04162021শুক্র
মঙ্গলবার, 24 নভেম্বর 2020 11:10

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার বিষয়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশালা

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(1 ভোট)
 প্রধান অতিথি হিসাবে হিসাবে উপস্হিত ছিলেন সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী জুয়েনা আজিজ প্রধান অতিথি হিসাবে হিসাবে উপস্হিত ছিলেন সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী জুয়েনা আজিজ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে একটি পলিসি ডায়লগ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ২৩ নভেম্বর সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিআরপিডি) এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী জুয়েনা আজিজ । বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ড দুতাবাসের হিউম্যানেটারিয়ান এফেয়ারস এন্ড জেন্ডার বিষয়ক ফার্ষ্ট সেক্রেটারী ড. ভেরোনিকা ফ্লেগার। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেপিজিএসপিএইচ-এর ডিন প্রফেসর ড. সাবিনা ফয়েজ রশিদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও এই গবেষনার প্রধান গবেষক ড. মোঃ তানভীর হাসান পলিসি ডায়লগের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন । এই পলিসি ডায়লগের উদ্দেশ্য ছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেপিজিএসপিএইচ কর্তৃক বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে দেশব্যাপী পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পটির কিছু ফলাফল উপস্থাপন করা এবং দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার উন্নয়নে ও নীতি নির্ধারনে এই গবেষনালব্ধ ফলাফল কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে সম্পর্কে সরকারী এবং বেসরকারী নীতি নির্ধারকদের মতামত গ্রহণ করা। গবেষণা প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশের ঢাকাস্হ নেদারল্যান্ড দুতাবাস (দ্যা রয়েল এম্বেসী অব দ্যা কিংডম অব নেদারল্যান্ডস)। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেপিজিএসপিএইচ-এর সিনিয়র সহযোগী গবেষক ফাতেমা আক্তার বনি এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন, যা নিয়ে পরবর্তীতে পর্য্যায়ক্রমে আলোচনা করেছেন- ড. এ এম পারভেজ রহিম, প্রধান সমন্বয়কারী (যুগ্মসচিব), অটিজম এন্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসএবিলিটিজ (এনডিডি) সেল,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; ড. আশরাফি আহমেদ (যুগ্ম সচিব), প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, ডিসএবিলিটি ডিটেকশন সার্ভে প্রোগ্রাম এন্ড ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, সিএসপিবি ফেজ -২, সমাজসেবা বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; মিসেস মহুয়া পাল, কো-ফাউন্ডার, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিআরপিডি) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দেয়া প্রতিশ্রুতির সাথে, বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে সংযোগ প্রসঙ্গে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। ড. আশরাফি আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, “যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সকলের জন্য একটি অধিকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য কেন নিশ্চিত হওয়া উচিত এবং এক্ষেত্রে কি করনীয়, এ বিষয়ক আলোচনা প্রকৃতপক্ষে অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্যের পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন বিষয়ক সুস্বাস্থ্য উপভোগের অধিকার সবার রয়েছে।” ড. এ এম পারভেজ রহিম তার বক্তৃতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তৃতায় সহিংসতার শিকার হওয়া প্রতিবন্ধী নারী ও বালিকাদের মত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য সরকারের গ্রহনকৃত উদ্যোগের কথা উঠে আসে । মহুয়া পাল কৈশোরে প্রবেশের সাথে সাথে প্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন ভোগান্তি এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীদের তা প্রকাশের অপারগতার কিছু বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এসকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার একটি "অনুপস্থিত এজেন্ডা" যা অতিসত্ত্বর নিশ্চিত করতে হবে। ড. ভেরোনিকা ফ্লেগার বলেন, "বাংলাদেশ ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশনকে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। এর মধ্যে তিনটি লক্ষ্য সরাসরি ভাবে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারগুলোকে নির্দেশ করে, এবং এসডিজির পাঁচটি গোলে স্পষ্টভাবেই প্রতিবন্ধিতাকে উল্লেখ করেছে। জুয়েনা আজিজ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে “কাউকে পিছনে না ফেলা”র মূল আদর্শটি ১৯৭২ সালেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার এবং মর্যাদা দেয়। তিনি বলেন “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল স্রোতে না আনলে আমাদের এসডিজি অর্জন করা সম্ভব নয়।” ব্রাকের সিনিয়র পরিচালক (অ্যাডভোকেসি, টেকনোলজি অ্যান্ড পার্টনারশিপ) কে এ এম মোর্শেদ কর্মশালাতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি দরদী সমাজ গঠনের বাণী এবং গুরুত্বকে প্রতিধ্বনিত করেছে, এবং বলেন যে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এটি সম্ভব হবে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এসআরএইচআর বিষয়ক প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংক্ষেপণের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে এই পলিসি ডায়লগ গুরুত্তপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে ভূমিকা রাখবে বলে নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবণা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
পড়া হয়েছে 108 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 25 নভেম্বর 2020 15:09