10212021বৃহঃ
শিরোনাম:
বুধবার, 13 অক্টোবার 2021 15:46

দুর্গাপূজা:বাঙালির সার্বজনীন প্রাণের উৎসব

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
তাপস হালদার: ----------- দুর্গাপূজা বাঙ্গালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় ও সামিজিক উৎসব।সমগ্র হিন্দু সমাজেই প্রচলিত থাকলেও বাঙালিদের মধ্যে দুর্গাপূজা বেশি হয় থাকে।বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল সহ বিশ্বের যেখানেই বাঙ্গালি আছে সেখানেই জাঁকজমকের সাথে পালিত হয় দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসব আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথি থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত।তবে পূজার সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন মহালয়া থেকে আর শেষ হয় পরবর্তী পূর্ণিমায় লক্ষ্মী পূজার মধ্য দিয়ে। দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কুমারী পূজা।সাধারনতঃ দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা হয়ে থাকে।শাস্ত্র মতে,এক থেকে ষোল বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে মাতৃরূপে কুমারী পুজা করা হয়।১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ নারী জাতিকে দেবীর আসনে সম্মানিত করার জন্যই কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ জন কুমারীকে পূজার মধ্য দিয়ে ‘কুমারী পূজা'র পুনঃপ্রচলন করেন। তারপর থেকে ‘কুমারী পূজা’ দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে। দুর্গাপূজার অন্যতম একটি বিশেষ অধ্যায় হল সন্ধিপূজা।অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই পূজা হয়ে থাকে বলে একে সন্ধিপূজা বলা হয়।অষ্টমী তিথির শেষ চব্বিশ মিনিট থেকে নবমী তিথির প্রথম চব্বিশ মিনিট পর্যন্ত সময়ে এই পূজা হয়ে থাকে।সন্ধি পূজার মাহেন্দ্রক্ষণেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন।সেজন্য শাস্ত্রমতে,সন্ধি পূজা খুবেই তাৎপর্য। শরৎকালে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে রামায়ণের যুগ থেকে।রাজা রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যায় রাক্ষস রাজা রাবণ।সেখান থেকে উদ্ধারের জন্য রাজা রাম দেবী দুর্গাকে ১০৮ টি নীলপদ্ম দিয়ে পূজা করেছিলেন।অকালে বা অসময়ে দেবীর আগমন ঘটেছিল বলে শরৎকালের দুর্গাপূজাকে অকালবোধনও বলা হয়।বসন্তকালের দুর্গাপূজাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। দুর্গাপূজা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে।ধনী বা বনেদী পরিবার গুলোতে যে পূজা আয়োজন করে তাকে বলে পারিবারিক পূজা অন্যদিকে যৌথভাবে বা এলাকা ভিত্তিক পূজাকে বলা হয় সর্বজনীন বা বারোয়ারি পূজা। দুর্গাপূজার এই সার্বজনীনতা দেবী দূর্গা প্রতিমার মধ্যেও দেখা যায়।অন্যসব দেবতারা একক ভাবে পুজিত হন।কিন্তু দেবী দূর্গা পুজিত হন সমষ্টিগত ভাবে।এখানে তার সঙ্গে আছেন সিদ্ধিদাতা গনেশ,দেবাদি সেনাপতি কার্তিক,জ্ঞানের দেবী সরস্বতী ও ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী। দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-আচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সার্বজনীন উৎসব।দুর্গোৎসবে দুইটি পর্ব।একটি হল পূজা,যেটি সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ পালন করে থাকে।অন্যটি হল উৎসব,যা জাতি,ধর্ম,শ্রেনী,বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙ্গালির উৎসবে পরিনত হয়েছে।উৎসব উপভোগের ক্ষেত্রে নেই কোন ভেদাভেদ। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।এখানে বসবাসরত হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্বীরা সবাই স্ব-স্ব রীতি-নীতি ও প্রথানুসারে ধর্মীয় উৎসব পালন করে।বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা পুরো পৃথিবীর জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।তারপরও ক্ষুদ্র একটি অংশ মাঝে মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ছড়ানোই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।কিন্তু বর্তমান সরকারের এসব ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহনের ফলে উগ্রপন্থিরা মাথাচাড়া দিতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বারংবার বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার,উৎসব সবার'।বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে সে পরিস্থিতিটাই তৈরি হয়েছে।ঈদ ও পুজা এখন কেবল মাত্র বিশেষ কোন ধর্মের উৎসব নয়।সমগ্র বাঙ্গালির প্রাণের উৎসবে পরিনত হয়েছে। মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী দেবী।তিনি মানব সমাজের সকল দুর্গতি দূর করে থাকেন।আজকের দিনে মা দূর্গার কাছে প্রার্থণা দেশ থেকে সকল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে একটি সুন্দর শান্তিময়,কল্যানকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা কর। সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা। লেখক:সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা। ইমেইল:এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
পড়া হয়েছে 14 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 13 অক্টোবার 2021 16:19

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা