,

ঢামেক হাসপাতালে তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ, ছুরি ঘিরে রহস্য

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী একটি বাথরুম থেকে আনুমানিক ২৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী এক তরুণীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পানির লাইনের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়, যার বাম হাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল।

একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের সামনে একটি রক্তমাখা ফল কাটার ছুরি এবং মেঝেতে রক্তের দাগ মেলায় এই মৃত্যুকে ঘিরে গভীর রহস্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। তিনি ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় একাধিকবার ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে অন্য সহকর্মীদের ডেকে এনে দরজা খোলা হলে ভেতরে ওই তরুণীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আনসার সদস্য ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তভেজা একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখেন অন্য এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মেঝেতে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগও দেখা যায়। সকাল ৮টার দিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আনসার সদস্যরাও বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

তবে হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগীর যাতায়াত থাকায় শুরুতে এটিকে কোনো রোগীর রক্ত বা সংঘর্ষের ঘটনা মনে করে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয় এবং ছুরিটি ধুয়ে রাখা হয়। বাথরুমে মরদেহ পাওয়ার পর এই ছুরির বিষয়টি নতুন করে সন্দেহের জন্ম দেয়।

উদ্ধারকৃত মরদেহের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে একটি চিরকুট এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি কাগজ পাওয়া গেছে, যেখানে তন্ময় মণ্ডল নামের একজনের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে। ওই কাগজটিতে শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ঠিকানাও লেখা ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তন্ময় মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের একজন কর্মচারী। তবে উদ্ধার হওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, মোবাইলটি বর্তমানে তার হেফাজতে রয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এর মালিকের অবস্থান সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

ব্যাগে থাকা তথ্যের সূত্র ধরে ওই তরুণীর জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে সংশ্লিষ্টরা। পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম ঝুমা রানী দে এবং তার বয়স প্রায় ৩১ বছর। তার বাবার নাম পরিমল চন্দ্র দে ও মায়ের নাম ববিতা রানী দে। পরিচয়পত্রে তার স্থায়ী ঠিকানা রমনা থানার শান্তিনগর এলাকার টি এস গাবতলা জাহাববক্স লেন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তবে পুলিশ এখনও তার এই পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি।

শাহবাগ থানার পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট হাসপাতাল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনের জন্য কনফারেন্স রুম ও বাথরুমের আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া চিরকুটে নাম থাকা তন্ময় মণ্ডল নামের কাউকেই এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ