10252020রবি
শিরোনাম:
শনিবার, 17 অক্টোবার 2020 18:48

বাঁধ মেরামতে নিশ্চিত করতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত,রক্ষণাবেক্ষণে তথাকথিত উপ-ঠিকাদারি ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা। তবে আসন্ন শুকনো মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি মেরামত করার জন্য বিশেষ আপদকালীন তহবিল সৃষ্টিরও করতে হবে। এসব দাবি সুপারিশ উঠে আসে আজ কোস্ট ট্রাস্ট ও স্থায়িত্বশীল গ্রামীণ জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে। ‘শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি বাজেট বরাদ্দ দাবি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমাদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোঃ তালুকদার আবদুল খালেক, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি (কক্সবাজার-২), নুরুন্নবী চৌধুরী এমপি (ভোলা-৩), মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এমপি (গাইবান্ধা ৪), ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু এমপি (বরগুনা-২), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি (গাইবান্ধা-১)। এছাড়াও কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনা, রংপুর, ভোলা এবং গাইবান্ধা জেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেমিনারে যোগ দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় কোস্ট ট্রাস্টের আরিফ দেওয়ান উল্লেখ করেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় সারা দেশে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে এধরনের বিপর্যয় রোধে আসন্ন শুকনো মৌসুমে বেড়িবাঁধগুলোর জরুরি মেরামতের প্রয়োজন। তিনি তার সুপারিশে দীর্ঘমেয়াদী বাঁধ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতের কথা বলেন। ডাঃ কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। অন্যান্য উন্নয়নের বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাঁধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্য আমাদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি প্রয়োজন। এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে এবং এতে সমাধানগুলো স্থায়িত্বশীল হতে পারে। সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, টেকসই বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার নীতিমালা না থাকায় প্রতিবছর বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের নামে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, এবং পানি ও নদী ব্যব¯’াপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিপদাপন্ন অঞ্চল এবং জেলাসমূহে পদায়ন করতে হবে। ন রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সরকারকে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথকভাবে জাতীয় বরাদ্দ ঘোষণা করতে হবে। তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মূলত নদীতে পলী জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এই জলাবদ্ধতাকে বাড়িয়ে তুলছে। ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু এমপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পলিবাহিত নদীগুলো নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে, বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারী এমপি বলেন, বর্তমান জাতীয় বাজেট অপ্রতুল, দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা ও নদীভাঙন রোধের জন্য বিদেশি সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন। আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপযুক্ত নকশা ও যথাযথ নির্মাণের অভাবে দক্ষিণ পুর্ব উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নুরুন্নবী চৌধুরী এমপি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থিত ভোলা জেলাকে বাঁচাতে, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই বাঁধের নকশা প্রণয়ন তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
পড়া হয়েছে 14 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 17 অক্টোবার 2020 18:51

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা