05092021রবি
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (1050)

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: কোথায় পড়বে চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এ সপ্তাহেই এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে। এটি কোথায় আছড়ে পড়বে তা নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় না থাকাতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, ঠিক কখন এবং পৃথিবীর কোন অংশের দিকে এটি আছড়ে পড়তে যাচ্ছে তাও। বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে, গত ২৯শে এপ্রিল চীনের ওয়েনচ্যাং স্পেস স্টেশন থেকে লং মার্চ ফাইভবি রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশে এই রকেটের ধবংসাবশেষ এখন পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি ক্রমাগত পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে। মধ্যাকর্ষণের কারণে এটি এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে এসে পৃথিবীতে আঘাত হানবে। তবে বায়ুমণ্ডল স্থির না থাকায় হিসেব করে বের করা যাচ্ছে না ঠিক কোন অংশে এটি পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এখনই এটিকে মিসাইল ছুঁড়ে ধ্বংস করা হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেন, আমরা আশা করছি এটি এমন জায়গায় ধসে পড়বে যেখানে কারো ক্ষতি হবে না। আশা করি সমুদ্র বা এমন জনমানবহীন কোথাও পড়বে এটি। চীনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ ধরণের কোনো পরিকল্পনা এবং অভিযান পরিচালনার সময় অনেক কিছু মাথায় রাখা জরুরি ছিল। এদিকে, আর্থ অবজারভেটরি সিঙ্গাপুরের জেসন স্কট হেরিন জানান, মধ্যাকর্ষণ টানের ফলে এই ধ্বংসাবশেষ নীচের দিকে আরো ঘণ বায়ুমণ্ডলের দিকে নামতে থাকবে। এর ফলে মধ্যাকর্ষণ টান এবং নীচের দিকে নেমে আসার গতিবেগও বাড়বে। একবার এই প্রক্রিয়া শুরু হলে, বস্তুটি একটি একটি নির্দিষ্ট দিকে নীচের দিকে ধেয়ে আসতে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল ক্রমেই ঘন হতে থাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষের বেশিরভাগ আগুনে পুড়ে যাবে। যে অংশগুলো পুড়বে না সেগুলোই পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে। এটি কোথায় এসে পড়বে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বা সঠিক পূর্বাভাসও দেয়া যাবে না। এদিকে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল বলেন, মার্কিন বা ইউরোপীয় রকেটগুলো বিশেষভাবে নকশা করা হয়। ফলে এগুলো কক্ষপথে ছিটকে না পড়ে। আবার একটি রকেটের ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে রকেটটির মধ্যে সেই নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম থাকতে হবে। চীনের রকেটে এটি নেই। থাকলে রকেটের ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের মাঝখানে এবং জনমানব থেকে দূরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে যে ভেঙে পড়বে সেটা নিশ্চিত করা যেতো। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সবথেকে দূরের দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি এসব ধ্বংসাবশেষ ফেলার ক্ষেত্রে নিরাপদ। কারণ এই জায়গাটিকে মহাসাগরের দুর্গম মেরু বলা হয়।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বোমা বিস্ফোরণে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ আহত হয়েছেন। বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসভবনের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে তিনি আহত হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী এবং একজন বিদেশি নাগরিক আহত হন। দেশটির সংসদের ডেপুটি স্পিকার ইভা আবদুল্লাহ এক টুইট বার্তায় জানান, নিজ বাসভবনের বাইরে এক বিস্ফোরণে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় এডিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা যেকোনো খবর পাওয়া মাত্রই দেশের জনগণকে তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানাবো। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদ নাশিদ যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজ গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন পাশেই পার্ক করা একটি মোটরসাইকেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী এবং একজন বিদেশি নাগরিক আহত হন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশের ধারণা, সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ির কাছে পার্ক করা একটি মোটরসাইকেলে ইম্রোভাইস এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) জাতীয় বোমা রাখা ছিল। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থলটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সাধারণ মানুষকে চলাচলে এলাকাটি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মালদ্বীপের পরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শাহীদ। এছাড়া এক টুইট বার্তায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মোহাম্মদ নাশিদের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি মালদ্বীপের পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি। - দ্য হিন্দু
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা: পদ্মায় স্পিডবোট ডুবিতে পিতা-মাতা ও দুই বোনকে হারিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশু মিম। আজ সকালে দুর্ঘটনার পর নদীতে একটি ব্যাগ ধরে ভাসছিল মিম। এসময় নৌপুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে। সোমবার দুপুরে শিবচরের পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু মিম শিবচর ইউএনও অফিসের এক কর্মচারি ও বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের নৈশ প্রহরী দেলোয়ার ফকিরের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের একটি কক্ষে দুপুরের ভাত খাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশু মিমের বাবা মনির হোসেন, মা হেনা বেগম, ছোট দুই বোন সুমি (৫) ও রুমি (৩) স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মিমকে উদ্ধারকারী নৌ পুলিশের কনস্টেবল মেহেদী বলেন, 'শিশুটিকে নদীতে ব্যাগ ধরে ভাসতে দেখি। হাত ও চোখের কাছে আঘাতের চিহ্ন ছিল সামান্য। দ্রুত তাকে পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির পরিবারের সকল সদস্যরাই মারা গেছে।' শিশু মিম শুধু জানে তার মা, বাবা, বোনেরা কেউ বেঁচে নেই। মাঝে মাঝেই মা মা বলে কেঁদে উঠছে সে। কান্নারত অবস্থায় মিম বলে, আমরা দাদু বাড়ি যাচ্ছিলাম। দাদা মারা গেছে। তাকে দেখতে। আমার আর কেউ নাই। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে এসে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: মহান মে দিবস আজ। সবার যখন সাধারণ ছুটি এর মাঝেও থেমে ছিলো না স্বপ্নের পদ্মা সেতু ঘিরে শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। এই কাজে অংশ নিতে পেরে শ্রমিকরা বেজায় খুশি। কারণ স্বপ্নের সেতুর দুই প্রান্তের ৪৩৮টি সুপার গার্ডারের সবশেষ গার্ডারটিও বসছে মাওয়া প্রান্তে। এই গার্ডারটি বসার পরই সংযোগ সেতু পূর্ণাঙ্গ দৃশ্যমান হয়। শনিবার (১ মে) এ গার্ডার বসার মধ্য দিয়ে মূল সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সেতুর সোয়া তিন কিলোমিটারেরও বেশি দৃশ্যমান হয়। মাওয়া প্রান্তে এই গার্ডারটি বসার পরই সংযোগ সেতু পূর্ণাঙ্গ দৃশ্যমান হয়। সংযোগ সেতু্টি পদ্মার দুই পাড়ের সঙ্গে মেলবন্ধনের সেই স্মরণীয় মুহূর্ত ঘিরে চলছে কর্মযজ্ঞ। শ্রমিকরা ৩৮ মিটার দীর্ঘ ও ৮৪ মেট্রিক টন ওজনের গার্ডারটি বসাতে কাজ করে যাচ্ছেন। সেতুর ভায়াডাক্টের মাওয়া প্রান্তে সবশেষ ৪৩৮তম সুপার গার্ডারটি বসানো হয়েছে। মূল সেতু দৃশ্যমান হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই সংযোগ সেতুও পূর্ণাঙ্গ দৃশ্যমান হচ্ছে। পুরো সেতুর অবকাঠামো মাওয়াকে জাজিরার সঙ্গে যুক্ত করছে। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সংযোগ সেতু ১৪৭৮ এবং জাজিরা প্রান্তে ১৬৭০ মিটার। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী গণমাধ্যমকে বলেন, এই গার্ডারটি বসে গেলে মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তের সংযোগের আর কোনো বাধা থাকবে না এবং পদ্মা সেতু প্রকল্প আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
শনিবার, 01 মে 2021 09:23

আজ মহান মে দিবস

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মালিক-শ্রমিক নির্বিশেষ মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’। মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত মহামারিতে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল থাবা আঘাত হেনেছে। ফলে গভীর সংকটে পড়েছে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসহ দেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। এ পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে থেকে ত্রাণকাজ পরিচালনাসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তাই কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার উদ্যোগ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে এবং আইএলও-র ৬টি কোর কনভেনশনসহ ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে। এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় এক অনন্য মাইলফলক। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে সকলকে দলমত নির্বিশেষে একাত্ম হতে হবে। এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক-মালিক স¤প্রীতি দেশের উন্নয়নের পথকে তরান্বিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার সংকট মোকাবিলায় শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।” তিনি বলেন, ‘রপ্তনিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২০ বাস্তবায়নের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিতকরতে হবে।’ মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করবে। এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় চলমান সংকটে কর্মহীন, খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সকল বিত্তবান ও স্বচ্ছল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি। এতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে সারাবিশ্ব এক মানবিক সংকটের সম্মুখীন। মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবন-জীবিকাও। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে খেটে খাওয়া, দিনমজুর কর্মহীন এইসব মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবং সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ খেটে-খাওয়া দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি (অব.): ডেটলাইন ২৭ জুন, ১৯৭৫। স্বর্গীয় মাধুরীতে ভরা এখন ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকাল। প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের বন্যা বইছে। কিন্তু এর চেয়েও আনন্দের বন্যা আজ ব্রিটেনের রয়াল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টের ক্যাডেটদের মনে-প্রাণে। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড মিলিটারি কোর্স-৮-এর প্রার্থিত সভরিন (পার্সিং আউট) প্যারেড। প্যারেড রিভিউ করছেন রাজকুমারী এলিস, ডাচেস অব গ্লুচেস্টার। বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছেন তিনজন গর্বিত তরুণ। তাঁদের দুজন হলেন—অফিসার ক্যাডেট আলাউদ্দিন মো. আবদুল ওয়াদুদ (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল) ও মাসুদুল হাসান (পরবর্তী সময়ে ক্যাপ্টেন)। তৃতীয় তরুণের নাম শেখ জামাল। তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র। ১ আগস্ট, ১৯৭৫ থেকে স্যান্ডহার্স্টে রেগুলার ক্যারিয়ার কোর্স শুরু হবে। শেখ জামাল এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও অংশ নিচ্ছেন না। কারণ তাঁর দুই প্রিয় বন্ধু বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন। আর রয়েছে মায়ের জন্য গভীর টান। মাত্র দেড় মাস পর এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনকে তছনছ করে দেবে। প্যারেডের শেষ পর্যায়ে অর্কেস্ট্রায় স্কটিশ বিদায় সংগীত ‘ওল্ড লং সিনস’-এর (পুরনো সেই দিনের কথা) সুর বেজে উঠেছে। ক্যাডেটরা সারিবদ্ধভাবে প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মার্চ করে ওল্ড কলেজের সিঁড়ি অতিক্রম করলেন। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের তিন তরুণের ক্যাডেট থেকে কাঙ্ক্ষিত আর্মি অফিসারে রূপান্তর ঘটল। ব্রিটিশ পত্র-পত্রিকায় কমিশনপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তিনজন তরুণের ছবি ছাপা হলো। ছবিটি বিশ্বকে এক প্রতীকী বার্তা দিয়েছিল—লাখো প্রাণের বিনিময়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে চায়। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৪। রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছেন যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো। শেখ জামালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রবল আগ্রহ দেখে টিটো তাঁকে যুগোস্লাভ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। ১৯৭৪ সালের বসন্তে ঢাকা কলেজের ছাত্র ও একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল যুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু একেবারে ভিন্ন পরিবেশ, প্রতিকূল আবহাওয়া আর ভাষার অসুবিধার কারণে সেখানকার প্রশিক্ষণের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো শেখ জামালের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মার্শাল টিটো শেখ জামালকে ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরামর্শ দেন। ১৯৭৪ সালের শরতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামরিক একাডেমি স্যান্ডহার্স্টে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে শেখ জামাল লন্ডনে এসে পৌঁছান। তবে স্যান্ডহার্স্টের পূর্বশর্ত হিসেবে জামালকে (ব্রিটেনের) আর্মি স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজ, বেকনসফিল্ড থেকে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রশিক্ষণ (ইংরেজি ভাষার দক্ষতা ও মৌলিক সামরিক বিষয়) গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। স্যান্ডহার্স্টে (১৮১২) ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসারদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। স্যান্ডহার্স্ট লন্ডনের ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এ সময় স্যান্ডহার্স্টের কমান্ড্যান্ট ছিলেন মেজর জেনারেল রবার্ট ফোর্ড। এখানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের তিনজন তরুণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আসেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আলোকে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম দুজন ক্যাডেট (ক্যাডেট শফি মোহাম্মদ মেহবুব, পরবর্তী সময়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাডেট লুেফ কামাল, সে. লে.) স্যান্ডহার্স্টে যোগদান করেন ও ১৯৭৪ সালে কমিশন লাভ করেন। এই কোর্সের মেয়াদ ছিল প্রায় ছয় মাস (৩ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুন, ১৯৭৫)। ৪০০ জন ক্যাডেটের মধ্যে বিদেশি ক্যাডেটের সংখ্যা ছিল ৩০। আন্তর্জাতিক পরিবেশে খুব অল্প সময়ে নিজেদের মানিয়ে নেন থ্রি মাসকেটিয়ার্স। সামরিক একাডেমির প্রশিক্ষণ ছিল অত্যন্ত বাস্তবধর্মী, কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং। কঠিন ট্রেনিংয়ের মধ্যে রোমাঞ্চকর ঘটনাও ঘটে। কোর্সের একজন প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন মার্ক ফিলিপস, আলোচিত রাজকুমারী অ্যানের স্বামী। একদিন সিগন্যাল এক্সারসাইজ চলাকালে ক্লান্ত একদল ক্যাডেটের মাঝে হঠাৎ সাদা ঘোড়ায় চড়ে উদয় হলেন বিখ্যাত অশ্বারোহী রাজকুমারী অ্যান। প্রিন্সেস ঘোড়া থেকে নেমে নিজের পরিচয় দিয়ে একজন বাঙালি ক্যাডেটের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেন ও হাতের গ্লাভস খুলে হ্যান্ডশেক করলেন। এরপর ঘোড়া দাবড়ে পাহাড়ের আড়ালে মুহূর্তে হাওয়া হয়ে গেলেন রূপকথার রাজকুমারীর মতো। স্যান্ডহার্স্টের প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বহিরঙ্গ অনুশীলন (এক্সারসাইজ)। এগুলো ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। যেখানে ক্যাডেটদের উদ্যোগ ও কষ্টসহিষ্ণুতা প্রত্যাশিত ছিল। প্রথম দিকের অন্যতম এক্সারসাইজ হলো এক্সারসাইজ টেন্ডার ফুট গ্রিন। এই এক্সারসাইজে ক্যাডেটরা সারা দিন পাহাড়ি এলাকায় হেঁটেছিলেন। ক্যাডেটদের পেট্রলিং এক্সারসাইজ পরিচালিত হয়েছিল ডার্টমুর এলাকায়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে ক্যাডেটদের শুধু কম্পাসের সাহায্যে পথ চলতে হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের মে মাসের শেষের দিকে স্যান্ডহার্স্ট থেকে ক্যাডেটরা রণকৌশলগত চূড়ান্ত অনুশীলনে (এক্সারসাইজ ডাইনামিক ভিক্টোরি) অংশগ্রহণ করতে পশ্চিম জার্মানিতে (ব্রিটিশ আর্মি অন রাইন) যান। পশ্চিম জার্মানির পশ্চিম অঞ্চলের এক ছোট্ট এয়ারপোর্টে ক্যাডেটদের বহনকারী প্লেনটি ল্যান্ড করে। জার্মানিতে নেমে ক্যাডেট মাসুদের মনে পড়ে লেখক এরিক মারিয়া রেমার্কের যুদ্ধবিরোধী বিখ্যাত উপন্যাস—‘অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’-এর নায়ক সৈনিক পল বোমারের কথা। তাঁর মনে হয়, কাছে হয়তো ছিল ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চল)। কত দুপুর এই উপন্যাসের নায়ক পলের সঙ্গী হয়ে সেই ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের দুঃসাহসিক অভিযানে গেছেন। এই অনুশীলনকে রীতিমতো যুদ্ধই বলা যায়। গায়ে কমব্যাট ইউনিফর্ম, হাতে রাইফেল, পিঠে হ্যাভার স্যাক পরে জামাল পুরোপুরি যোদ্ধা। কখনো পাহাড়ি এলাকা, কখনো অরণ্য, কখনো খোলা প্রান্তরে চলে দুঃসাহসিক অনুশীলন। সারা দিন প্রতিরক্ষায় ট্রেঞ্চে বসে থাকা। ভোররাতে পরিচালিত হলো গোর্খা ব্যাটালিয়নের আক্রমণ। আকাশে শত্রুর বিমান। ট্রেঞ্চের কিছু দূরে আর্টিলারি শেল পড়ছে। চলছে লাইভ ফায়ারিং। শত্রুদের হটিয়ে এবার এগিয়ে যেতে হবে। পাইন বৃক্ষশোভিত অরণ্যময় এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে রেপলিং করে নামতে হলো কয়েক শ ফুট। কখনো শত্রুর প্রতিরক্ষায় বেপরোয়া আক্রমণ। বেশ কিছু বছর বিরতির পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ক্যাডেটরা আবার স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। ১৯৭৫-এর পর এই পর্যন্ত আরো ১১ জন বাংলাদেশি অফিসার এই একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেছেন। এর মধ্যে দুজন নারী অফিসার (মেজর নাফিদাত হোসাইন ও মেজর নওশীন আনজুমান) রয়েছেন। স্যান্ডহার্স্ট একাডেমি থেকে ফিরে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের পোস্টিং হলো ঢাকা সেনানিবাসের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলে। এখানে তাঁর চাকরিকাল ছিল প্রায় দেড় মাস। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে তিনি চমৎকার পেশাগত দক্ষতা ও আন্তরিকতার ছাপ রেখেছিলেন। কয়েক সপ্তাহেই তিনি অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে তাঁদেরই একজন হয়ে ওঠেন। ১৪ আগস্ট রাতে ব্যাটালিয়ন ডিউটি অফিসার হিসেবে ক্যান্টনমেন্টে আসেন তিনি। নায়েব সুবেদার বার্কি বলেন, ‘স্যার, অনেক রাত হয়েছে; আজ রাতে ইউনিটেই থেকে যান। কিন্তু রাতে আর সেনানিবাসে থাকা হয় না শেখ জামালের। তিনি ফিরে আসেন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে। বাংলাদেশের কলঙ্ক ‘ঘাতক দল’ ততক্ষণে প্রস্তুতি নিচ্ছে শতাব্দীর এক নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের জন্য। শেখ জামালের জীবন ছিল খুব সংক্ষিপ্ত : ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ থেকে ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫। শেখ জামাল এখন ঘুমিয়ে আছেন বনানী কবরস্থানে। তাঁর পাশেই ঘুমিয়ে আছেন প্রাণপ্রিয় স্ত্রী রোজী জামাল, যাঁর হাতের তাজা মেহেদির রং বুকের তাজা রক্তে একাকার হয়ে গিয়েছিল। শেখ জামালের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের অযুত ভালোবাসা, গর্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে পেশাগতভাবে দক্ষ ও চৌকস বাহিনী হিসেবে। তিনি সেনাবাহিনীর এই মহৎ অর্জনগুলো দেখে কত না আনন্দিত হতেন। আজ তাঁর জন্মদিন। আজকের এই বিশেষ দিনে একজন অকালপ্রয়াত কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, স্মার্ট সেনা অফিসার, বন্ধু-অন্তপ্রাণ ও সাহসী তরুণের কথা স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়। লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, স্যালুট টু ইউ স্যার। লেখক : দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের সাবেক অধিনায়ক এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতিসংঘ-এসকেপের ৭৭তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব পেশ করে কোভিড-১৯ মহামারী থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়ন অংশীদারদের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ৭৭তম বার্ষিক জাতিসংঘ-এসকেপ অধিবেশনে প্রচারিত তার ধারণকৃত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পন্থা, দক্ষ নীতি এবং কৌশল গ্রহনের আহ্বান জানান। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকেপ) তিন দিনের ৭৭তম অধিবেশন আজ-‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তোরণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের ওপর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে টেকসই প্রত্যাবাসনের দিকে মনোনিবেশ এবং যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএফএস) কোভিড মহামারী থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসা উচিত। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পদ্ধতি হওয়া উচিত যে কোনও সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তেরণের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং পরিবেশ বান্ধব। শেখ হাসিনা তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচিত একটি শক্তিশালী ও সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দক্ষ নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা। চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি ও আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মিয়ানমার থেকে ১১ লক্ষেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তচ্যূত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য এই বিষয়ে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করেছে। প্রায় ২ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন আরও হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন মহামারী অনেক মানুষকে আরও দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরও অনেকে দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ এর আক্রমণ মোকাবিলায় তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, চাকরি ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের জিডিপির প্রায় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রায় ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশকে অবাধ ও টেকসই এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার দিকে গতিপথ নির্ধারণের কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে পারস্পারিক সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বাধিক টেকসই উপায় বলে মনে করে। আমরা সার্ক (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন), বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন), বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল), বিসিআইএম-ইসি (বাংলাদেশ, চায়না, ইন্ডিয়া ও মিয়ানমার ইকোনোমিক কোরিডোর) এবং ট্রিলেটারেল হাইওয়ের সাথে আমরা যুক্ত আছি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের সাথে অংশিদারিত্বের মাধ্যমে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ এবং এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের ইএসসিএপি-এর উদ্যোগের একনিষ্ঠ সমর্থক।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত কাগজ-বিহীন বাণিজ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, পিপিপি নেটওয়ার্কিং ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীসহ ইউএন-ইএসসিএপি-এর অন্যান্য উদ্যোগের সাথেও সক্রিয়ভাবে জড়িত আছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন অর্জনে অঙ্গীকারাবন্ধ।’ এসকাপ ইউনাইটেড নেশনস ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশাল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত পাঁচটি আঞ্চলিক কমিশনের অন্যতম। এই কমিশন ৫৩ সদস্য ও ৯ অ্যাসোসিয়েট সদস্য নিয়ে গঠিত। সদস্যদের অধিকাংশই এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনি, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিইয়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ইউদোদো, কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট তানেতি মামুয়া, কির্গিজ রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভ, মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডেভিড কাবুয়া, মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট বাতুলগা খালতমা, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন এবং তুভালুর প্রধানমন্ত্রী ও প্যাসিফিক আইল্যান্ড ফোরামের চেয়ার কাউসেয়া নাতানো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন। এর আগে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন- জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস, থাইল্যা-ের প্রধানমন্ত্রী জেনারেল প্রায়উত চ্যান-উ-চা (অবঃ), জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও ইএসসিএপি’র নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সভাপতি ভলকান বোজকির, ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশাল কাউন্সিলের সভাপতি মুনির আকরাম। উদ্বোধনী অধিবেশনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন, ফিজি’র প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া ভোরেক বাইনিমারামারা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মহিন্দ রাজাপাকসে এবং উজবেকস্তানের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আরিপোভ ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের কর্মসূচির আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সংগঠনটির অন্যতম নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী গোপন বৈঠক করেছিলেন। শাপলা চত্বরে তাণ্ডব স্থায়ী হলে বিএনপি-জামায়াত তাতে যোগ দেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি সফল করতে অর্থের যোগানদাতাও ছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে এসব কথা। গেল ১৪ এপ্রিল লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলামকে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনেরও চেয়ারম্যান। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ফখরুল। জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতের এই নেতা পুলিশকে দিয়েয়েন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির আগে দফায় দফায় বৈঠক হয় বিএনপির সঙ্গে। বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও এক জামায়াত নেতার সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক হয়েছিল। খোকার বাসা ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসে ওই বৈঠক হয়। সেখানে হেফাজত নেতাদের টাকা-পয়সা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, তাদের ১৩ দফা বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের আন্দোলন করা হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, 'ফখরুলকে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতের সাথে কার কার কথা হয়েছে, কারা কারা তাদেরকে অর্থ সহযোগিতা করেছে এবং শাপলা চত্বরে বসে যাওয়ার কারা কারা তাদের সাপোর্ট দিয়েছিল এই বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে।' ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর গোপন বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনা হয়- শাপলা চত্বরে কর্মসূচি স্থায়ী হলে বিএনপি-জামায়াত তাতে যোগ দেবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, '২০১৩ সালে হেফাজত যে তাণ্ডব চালিয়েছিল। তখন সরকারের বিরুদ্ধে বড় একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রে কারা অংশগ্রহণ করেছে সে কথাও উঠে এসেছে। তখনকার জাতীয়তাবাদী দলের সাথে দলের চেয়ারপার্সন সহ অনেকের সাথে বাবু নগরীর মিটিং হয়েছিল।' তবে বিএনপি বলছে, আদালতে প্রমাণ হওয়ার আগে গণমাধ্যমে কিছু আসলে তার দায় নেবে না দলটি। জিজ্ঞাসাবাদে ফখরুল পুলিশকে আরও জানান, বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা সেদিনের হেফাজতের তাণ্ডবে জড়িয়ে ছিল।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালতে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন। আদালত ইউনুছ আলী আকন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গতকাল আপনি এ বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। আপনি কেন এসেছেন। এ পর্যায়ে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আমার মেয়েও এক চিকিৎসক। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যেও চিকিৎসক রয়েছেন। আদালত চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। আবার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া সমীচীন হয়নি। দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয়। উল্লেখ্য, গত রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও মানবজমিনের ফেসবুক পেজে আপ করা হয়। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। এ ঘটনায় গতকাল দুই পেশাজীবী সংগঠন পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ। অন্যদিকে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ বাড়ছে। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (১৯ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি লকডাউনের মেয়াদ আরও সাতদিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সাইন্টিফিক্যালি তো ১৪ বা ১৫ দিন লকডাউন না হলে সংক্রমণের চেইনটা পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আগের শর্ত মেনে ‌‘লকডাউন’ কন্টিনিউ (অব্যাহত) করবে। বিধিনিষেধ আরও সাতদিন বাড়লো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি পাঠানো হয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলে প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে যাবে। আজকেও প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। ফরহাদ হোসেন বলেন, সংক্রমণ ম্যানেজ করাটা আমাদের উদ্দেশ্য, ব্যবসায়ীরা যাতে ঈদের ব্যবসাটা করতে পারে। সেটা মাথায় রেখেই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, পরিস্থিতি কী হয় সেটা বিবেচনা করেই পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা মনে করছি আরও (লকডাউন) সাতদিন দিলে সংক্রমণটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।