08152020শনি
সোমবার, 13 জানুয়ারী 2020 17:26

মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা মা ও ছেলে নিহত

মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা মা ও ছেলে নিহত মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষ। মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা মা ও ছেলে নিহত মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষ।
বরিশাল সংবাদদাতা বরিশালের হিজলা থানাধীন মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা মা ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৯টায় মরদেহ নিয়ে ঢাকার সদরঘাটে এসে ভিড়ে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটি। নিহতরা হলেন- মা মাহমুদা বেগম (২৩) ও তার ছেলে মোমিন খান (৬)। তাদের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানাধীন ভান্ডারিকাঠি এলাকায়। নিহতের স্বামী রুবেল খান পরিবার নিয়ে ঢাকার মগবাজারের মীরবাগ এলাকায় ভাড়া থাকেন। তিনি পেশায় গাড়িচালক। রুবেল খান জানান, এক সপ্তাহ আগে তারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। রোববার রাত ৮টার দিকে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসার জন্য কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। তারা লঞ্চের নিচতলায় মাঝ বরাবর বিছানা পেতে শুয়ে ছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানের পাশেই তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই অবস্থায় রাত ১২টার দিকে বিকট শব্দ আর ঝাঁকুনিতে সবাই কেঁপে ওঠেন। আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এর পর তারা নিশ্চিত হন অন্য একটি লঞ্চ হুমড়ে পড়েছে কীর্তনখোলার ওপর। সংঘর্ষের ফলে তাদের বহনকারী লঞ্চের বিভিন্ন অংশ ভেঙে তার স্ত্রী ও ছেলের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়। তিনি তাদের পাশেই শুয়ে ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। পরে ওই অবস্থায় লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে এসে ভিড়ে। সেখানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে ভাঙা অংশ সরিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ বের করেন। এর পর লঞ্চটি মরদেহ নিয়ে চাঁদপুর থেকে সদরঘাটে আসে সকাল ৯টায়। রুবেল খান আরও জানান, মাহমুদা বেগম চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সদরঘাট নৌ থানার ওসি রেজাউল করিম ভূঁইয়া জানান, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি কীর্তনখোলা-১০ ও ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি ফারহান-৬ লঞ্চ দুটি হিজলা উপজেলাসংলগ্ন মেঘনা নদীর মাঝেরচর এলাকায় পৌঁছলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে দুই লঞ্চের চালক বা অন্য কারও দায়িত্বে অবহেলা আছে কিনা সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়া ছাড়াও বেশ কয়েক যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি তিনি। কীর্তনখোলা লঞ্চের ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, ফারহান-৬ লঞ্চে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকার কারণেই কুয়াশার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কীর্তনখোলা লঞ্চের উপরিভাগের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তলা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় হতাহতদের নিয়ে লঞ্চটি চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় এসেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান জানান, দুর্ঘটনার পর দুটি লঞ্চই যার যার গন্তব্যে চলে গেছে। তারা খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে সদরঘাটে গিয়ে কীর্তনখোলা লঞ্চের ভেতর থেকে নিহত মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়া হয়েছে 87 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 13 জানুয়ারী 2020 17:56

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা