12072021মঙ্গল
বৃহস্পতিবার, 19 আগস্ট 2021 15:53

অনিয়মের দায়িত্ব সচিবকেই নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতির কথা সচিবদের জানিয়েছেন। সেক্টরের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার হিসেবে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় সচিবদেরই বহন করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। চার বছরের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রী সচিবদের এসব কথা বলেছেন। বুধবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালি এ সভায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং সচিবরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারক আমলাদের সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ কয়েকজন সিনিয়র সচিব দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারপ্রধানের শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীরা সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই তিনি কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন তার বার্তা দেন। এটাই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। কিন্তু ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক না করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শুরু করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন ২০১৭ সালের ২ জুলাই। দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক হওয়ার কারণে সচিবদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। প্রত্যেক সচিবই তার সেক্টরের সর্বশেষ অবস্থানপত্র সঙ্গে করে বৈঠকে নিয়ে গেছেন। যেন প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর সামনে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা সেবাসহ ১৭ জন সচিব বক্তব্য রেখেছেন বলে জানা গেছে। সচিব সভা শেষে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সচিব নিউজফ্ল্যাশ ২৪ বিডি ডটকমকে জানান, দুর্নীতি বা অনিয়মের কথা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বারবার এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেভাবেই হোক অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক সচিবের সামনেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনোরকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এর আগে ২০১৯ সালে ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বলেছিলেন, ‘সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও জনসেবার মান উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতনভাতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এতটাই বাড়িয়েছে যে, তাদের আর দুর্নীতি করার কোনো কারণ নেই। এরপরও কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বার্তা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।’ এরপর সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রধানমন্ত্রী দফায় দফায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন। বুধবারের সচিব সভাও একই বার্তা দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বলা হয়েছে তারা যেন সব দপ্তর, অধিদপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেন। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর এ হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ২০০৮ সালের পর এ হিসাব আর নেওয়া হয়নি। বিক্ষিপ্তভাবে একজন মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নিলেও কর্মকর্তারা ছিলেন এর বাইরে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সম্পদের হিসাব চাওয়ায় প্রশাসনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সচিব সভায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। অন্য একজন সচিব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির পাশাপাশি কৃষিজমি সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দিন দিন কৃষিজমি কমছে। এভাবে কমতে থাকলে ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। এ কারণে প্রকল্প গ্রহণ করার আগে লক্ষ রাখতে হবে যেন কৃষিজমি নষ্ট না হয়। এ কারণে যত্রতত্র শিল্পকারখানা করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক সচিবকে তার সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। সচিবদের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ দুই বিষয়ের মধ্যে আছে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি সুবিধাজনক অবস্থায় আসা এবং টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা। সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব শিক্ষার্থীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকার আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগপর্যন্ত অনলাইন ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে হবে। সভায় খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম খাদ্যের মজুদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী খাদ্য এবং কৃষির সমন্বয়ের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনোভাবেই যেন দেশে খাদ্য ঘাটতি না হয়। প্রয়োজন পড়লে আমদানি করবেন। সচিব সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সভায় খাদ্য পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও করোনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভ্যাক্সসহ বিভিন্ন উৎস থেকে করোনাভাইরাস প্রতিষেধক ২১ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ক্রয়সংক্রান্ত সভায় ছয় কোটি ডোজ টিকা ক্রয়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে ২১ কোটি ৪ লাখ ডোজের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ৩ কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা কেনা হয়েছে। দেশের মানুষকে ২ কোটি ৫ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ৪ লাখ হাতে আছে। ধাপে ধাপে সেগুলো দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিদ্যমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান মাথায় রেখে গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যেতে হবে এবং সে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলো যেন উন্নত জীবন, দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সুযোগ পায়।
পড়া হয়েছে 53 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 19 আগস্ট 2021 16:03