রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে এক ‘আওয়ামী পন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা৷

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে চাকসু নেতারা তাকে আটক করে। এর আগে চবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় আইন অনুষদের ১ ন গ্যালারি থেকে তিনি পালিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীর একাংশ।

এই ঘটনায় আলোচনায় আসা সেই শিক্ষকের নাম হাসান মাহমুদ রোমান, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, বিভিন্ন গনতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়া, মাদক, ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হলে ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন সেই শিক্ষক। চাকসু নেতাদের ডিন অফিসে আসার খবর পেয়ে পরীক্ষার হল থেকে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরবর্তীতে চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।

এ নিয়ে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি সেই শিক্ষকের ব্যাপারে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি পলাতক ছিলেন। কেন তার মতো একজন অভিযুক্ত শিক্ষককে যার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান; তাকে কেন ভর্তি পরীক্ষায় গার্ড এর দায়িত্ব দেওয়া হল?- আমরা এটা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।’

হাসান রোমানের কাছে আটকের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে ডিউটিরত অবস্থায় কয়েকজন আমাকে জানিয়েছে আমার ওপর মব সৃষ্টি হতে পারে। খবর পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার হল ছেড়ে চলে যেতে চাইলে পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে জোরে ঝাপটে ধরে এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।

জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা অভিযোগ প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। তিনি এখন আমাদের কাছেই আছেন। তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়; সেটা এখনও বলা যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ