নতুন বছরের শুরুতেই হাড়কাঁপানো শীতের বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি মাসে দেশে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে জানুয়ারি মাসের এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার এলাকাগুলোয় শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসবে। এতে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারিতে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই।
গত ডিসেম্বর মাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারা দেশে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ কম। ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম গতকাল রাতে বলেন, জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার। এতে তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি কিংবা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র, তখন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
কাল থেকে বাড়বে শীত
দেশের সাত জেলায় গতকাল শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এতে শীত কিছুটা কমতে পারে। আগামীকাল রোববার থেকে তাপমাত্রা আবার কমা শুরু হতে পারে।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে, ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন শৈত্যপ্রবাহ হওয়া অন্য জেলাগুলো হলো গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।
কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে বলা হয় অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বলেন, শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি কমেছে। শনিবারও এ ধারা থাকতে পারে। তবে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে পারে।
শীতে কাঁপছে যশোর
গত বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যশোরে চলতি মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তবে এর মধ্যেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবীদের। আগে যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হতেন। এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। এর পরও কাজ না পাওয়ায় অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গতকাল সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (দিনের) রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি।








