10212021বৃহঃ
শিরোনাম:
মঙ্গলবার, 12 অক্টোবার 2021 15:57

এতিমদের নিজের পায়ে দাড়াতে সাহায্যের হাত ঢাকা কলেজ’৮৫ ব্যাচ’র

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: সবিতার হাতে তুলে দেয়া হলো বিভিন্ন ধরণের ঔষুধ সামগ্রি। লেখাপড়া শিখে সে যে শিক্ষা পেয়েছে তা দিয়ে যেনো নিজের পায়ের দাড়াতে পারে সেজন্য তাকে এসব ঔষুধ সামগ্রী তুলে দিয়েছে ঢাকা কলেজের ৮৫’র ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্ররা। গত শুক্রবারে বিকালে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজের ৮৫’র ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্ররা ঢাকা থেকে কিশোরগজ্ঞ জেলার ভৈরব উপজেলার পাড়া দক্ষিন চন্ডিবেরে। তার হাতে তুলে দেয় ঔষুধ সামগ্রী নভেল অর্গানাইজেশন ফর রুরাল রিফর্মস এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ টুটুল। ইমতিয়াজ আহমেদও ঢাকা কলেজের ৮৫’র ব্যাচের প্রাক্তণ ছাত্র। পেছনোর কথা ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছে সবিতা। কিন্তু তার বাবা হারানোর বেদনার চেয়ে বড়ো হয়ে দাড়ায় সমাজে তার টিকে থাকার মত অবস্থা। যা সবিতার ছিল না। তার লেখা পড়া করা দুরে থাক, দু-বেলা খাওয়া জোগাড়ের অবস্থা ছিল না । আর এ সবিতা এখন অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায়। এরই ফাকে সে একটি ফার্মেসী খুলে বসেছে গ্রামের মানুষকে প্রাখমিক চিকিতসা দেয়ার ব্যাপারে। প্রতিদিনই গ্রামের সব বয়সের মানুষ তার কাছে নানান রোগের চিকিদসায়। সবিতা এ ফার্মেসি চালু করতে পেরেছে হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। এ প্রকল্পটি হলো অপরাজিতা ফার্মেসী প্রকল্প -১। সে সবিতার সাথে কথা হচ্ছিল সবিতার সাথে ভৈরবের ঝগড়াচরে । সবিতা জানায় আজকে তার এঅবস্থানে আসার পেছেনে সবটুক অবদান ভৈরবে অবস্থিত হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারে। জীবনের করুন পরিস্থিতিতে পাশে দাড়িয়েছিল ভৈরবে হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবার। প্রতিষ্টানটি যেমন একজন এতিমকে লেখা পড়া শেখানোর ব্যবস্থা করে তেমনি তাকে নিজের পায়ে দাড়াতেও সাহায্য করে। সবিতা এপ্রতিষ্টানটিতেই লেখা পড়ার পাশাপাশি হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারের অন্য একটি প্রকল্প থেকে টেনিং নিয়েছে। প্রকল্পের নাম অপরাজিতা ফার্মেসী প্রকল্প -১। হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারের খেকে লেখা পড়া শিখে একজন মেয়ে যেনো শুধু স্বামী আয়ের উপর নির্ভরশীল না হয় বা কোনো বিপদে স্বামী হারালে জীবন যেনো দুর্বিসহ না হয়ে উঠে সেবিষয়টি মাখায় রেখে গড়ে তোলা হয় এতিমদের। কারণ একদিন এই এতিমরাই বাপাকে হারিয়ে তাদের মায়ের জীবনে কস্ট দেখেছে। হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারের অন্য সব কার্যক্রমের মধ্যে রযেছে ট্রেইলারিং, ফার্মেসী প্রতিষ্টাস বেশ কয়েকটি প্রকল্প। হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবার কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপদেলার চন্ডিবের গ্রাম (দক্ষিন পাড়া) এর অবস্থান। সারা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর অসংখ্য এতিম শিশুদের মধ্যে খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশের কথা মাথায় রাখিয়া ২০১০ সালের ১০ই অক্টোম্বর কিশোরগজ্ঞ জেলার ভৈরব উপজেলার পাড়া দক্ষিন চন্ডিবের এলাকায় দানকৃত ২২ শতাংশ ভুমির উপর প্রতিষ্টা করা হয় একটি শিশুপরিবারের এবং নামকরন করা হয় সেই মহান দানবীর হাজী আসমত আলী’র নাম অনুসারে “হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশুপরিবার”। তবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য সম্পত্তি দানে, স্থাপনায়, নির্মানে, অনুদানে এবং পরিচালনায় যাদেরকে স্মরন না করলেই নয়। তারা হলেন মহান দানবীর হাজী আসমত আলীর উত্তরসূরীরা, দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা সমুহ ও স্থানীয় হৃদয়বান জনমানুষ। মুলতঃ শিশুপরিবারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসহায় পিতৃ-মাতৃহীন, ছিন্নমূল, সহায়-সম্বলহীন এতিম বালিকা শিশু-কিশোরীদেরকে পারিবারিক ¯েœহ-ভালবাসায় লালন-পালন ও ভরন-পোষনের পাশাপাশি আধুনিক ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা, কারীগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করা। সর্বপরি এই বঞ্চিত শিশুদেরকে মহান জাতি সংঘের শিশুসনদ অনুযায়ী যথাযথ অধিকার প্রদান করার প্রত্যয়কে সামনে রাখিয়াই এর যাবতীয কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর এসব কার্যক্রম তখনই যথাযথ ভাবে পরিচালিত হবে যখন অত্র শিশুপরিবারটি একটি আধুনিক ও বাস্তব সম্মত নিয়ম-কানুন দ্বারা পরিচালিত হবে। এদিকে ্এর আগে বৃহসপতিবারে ভৈরবস্থ হাজী আসমত আলী এতিম বালিকা শিশু পরিবারে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুিষ্ঠত হয়। কাতার এয়ারওয়েজ এর অর্থায়নে আর্ন্তজাতিক সাহায্য সংস্থা কাতার চ্যারিটির মাধ্যমে এবং নভেল অর্গানাইজেশন ফর রুরাল রির্ফমস (এন.ও.ও.আর) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উক্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজী আসমত আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ আলী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাতার চ্যারিটি বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডাইরেক্টর জনাব ডাঃ আমিন হাফিজ উমর, কান্ট্রি ডাইরেক্টরের সহধর্মিনী মিসেস সাগরিকা আমিন, নভেল অর্গানাইজেশন ফর রুরাল রিফর্মস এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী মাহিন সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া সিদ্দিকী, আইন উপদেষ্টা জনাব সাজ্জাদুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মামুন আর রশীদ, ডাইরেক্টর ইউসুফ আহমেদ গালিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বাবলু ও হিসাবরক্ষক মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে এতিম ছাত্রী সুমাইয়া। এরপর ৮ জন এতিম ছাত্রী বাংলাদেশ ও কাতারের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। প্রধান অতিথি ডাঃ আমিন হাফিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর প্রায় ১১০ জন এতিম ছাত্রীর প্রত্যেককে ১ টি স্কুল ব্যাগ, ১ সেট গাইড বই, ১ টি ক্যালকুলেটর, ১ টি জ্যামিতি বক্স, ১ ডজন কলম, ১ ডজন পেন্সিল, ১ টি ষ্ট্যাপলার, খাতা, ১ জোড়া কেডস, ১ জোড়া জুতা, ১ সেট স্কুল ড্রেস এবং ১ সেট জামা বিতরন করা হয়।
পড়া হয়েছে 39 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 12 অক্টোবার 2021 16:17

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা