11272020শুক্র
শিরোনাম:
শনিবার, 21 নভেম্বর 2020 09:10

লাশকাটা ঘরে মৃত কিশোরীদের ধর্ষণ করেও অনুতপ্ত নয় মুন্না!

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: লাশকাটা ঘরে মৃত কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্না ভক্ত। ছবি: সংগৃহীত অ- অ অ+ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের লাশকাটা ঘরে মৃত কিশোরীদের ‘ধর্ষণের’ প্রমাণ পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সারা দেশের হাসপাতাল মর্গগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি বলছে, গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মৃত কিশোরীর লাশ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে। এই কিশোরীদের বয়স ছিল ১১ থেকে ১৭ বছর। আত্মহত্যার পর তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছিল। লাশগুলোর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গ করেছিলেন ডোমের সহযোগী মুন্না ভক্ত (২০)। তাকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। শুক্রবার ঘটনাটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে তারা। মুন্নার বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের জুরান মোল্লার পাড়ায়। সে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের কোনো কর্মচারী নয়। হাসপাতালের ডোম যতন কুমারের ভাগ্নে হওয়ার সুবাদে মুন্না সেখানে কাজ করত। মর্গে আসা মরদেহগুলো সে গ্রহণ করত। আত্মহত্যাকারী ওই কিশোরীদের লাশ বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মর্গে আনা হয়। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার এসব লাশ কাটার সময় নির্ধারণ ছিল পরদিন। রাতের বেলা লাশগুলো মর্গে রাখা হতো। মুন্না থাকত সেখানেই। লাশ পাহারার দায়িত্বও ছিল তার ওপর। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করত মুন্না। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুন্না ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দিতে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও সে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয় বলে জানায়। মুন্না বলেছে, রাতে মর্গে সে একাই থাকত। নিরিবিলি পরিবেশ এবং কোনো লোকজন না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘মৃত মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু না।’ তবে সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুন্না যে অপরাধ করেছেন সেজন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ধরা পড়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে একটি হাসপাতাল মর্গের ঘটনা ধরা পড়েছে। সারা দেশের অন্য হাসপাতালগুলোতেও অনেক ডোম কাজ করেন। তারা যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে না সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খুঁজলে আরো অনেক পাওয়া যেতে পারে। তাই অন্যান্য হাসপাতালে সিআইডির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ ডাটাব্যাংকে সংরক্ষিত ৩০ হাজারের বেশি প্রোফাইলের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি প্রোফাইলের ক্ষেত্রে এখনও অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রোফাইলে মুন্নার মতো অপরাধী আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কাউকে সন্দেহ হলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে প্রোফাইল তৈরি করে সংরক্ষিত প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পড়া হয়েছে 11 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 21 নভেম্বর 2020 09:18