10262021মঙ্গল
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার, 16 সেপ্টেম্বর 2021 10:08

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে এবার সার্চ কমিটি হচ্ছে না!

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
সিদ্দিকুর রহমান: নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে এবার সার্চ কমিটি গঠনের কথা ভাবছে না সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের করা একটি ছোট তালিকা (শর্ট লিষ্ট) থেকে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এই তালিকায় সাবেক আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ( অবসর প্রাপ্ত সশস্্র বাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা) ও বিভিন্ন পেশায় সনামখ্যাত ব্যক্তিত্বরা থাকবেন। সরকারের নীতি নির্ধারণীমহল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের দিকে যাচ্ছেনা সরকার। সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠন করা হলে রাষ্ট্রপতির ওপর বিশ্বাস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। অথচ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা রাষ্ট্রপতির সাংবিধনিক অধিকার। সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠন করা হলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অধিকারটিও ক্ষুন্ন হয়। এসব কারণে রাষ্ট্রপতির পছন্দে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে সরকার। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা বাতিল করা হয়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করাও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি যাকে উপযুক্ত বিবেচনা করেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন করেন। সংবিধানে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে যে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে সেই দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়া তার ওপর আস্থা না রাখার শামিল। একারণে রাষ্ট্রপতি কাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে পারেন তার একটা সম্ভাব্য তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকাটিতে ৫টি দৃষ্টিকোণ থেকে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনে যারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন, তাদের এ তালিকার শীর্ষে রাখা হচ্ছে। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অন্যান্য সচিব বা বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ কমিশনে কাজ করেছেন এমন একজন প্রশাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার করতে চাইছে। সেই হিসেবে এবারও সিইসি হতে পারেন প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক গ্রহণযোগ্য কোনো কর্মকর্তা। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কারণ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিচারপতিদের প্রতি আস্থা থাকায় তাদের মধ্যে থেকেও একজন সাবেক বিচারপতিকে অন্তভুক্ত করা হতে পারে। বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আগের মতো এবারও একজন সাবেক সেনাসদস্যকে কমিশনার করা হতে পারে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গন, শিক্ষাঙ্গন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনকারী একজনকে এ কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল একজন নারীকে কমিশনে রাখা হতে পারে। এ তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাজ শুরু করেছে। যদিও কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সার্চ কমিটি হোক আর না হোক, প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। চূড়ান্তভাবে কারা হবেন এটা প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশেই হবে। সার্চ কমিটি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে খুঁজে বের করার একটি প্রক্রিয়া। সার্চ কমিটির আইনি বা সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। আমাদের প্রতিবেশী ভারতেও সরকারের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেন। সেখানে কমিশন কিংবা নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। নির্বাচনব্যবস্থা একবারে পরিছন্ন না হলেও গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি। কিন্ত আমাদের এখানে কমিশনসহ গোটা নির্বাচনব্যবস্থা আস্থা সংকটে পড়েছে। দিন দিন সেই সংকট গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষে যে নতুন কমিশন হবে তার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিষয়টি সামনে রেখেই চলতি মাসের গোড়ার দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের জন্য নির্দেশনা চেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন নির্দেশনা পঠানো হয়নি ওই বিভাগে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানো হবে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সার্চ কমিটি না করে সরাসরি রাষ্ট্রপতির পছন্দে কমিশন গঠনের মতামত বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, রাষ্ট্রপতি তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করে কমিশন পুনর্গঠন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করতে পারেন। সেই কমিটি প্রতিটি পদে একাধিক বিকল্প রেখে প্রস্তাব তৈরি করতে পারে। সার্চ কমিটির প্রস্তাবের নাম থেকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত কমিটি গঠন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সুপারিশকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে পারেন। কমিশন পুনর্গঠনের তৃতীয় উপায় হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কারা হবেন তা রাষ্ট্রপতি নিজেই মনোনীত করবেন। কমিশন পুনর্গঠনের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সেই এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি কোন ফর্মুলা অনুসরণ করে কমিশন পুনর্গঠন করবেন সংবিধানে তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এবিষয়ে কোনো আইন বা বিধিও নেই। তবে রাষ্ট্রপতি যে উদ্যোগই নেন না কেন, তা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত হতে হবে। মন্ত্রিপরিষদের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর পর থেকেই ইসি পুনর্গঠনের প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে তাদের মতামত জানাচ্ছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রধান দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা। এ দাবি আদায়ে তারা সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। দলটি বলেছে, গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তার সবই প্রশ্নবিদ্ধ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়োগ প্রথা চালু করেন। পরে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। সর্বশেষ সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ, পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক শিরিন আখতার এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি ৩২টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি অন্যতম বিরোধী দল বিএনপিকে দিয়ে বৈঠক শুর“ করেন। সবশেষ বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল নিজ নিজ দলের পক্ষে নাম জমা দিয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ পাঁচজনের করে নাম প্রস্তাব করে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত ১২৫ জনের মধ্যে ২০ জনের নামের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি। এই ২০ জনকে বাছাই করতে সততা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়কে বিবেচনায় নেয় সার্চ কমিটি। পরে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন কমিশনারের জন্য ১০ জনের নাম প্রস্তাব করে অনুসন্ধান কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন।
পড়া হয়েছে 40 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 16 সেপ্টেম্বর 2021 10:16

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা