শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে সৌদিতে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার জেদ্দায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা জেদ্দায় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং এসব সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এএফপিকে জানায়, বৈঠকে ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই বৈঠক বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘ঐক্যবদ্ধ অবস্থান’ তুলে ধরেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

বৈঠকের পর জিসিসি’র মহাসচিবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের ‘প্রকাশ্য হামলার’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আস্থার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ সম্পর্ক পুনর্গঠনে ইরানকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যরা সশরীরে মিলিত হলেন।

এই বৈঠক এমন সময় হলো, যখন হোয়াইট হাউস ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি সামনে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হতো। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ