পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা বিদ্যালয়ে আসন স্বল্পতার কারণে হাজারো শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন শাখা খোলা ও আসন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
পটুয়াখালী শহরের মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান ভরসাস্থল পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তবে চরম বাস্তবতার বিষয় হলো, প্রতি বছর এই দুটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারে মাত্র ২২০ জন শিক্ষার্থী। জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতী ও দিবা শাখা মিলিয়ে ১১০টি এবং সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও সমান সংখ্যক আসনে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেবল মূল শহরের বাসিন্দারাই নন, পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও বহু পরিবার শুধুমাত্র সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষার উদ্দেশ্যে পটুয়াখালী শহরে এসে বাস করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলায় কর্মরত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই শহরে থাকেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দুমকি উপজেলায় অবস্থিত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পটুয়াখালী জেলা সদরের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মরতদের সন্তানদের শিক্ষার বড় অংশই এই দুটি স্কুলের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুযোগ ও আসন বাড়েনি।
জানা যায়, বিদ্যালয় দুটিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত একাধিক শাখা থাকলেও ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মাত্র ১টি করে সেকশন চালু রয়েছে। শহরের বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রভাতী ও দিবা উভয় শাখাতেই অতিরিক্ত সেকশন খুলে ভর্তির আসন সংখ্যা দ্বিগুণ করার জোর দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীদের এই ভর্তি সংকট ও জট নিরসনে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল বলেন, “পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় নিঃসন্দেহে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যাপিঠ। দুঃখজনক হলেও সত্য, আসন সংখ্যা সীমিত থাকা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় শ্রেণী-শাখা না বাড়ানোর কারণে প্রতি বছর বহু মেধাবী ছাত্র ভর্তি হতে পারছে না।”
তিনি আরও জানান, ভর্তি সংক্রান্ত এই দীর্ঘদিনের সংকট ও জটিলতা দূর করতে অবিলম্বে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন শ্রেণী-শাখা চালু করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিনি জেলা প্রশাসনের শুভ দৃষ্টি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পটুয়াখালীর শিক্ষা ব্যবস্থার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতি দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী ১৯৬৯ সালে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পটুয়াখালী শহরটি মূলত ১৫০ বছরের বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী একটি শহর। সময়ের আবর্তে বর্তমানে এ শহরের জনসংখ্যা ২ লাখ ছড়িয়েছে। অথচ বিপুল সংখ্যক নাগরিকের চাহিদার তুলনায় এখানে কোমলমতি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।






