12072021মঙ্গল
শুক্রবার, 10 সেপ্টেম্বর 2021 10:11

‌নগদ একাউন্টে গ্রাহকের ফেরত আসা টাকা তুলতে পারছে না গ্রাহক!

সিদ্দিকুর রহমান : মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস নিয়োজিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান নগদ এর হিসাবে (একাউন্ট) গ্রাহকের ফেরত আসা টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ ‘নগদ’ এসব হিসাব বিনা কারণে বন্ধ করেছে। এজন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। খুব শিগগিরই এর সুরাহা চান ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক বলে আইনি পথে হাটছে নগদ। এই পদক্ষেপকে গ্রাহকদের সঙ্গে ‘অন্যায্য’ আচরণ হিসাবে দেখছেন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহে নগদ সেবার মাধ্যমে যারা টাকা দিয়েছিলেন, টাকা ফেরত আসার পর তাদের অনেকের হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে নগদ। এরফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। খুলনার শেখ রিয়াদ মাহমুদ জানান, নগদ দিয়ে সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপে কেনাকাটা করলে ২০-২৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যেত। তিনি গত জুনে আমি নগদ দিয়ে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা মোবাইল ফোন কেনার অর্ডার করেন। মোবাইল দিতে না পেরে তারা নগদ হিসাবে টাকা ফেরত দেয়। কিন্ত এখন নগদ সেই টাকা তুলতে দিচ্ছে না, হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে নগদের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করে মোটরসাইকেলের জন্য অর্ডার করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদেমুল ইসলাম। এখন নগদে টাকা ফেরত এলেও তুলতে পারছেন না। তার হিসাবে রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের ফারুক হোসেনও সিরাজগঞ্জ শপ থেকে মোবাইল কিনতে নগদের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত পেয়েছেন কিন্তু হিসাব বন্ধ থাকায় টাকা তুলতে পারছেন না। এদিকে ‘নগদ’-এর হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার সওকত আলী (অব.) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যাচাই-বাছাই করে কিছু কিছু অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে অ্যাকাউন্টের তথ্য একাধিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন স্থগিত করেছে নগদ। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হলে অ্যাকাউন্টগুলো পুনরায় চালু করে দেওয়া হবে। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যেই দেশে মোবাইল ফোনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘নগদ’ এখন বেশ পরিচিত একটি নাম। বেশ প্রশংসনীয়ভাবেই নগদ বাজারের বড় একটা অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এখনো নগদের মালিকানা ও ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে ডাক অধিদফতরের সেবা হিসেবে পরিচিত হলেও, আদতে এর মালিকানায় সম্পৃক্ততা নেই ডাক অধিদফতরের। এই ব্র্যান্ডই মূলত নগদের এতো অল্প সময়ে মানুষের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জনের প্রধাণ কারণ। তবে এই আলোচিত অবস্থানের পরেও সগৌরবে কার্যক্রম চালাচ্ছে নগদ। যদিও সম্প্রতি নগদকে পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ই-কর্মাসের অর্থ ফেরত সংক্রান্ত জটিলতায় ফের আলোচনায় ঘি ঢেলেছে নগদ। নগদকে সরকারের ডাক অধিদফতর সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও এর মালিকানায় ডাক অধিদফতরের কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার আর্থিক সেবা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন নেই নগদের। এই অবস্থায় নগদের সেবাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে এটাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে নগদের ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে ডাক অধিদফতরের কাছে। বাকি ৪৯ শতাংশ পাবেন এখনকার মালিকেরা। নগদকে আইনি কাঠামোয় আনার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত এমন পরিকল্পনাই করেছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) সিরাজ উদ্দিন বলেন, নগদ এখন ডাক অধিদফতরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এতে ডাক অধিদফতরের কোনো মালিকানা নেই। তাই ৫১ শতাংশ মালিকানা নিতে ডাক অধিদফতরের অধীনে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এরপর ৯ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে। পর্ষদে চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালক হবেন সরকারের প্রতিনিধি। মোবাইলে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) বিকাশের পরই এখন নগদের অবস্থান। সেবাটির মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসার কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন নগদের।
পড়া হয়েছে 42 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 10 সেপ্টেম্বর 2021 12:30

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা