,

হজের প্যাকেজ ও বিমান ভাড়া কমিয়েছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

Muslim pilgrims circle the Kaaba and pray at the Grand Mosque as Saudi Arabia welcomes back pilgrims for the 2022 haj season, after the kingdom barred foreign travellers over the last two years because of the coronavirus disease (COVID-19) pandemic, in the holy city of Mecca, Saudi Arabia July 1, 2022. REUTERS/Mohammed Salem

হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। নতুন প্যাকেজে খাবারের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের জন্য আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা। আগামী বছর একই প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্যাকেজটির খরচ কমেছে ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। ২০২৭ সালের এই প্যাকেজে খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকা ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-২ এর মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। ২০২৭ সালে সেটি কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা করা হয়েছে। এতে ব্যয় কমেছে ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা। এই প্যাকেজে খাবারের খরচ হিসেবে ২৯ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হজযাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে একজন হজযাত্রীর বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। আগামী বছর তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিমান ভাড়ায় কমেছে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা।

ধর্মমন্ত্রীর মতে, সাধারণত সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও হজযাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় এবার প্যাকেজের পাশাপাশি বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে।

২০২৬ সালের সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৮১ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন বলে সংসদে জানান ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম ব্যয় হওয়ায় হিসাব শেষে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। ওই অর্থ কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, বিএফটির মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কারণে এই অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে দাবি করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকির কারণে এবারের ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি আরবের হজবিষয়ক মন্ত্রীও বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন বলে জানান তিনি।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সেবা করাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতেও সততা, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে হাজিদের সেবা দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ