শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ রাজপথে আগমন খালেদা জিয়ার: নাগরিক শোকসভায় বক্তরা

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ রাজপথে আগমন যার, যিনি মানুষের অধিকারের প্রশ্নে অটল। স্বাধীনতা-সার্বভৌম নিশ্চিতে একজন অতন্দ্র প্রহরী হয়ে আগলে রেখেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানা। লাল-সবুজের পতাকার কাণ্ডারি, গণতন্ত্রের আপসহীন সেই নেত্রী, অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অরাজনৈতিক সংগঠন নাগরিক সমাজের আয়োজনে নাগরিক এই শোকসভায় যোগ দেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। শিক্ষক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা যুক্ত হন এই সভায়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরের পরপর শুরু হয় সভা। বিকাল ৪টার কিছু আগে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মীনি ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও।

বক্তারা খালেদা খানম পুতুল থেকে বেগম খালেদা জিয়া হয়ে ওঠার সংগ্রামের জীবনকে স্মরণ করেন। উপস্থিত সবাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বেগম জিয়ার ত্যাগ-সংগ্রাম ও আদর্শকে ধারণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বিগত সরকার যখন তাকে নানাভাবে নিষ্পেষণ করলো, হাউজ অ্যারেস্ট করা হলো, যেখানে হৃদয়বিদারকভাবে তার চিকিৎসা হলো না। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তিনি যে বাণী দিলেন, সেটা ধ্বংস ও প্রতিহিংসার বিপরীতে তার উদারতা। তার এই মানসিকতা আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে ভিন্ন রকম।

তিনি আরও বলেন, ‘জ্ঞান ভিত্তিক ভবিষ্যৎ দেশ গড়তে তার যে আহ্বান, সেদিকে আমাদের যেতেই হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীর নেতৃত্বকে বলবো, খালেদা জিয়ার যে শেষবাণী, জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ার, সেটা যেন আমরা সবাই ধারণ করি।’

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার বার্তার কথা উল্লেখ করে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উত্থানপর্বে বেগম খালেদা জিয়া বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দলকে উত্তরণ করেন। সরকার পরিচালনায় আরেকটি অবস্থায় তাকে দেখা গেছে। আর ২০০৭ পরবর্তী সময়ে তাকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, তিনি ভিকটিম হয়েছেন নানাভাবে। তবে উত্থানপর্বেই আপসহীনতার তকমা তিনি পেয়ে গেছেন। শেষপর্বে তিনি যে ভিকটিম হয়েছেন, সেটা মানুষের কাছে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বক্তব্য প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার বার্তা দেয়। মনে রাখতে হবে, অন্যকে আলো দিতে হলে নিজেকে মোমবাতি হতে হয়।’

নাগরিক শোকসভার সভাপতি সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দেয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করে তাদের সন্তান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্রকে সুসংহত করবেন বলেও প্রত্যাশা জানান বক্তারা।

যায়যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘যে করেই হোক, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন হয়। সরকার বলছে ওইদিনটি হবে উৎসবের, আমরাও তেমনটাই চাই। পুলিশ বাহিনী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে সেটাই প্রত্যাশা। সবাই উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। অন্যথায় এই শোকসভা ব্যর্থ হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করবেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার মাধ্যমেই। ভোট বানচালের কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবেন না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ