পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও জোরদার করার জন্য মস্কোর সাথে একসাথে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সৌহার্দ্যের উত্তরাধিকার অব্যাহত রাখা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসাথে কাজ করা এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বন্ধন আগের মতোই দৃঢ় থাকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ‘রাশিয়ান হাউসের ৫০ বছর’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।
হোসেন বলেন, রাশিয়ান হাউস সাংস্কৃতিক কূটনীতির একটি আলোকবর্তিকা, যেখানে দুই দেশের চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং পেশাজীবিরা একে অপরের সংস্কৃতি উদযাপন ও অনুধাবন করতে একত্রিত হতে পারেন।
উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সাথে সাথে, দুটি দেশের রাজধানী ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এ মাইলফলক উদযাপন কেবল অতীতের সুসম্পর্কের প্রতিফলনই নয় বরং আগামী বছরগুলিতে আরও জোরদার, আরও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য একটি নতুন অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সুযোগ গ্রহণ করে, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে রাশিয়ান হাউসের স্থাপিত ভিত্তির উপর ঢাকা ও মস্কোর সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে।
হোসেন বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে রাশিয়ার সহায়তা বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার থেকে রোসাটম মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর, বাংলাদেশ একটি নতুন যাত্রা শুরু করেছে যাতে সহিষ্ণুতা, অন্তর্ভুক্তি ও গতিশীল প্রবৃদ্ধির চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবিচার ও বৈষম্যমুক্ত একটি ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে রাশিয়ান ফেডারেশনের অব্যাহত সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ, রোসোত্রুদনিচেস্তভোর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিমাকভ এবং রাশিয়ান হাউসের পরিচালক পাভেল দ্বয়চেনকভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।