নিজের প্রস্তাবক ও সমর্থকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শনিবার সকালে আমার প্রস্তাবক ও সমর্থক সহ দলীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করতে গেলে,আমার নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম -৫ আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মীর হেলালের সমর্থকরা বাধা দেয় ও নাজেহাল করে। তাৎক্ষণিক আমি কোতোয়ালি থানাকে অবহিত করলে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ আমার প্রস্তাবক ওসমর্থককারীকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রবেশে সহযোগিতা করে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়া মাত্রই, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদেরকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পুলিশ পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বলেছি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করলে ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে কোনভাবেই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।
আমরা যখন নির্বাচনে ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন থেকেই আমাদের দলের কর্মী সমর্থকদের নানাভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। ১৯ ডিসেম্বর তারা আমার গ্রামের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার দিনও আমার কর্মী সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। আর আজকে মীর হেলাল সাহেবের সমর্থকরা আমার প্রস্তাবক ও সমর্থককারীকে অপহরণ করে।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই আন্দোলনের পর, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাভাবিক হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সে পরিবেশ এখনো দৃশ্যমান নয়।
তাছাড়া আমরা বারবার বলেছিলাম, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা যদি প্রত্যাহার করা না হয়,তাহলে আমাদের প্রতিপক্ষ সে মামলাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের হয়রানি করবে। বর্তমানে সে
মিথ্যা মামলা ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন,আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের, প্রস্তাবককারী ও সমর্থককারীদের উপর যেভাবে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।চট্টগ্রামে আমাদের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের আর্তনাদ শুনে, আমি গভীরভাবে ব্যতীত হয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, সরকার সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, একজন সাধারণ মানুষ নন। জাতীয় রাজনীতি বিশেষ করে চট্টগ্রামে তিনি একজন সমাদৃত মানুষ। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি। তার সমর্থকদের উপর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হামলা, বিশ্ব দরবারে আমাদের কি বার্তা দেয়।
এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল দলের সমান অধিকার থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। আমার কাছে প্রতিমান হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনি একটি লাইন ড্র করেছেন। তার পেছনের শক্তির সন্ধানে, আমি যা দেখি, তার এই শক্তি, অপব্যবহার করা উচিত না। মহান আল্লাহ মানুষকে সুযোগ দে পরীক্ষার জন্য। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে, অনেক উত্থান পতন দেখেছি। নির্বাচন কমিশনার একজন সিনিয়র মানুষ। তারও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। তিনি কেন বিপথগামী হচ্ছেন, এই প্রশ্ন আমার রইল।
সংবাদ সম্মেলনে, উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো- চেয়ারম্যান শাহিদুর রহমান টেপা,মোস্তফা আল মাহমুদ,
প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য- মোঃ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া,মোঃ আরিফুর রহমান খান, নুরুল ইসলাম ওমর, সরদার শাজাহান, ফখরুল আহসান শাহাজাদা।






