচডি এর নিকট হতে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে "গার্ড অব অনার' প্রদান করে এবং সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপন করেন।এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ”জেনারেল” র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ১ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে খুলনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতা-পূর্বকালে একনাগারে দুই যুগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে ৯ম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পরবর্তী তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানপূর্বক তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এ্যান্ড ষ্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাষ্টারস্ ইন ডিফেন্স ষ্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) হতে ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড সিকিউরিটি ষ্টাডিজ -এ প্রথম বিভাগে অসামান্য ফলাফলসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিইউপি এর অধীনে পিএইচডি সম্পন্নের উদ্দেশ্যে অধ্যয়নরত আছেন ।জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ প্রথম স্থান অধিকার এবং এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ২০১০ সালে সফলতার সাথে চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ) হতে ডিফেন্স এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজ কোর্স এবং মিরপুরে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এ্যান্ড স্টাফ কলেজ হতে আর্মি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি এনডিইউ, ওয়াশিংটন হতেও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।তাঁর বর্ণাঢ্য চাকুরি জীবনে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আমি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিষ্টিকস্ ফরমেশন এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন। এছাড়াও তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কমান্ড নিযুক্তিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ষ্টাডিজ (বিআইআইএস) এর মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড ন্যাশনস্ মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্যা সেন্ট্রাল আফ্রিকা (মিনুস্কা)তে বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এসআরএসজি কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হন। তিনি বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল এবং প্রশাসনিক ষ্টাফ অফিসারসহ সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) এর চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি সেনাসদরে কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা