সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডিসি সম্মেলন রোববার শুরু, ৩৪ অধিবেশন, ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে হবে আলোচনা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। আগামি বুধবার ৬ মে পর্যন্ত চলবে এবারের ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ৩ মে দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। নিয়মানুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি ডিসি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন।

রাজধানীর ওসমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, আর ইতোমধ্যে এ সম্মেলনের জন্য বিভিন্ন জেলার ডিসিদের পাঠানো প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হবে। সম্মেলনে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিদের পাশাপাশি ৮ বিভাগীয় কমিশনারও অংশ নেবেন।

এদিকে, ইরান এবং আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বিশ^ব্যাপী জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি, দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনকল্যণমুখী মাঠ প্রশাসন গড়ে তোলা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যলেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় এবারের ডিসি সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপুর্ণ বলে মনে করেন তারা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে ডিসিরা দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুশাসনের বিষয়ে সরকারের পরামর্শ চাইবেন। এবারের ডিসি সম্মেলনে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি তাদের জন্য নির্ধারিত অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, বাৎসরিক এই সম্মেলনে মাঠপ্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে থাকেন ডিসিরা। আর ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো আলোচনা-পর্যালোচনা করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন সরকার। ডিসি সম্মেলনের কার্য-অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রিরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা সংকট, রাস্তঘাট, অবকাঠোমো ও সেতু নির্মাণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্মেলনের আয়োজক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ৫৬টি নীতি-নির্ধারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে এবারের সম্মেলনে ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ডিসি সম্মেলনে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নতুন সরকারের কর্মকান্ড বোঝার চেষ্টা করছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ডিসিরা ছিলেন কিছুটা নির্ভার। তখন কর্মকর্তারা অধীনস্থদের দায় নিতেন, পরামর্শ দিতেন। ব্যক্তিগত গুরুতর অপরাধ ছাড়া যে কোনো বিষয়ে ডিসিরা সিনিয়রদের সহায়তা, পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা পেয়েছেন। এখন দেশে নতুন সরকার, নতুন প্রশাসন। এছাড়া অধিকাংশ ডিসির সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিচয় নেই, এ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পরিচিত হবেন।

কর্মকর্তারা জানান, সরকার কি করতে চায়, নির্বাচনি মাঠে জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে এ সম্মেলনে সার্বিক আলোচনা হবে। মাঠ প্রশাসনে ডিসিরা আইনশৃঙ্খলাসহ ১২০টি কমিটির সভাপতি। তাদের নেতৃত্বে চলে দেশের তৃণমূলের প্রশাসন, জনসেবা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড। সম্মেলনে ডিসিরা জনগণের চাহিদা সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। সরকার এবং বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের আচরণ তুলে ধরবেন। এ ছাড়া সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা কী চান বা কী ধরনের আচরণ করেন তাও তুলে ধরবেন।

তারা আরো জানান, সরকার চায় ডিসিরা জনকল্যাণে মাঠ প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি সারাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের হয়ে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা জানতে চাইবেন। আর মাঠ পর্যায়ের বাস্তব ও প্রকৃত অবস্থা সরকারের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন ডিসিরা। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ। এতে ডিসিরা সরকারের বার্তা নিয়ে মাঠে ফিরবেন।

জানা গেছে, এ সম্মেলন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা এবার সারাদেশ থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। আর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন জোটের নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।

সূত্র জানায়, সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথমদিনের অধিবেশন শেষে ডিসি এবং ব্ভিাগীয় কমিশনাররা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

দ্বিতীয় দিন সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তারা।

তৃতীয় দিন ৫ মে মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা।

এদিন নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। আর ৬ মে বুধবার সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ এছাড়া এদিন রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন-বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরাসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈশ্বিক সঙ্কটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে সরকারের। এ প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে জেলা প্রশাসকদের বিশেষ সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, দেশে নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুতদারি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য ডিসিদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সারাদেশে নিত্যপণ্য এবং ভোজ্যতেল ও মসলাপাতির দাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধে ডিসিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে। জানা গেছে, সারা দেশে কাঁচা চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও সঠিক সংরক্ষণে ডিসিদের কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিতে যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা দেবেন।

পাশাপাশি চামড়ার সরকারি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের অধীন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর এজন্য কোরবানির আগেই যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্ততি নেওয়া সম্ভব হয়, সে বিষয়ে এবার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে ডিসি সম্মেলনের জন্য মন্ত্রীর নির্দেশনামুলক বক্তব্য তৈরির কাজ শেষ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, দেশে কোরবানির ঈদে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু জবাইয়ের ফলে বিপুল সংখ্যক কাঁচা চামড়া উৎপাদিত হয়। এ চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হতে পারে সারাদেশে। চামড়া শিল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত এবং প্রতিবছর কোরবানির সময় অধিকাংশ কাচা চামড়া সংগৃহীত হয়। এজন্য এ খাতের সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ডিসিদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা থাকছে এবারের সম্মেলনে। ডিসি সম্মেলনের বিষয়ে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ আলোর ঠিকানা’কে বলেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে ডিসি সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সারাদেশে দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মূলত ডিসি সম্মেলন থেকে দেওয়া হয়ে থাকে। ডেপুটি কমিশনাররা (ডিসি) নিজ নিজ জেলায় সরকারের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকেন। জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খা পূরণই এ সময়ে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সাবেক এই সচিব।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের ইমেজ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুনে সরকারের অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক সময় সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। কারণ ডিসিরা মাঠপর্যায় থেকে সব দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য নিয়ে এ সম্মেলনে আসেন। এ পরিস্থিতিতে এবারের ডিসি সম্মেলন ‘বিশেষ তাৎপর্যপুণর্’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, কিশোর গ্যাং, দলবদ্ধ অপরাধ, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ কেন বাড়ছে-এসব বিষয় এবারে ডিসি সম্মেলনের আলোচনায় স্থান পাবে। এছাড়া সরকারের নেওয়া সেবা কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা ও বাধা তৈরি হয় -সেসব বিষয় নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালীদের ট্যাক্সের আওতায় আনার বিষয়ও সম্মেলনে তুলে ধরবেন তারা।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সংক্রান্ত বিষয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিরা নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের প্রস্তাবগুলো এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ