06032020বুধ
বৃহস্পতিবার, 21 মে 2020 19:04

ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে বিপাকে কৃষক ঘূর্ণিঝড় আম্পান কেড়ে নিলো দক্ষিনের ৭ প্রান

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
খান রফিক,বরিশাল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর আঘাতে দক্ষিনাঞ্চলে ৭ জন নিহত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচাঘর, উপড়ে গেছে গাছপালা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ঝড়ের এ তান্ডব বৃহস্পতিবার ভোর রাতেও অব্যাহত ছিল। উপকূলীয় এলাকার গ্রামাঞ্চলের বেশীরভাগ জনপদ ২/৩ ফুট পানির নিচে ডুবে থাকায় আতংক বিরাজ করছে। এমন জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ফসল ও মাছের ঘের। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখন পর্যন্ত জানাতে না পাড়লেও মাঠ পর্যায়ের কৃষিজীবীরা ধারনা করছেন আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের চ্যালেঞ্জর মুখে পড়তে হবে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, নগরীতে আম্পান আঘাত হানে বুধবার সন্ধ্যায়। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে বইতে থাকে প্রবল দমকা বাতাস। বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতিঘন্টায় সর্বনি¤œ ৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৮৩ কিলোমিটার। আনিসুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ ৮৩ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয় বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে। বরিশাল জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বেশকিছু কাঁচা ঘর-বাড়ির সাথে ফসল, ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালের একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের পোস্ট ভেঙে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে বরিশালের নি¤œাঞ্চল ডুবে গেছে। বরিশালের জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, জেলায় ২৪ হাজার ৪৮০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তারমধ্যে ১৬ হাজার ৩২০টি আশিংক ৮ হাজার ৩৬০টি সম্পুন্ন বিধস্ত হয়। বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাছচাপা পরে দুই জন, নৌকা ডুবিতে দুই জন এবং দেয়াল চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই ধরনের খবর পাওয়া গেছে। নদ-নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ার এবং প্রবল বাতাস হয়েছে। বেঁরীবাঁধ ভেঙ্গে উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলায় নি¤œাঞ্চলের অনেক গ্রাম বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাগরপাড়ের জেলা পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশী প্লাবিত হয়েছে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালি উপজেলায়। আগুনমুখা, রামনাবাদসহ নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো বুধবার রাতে ৪ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফসল ও মৎস্যসম্পদসহ অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ চলছে। বরগুনা জেলায় আম্পানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন স্থানে বেরীবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ডুবে গেছে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি। পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে মুগডাল, চিনা বাদাম এবং ভুট্টার ক্ষেত। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার রাতে বরগুনায় সাড়ে ১১ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে বেরীবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে জানান, আম্পানে জেলার ৯৮০০ কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিষখালী-বলেশ্বর নদী তীরে ১৩ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রবিশষ্যের আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমির। দ্বীপ জেলা ভোলার চরাঞ্চলগুলো আম্পানের প্রভাবে দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। বিশেষ করে ঢালচর, কুকুরি-মুকরি এবং মনপুরা উপজেলা বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক কাঁচাঘর বিধস্ত হয়েছে। গাঁছপালা উপড়ে পড়েছে শত শত। ভোলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ পরিচালক হরগোপাল মধু জানান, আম্পান জেলায় ৭৬৩ হেক্টর জমির রবিশষ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বলেশ^র নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাঝেরচরে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানান, এ জেলায় ৬ হাজার ৭৫৫টি মাছের ঘের ও পুকুর পালিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৫ হাজার ৫৭৫ জন মৎস্য চাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. জাফর জানান, জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে রয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে এ ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, কলা, পান, পেঁপে, মুগ ডাল, চিনাবাদাম, মরিচের ক্ষতি হয়েছে। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ এর প্রভাবে জেলার সর্বশেষ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে কাজ চলছে। বিভাগে নিহত ৭ জন: ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর তান্ডবে বরিশাল বিভাগের ৩ জেলায় মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। পিরোজপুর জেলায় সর্বাধিক ৩ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া কলেজপাড়া এলাকায় দেয়াল চাঁপা পড়ে নিহত হন শাহজাহান মোল্লা (৫৫) নামক এক শ্রমিক। ঝড়ের মধ্যে বাসায় ফেরার পথে দেয়াল ভেঙ্গে পড়লে তিনি প্রাণ হারান। এ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে দুপাদী গ্রামে পানিতে ডুবে মারা যান গোলেনুর বেগম (৭০) নামক এক বৃদ্ধা। ইন্দুরকানি উপজেলার উমিতপুর গ্রামে শাহ আলম (৫৫) বুধবার রাতে ঘুম থেকে উঠে ঘরের মধ্যে জোয়ারের পানি দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হযে মারা যান বলে তার পরিবার জানিয়েছে। পটুয়াখালীতে নিহত হয়েছে শিশুসহ দুইজন। বুধবার সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্রিতে গাছের ডাল ভেঙ্গে নিহত হয় রাসেদ (৬)। এর আগে বুধবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় সতকবার্তা প্রচার করতে গিয়ে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে নৌকা ডুবে নিঁখোজ হয় স্বেচ্ছাসেবী শাহ আলম মীর। ৮ ঘন্টা পর বুধবার রাত ১০টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়। বুধবার দুপুরে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সংলগ্ন মেঘনায় ১১ জন যাত্রীসহ একটি ট্রলার ডুবে গেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামক এক যুবক নিহত হন। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসানগর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া বুধবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় গাছ পড়ে নিহত হন সিদ্দিক ফকির (৭০) নামক এক বৃদ্ধ।
পড়া হয়েছে 13 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 21 মে 2020 19:56