বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গার্মেন্টস শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গাজীপুরকে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের রাজধানী বলা হয়। এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি বলেন, এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটিও বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটিও বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক ভাইদের কৃষিকার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করব।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গে

ইট এলাকায় তীব্র যানজটে দুর্ভোগ থাকে। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে।
গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ, চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও শিল্প কারখানায় মা-বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে। এই যে গণতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোরবেলায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দেবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন।

বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করে

বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমি এই মাঠে অনেক খেলেছি। শিশু কাল আমার এখানে কেটেছে। সে হিসেবে আমার ভোটের হক আছে।

গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে স্ত্রী ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।

এই সমাবেশে গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর -৫ আসনের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর -১ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর–২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করমি রনি, গাজীপুর -৩ আসনের প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর -৪ আসনের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, হেফাজত নেতা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক

রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবরে আমেজ। দীর্ঘ ২০ বছর নয় মাস ২৮ দিন পর তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান। দুপুরের পর থেকে দলে দলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগে পুরো রাজবাড়ী মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এছাড়া সংসদীয় আসনে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষের কর্মী সমর্থকরা আলাদা ক্যাপ, হ্যান্ডবিল ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে জড়ো হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ