রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, ‘নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না-এটি মেনেই আমরা রাজনীতি করি’।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কোরআনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, “নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী। নারীদের পরিচালনা করবে পুরুষ। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পুরুষ হলো নারীর পরিচালক। যেহেতু জামায়াত একটি ইসলামী সংগঠন, তাই কোনো ইসলামী সংগঠনে নারীরা পরিচালক হতে পারবেন না, শীর্ষ পদে যেতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “শীর্ষ পদে (আমির) নারী আসার বিষয়টি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কি না। গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কি বেড়েছে? আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা মানবিক হবে।”

তিনি আরও জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে এবং স্থানীয় নির্বাচনেও তারা বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যাদের নাম যুক্ত, শুধুমাত্র সেসব প্রতিষ্ঠানই যেন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে-এ বিষয়ে তারা অবগত নয়। বিএনপির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, “সুস্থ কোনো দল এবং সুস্থ কোনো মানুষ শান্তি কমিটি নিয়ে কথা বলতে পারে না।”

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেত্রীরা ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল (মহিলা বিভাগ) নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী।

বৈঠক শেষে ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। বিগত ১৫-১৬ বছর আমাদের মা-বোনেরা ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র আমরা কমিশনে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নারীরা অবলা নয়, আমরা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটের প্রচারণায় গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের একাউন্ট হ্যাকের বিষয়টিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জামায়াত আমির যখন নারীদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, তখনই একাউন্ট হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ইসি ও সরকারের দায়িত্ব।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর একটি পোস্ট দেওয়া হয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় শনিবার ভোররাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দলটির নির্বাচন প্রচারণা টিমের সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ