আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্পষ্টভাবে দুই মেরুতে বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘সোনালী ফসল’ হিসেবে পরিচিত, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ছাত্রনেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। অন্যদিকে রয়েছেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন ও কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুর। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়।এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এমনটা দাবি করছেন স্থানীয় জনগন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা দেখিয়ে প্রকাশ্যে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অংশটি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীক, জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের মুহম্মদ শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। প্রতীকের ভিত্তিতে তিন প্রার্থীই নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া হয়ে প্রচারণায় নেমেছেন।

বিএনপির সমর্থন নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকলেও জোটের ঐক্য কার্যকর হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা, স্থানীয় বিএনপির একাংশের বিভাজন, কমিটি বিলুপ্তি এবং মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব নুরের নির্বাচনী কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে জোটের শক্তি ভোটে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন থেকে গেছে।এই সুযোগকে কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি দীর্ঘদিনের স্থানীয় রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক, ব্যক্তিগত অনুসারী এবং সাংগঠনিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে আলাদা ভোটব্যাংক গড়ে তুলেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি জোটের হিসাবকে জটিল করে তুলেছে এবং একই রাজনৈতিক দলের ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের মুহম্মদ শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নীরবে কিন্তু সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মসজিদকেন্দ্রিক প্রচারণা, ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সক্রিয়তা এবং গ্রামভিত্তিক যোগাযোগের কারণে তিনি একটি স্থিতিশীল ভোটভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের চোরমোনাই প্রার্থী আবু বকর হাতাপাখার জোড়ালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, কোনো চাপ বা ভয় নেই। জনগণের ঐক্যই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আগামী ১২ তারিখ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করবে।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বাংলাদেশের এ অঞ্চলে বিগত নির্বাচন ছিল নৌকা আর ধানের শীষের। এবার ব্যালটে নৌকা নেই, ধানের শীষ নেই। ট্রাকই হচ্ছে নৌকা, ধানের শীষের প্রতীক।
গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের পটুয়াখালী-৩ আসন।








