সোমবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুযোগ পেলে চৌকিদার হয়ে জনগণের আমানতের হেফাজত করব: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কোনো দুর্নীতি নয়, আমরা চৌকিদার হয়ে জনগণের আমানতের হেফাজত করব ইনশাল্লাহ।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

৫৪ বছরের ইতিহাসের বাস্তব সাক্ষী আপনারা। এ সময়ে দুঃশাসন ও দুর্নীতিতে তলিয়ে গিয়েছিলো পুরো দেশ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় গেছেন তারাই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। যাদের হাতে দেশ পরিচালনার চাবিকাঠি ছিলো, তারা কেউই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না যে, সততার সঙ্গে আপনারা দেশ পরিচালনা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় পরিবর্তন চান। সেই পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আজ আমরা আপনাদের কাছে এসেছি। একদিকে দুর্নীতি অন্যদিকে ব্যাংক লুটপাট থেকে শুরু করে সব অপকর্মর সঙ্গে জড়িত ছিলো শাসক সমাজ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতিকে টুকরা টুকরা করেছেন। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠি, পাহাড় সমতল সবখানেই বিভেদ তৈরি করেছেন। আমাদের বার্তা স্পষ্ট। বাংলাদেশকে বিভক্ত হতে দেব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপনারা যদি আমাদের সমর্থন দেন, তাহলে আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না। আমরা জনগণের প্রতিটি সম্পদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে দিতে বাধ্য থাকবো। সব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব জনগণের কাছে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নদ-নদী দখলমুক্ত করে জীবন ফিরে আনার চেষ্টা করবো।’

মা বোনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যে জাতি তার মা-বোনদের ইজ্জত দিতে জানে না, আল্লাহতালা সেই জাতিকে সম্মান করেন না। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সবখানেই মা-বোনরা শতভাগ সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করবো। কোনো জালেমকে তাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে দেয়া হবে না।’

গেল ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের সবাইই নির্যাতিত ছিলো জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট আল্লাহ একটা সুযোগ করে দিয়েছিলো। অথচ সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে একটি শ্রেণি নিজেদের উন্নয়ন শুরু করে দিলো।’

বেকার যুবকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কাউকে বেকার ভাতা নয়, তাদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। সেই জনবল বিদেশে পাঠিয়ে দেশ, পরিবার ও সমাজের উন্নয়ন করে বেকারত্ব হ্রাস করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধদের সুচিকিৎসার ভার নেবে সরকার। তবে যারা স্বচ্ছল হবে এটি তাদের জন্য নয়। সম্পদ বাড়বে জনগণের, জনপ্রতিনিধিদের নয়। এই সৎ সাহস যাদের আছে তারাই জনপ্রতিনিধি হবার চিন্তা করেন। শুধুমাত্র একবার সুযোগ করে দিয়ে দেখেন, আমাদের ভাইয়েরা আপনাদের সঙ্গে থাকেন কিনা।’

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান।

এ সময় প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাও. তাজ উদ্দীন খাঁন ও নাজমূল হুদার হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জামায়াতের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই জনসভা স্থলে অবস্থান করছিলেন। কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভা মাঠ।

হেলিকপ্টারে দুপুর সোয়া ১টার দিকে মঞ্চে আসেন জামায়াতের আমির। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ