:
তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র‘কে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ আগুনে পোড়ানোর মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই গাজীপুর জেলা।গ্রেফতারকৃত ছাব্বির আহম্মেদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার দেওয়ানগঞ্জ বাজার। বর্তমান গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মামলার বাদী মোঃ তারা মিয়া (৫৫) এর নাতী মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩) জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল। রনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে জয়দেবপুর ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে সে বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। পরের দিন স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে আগুনে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার হয়। জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রনির মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি রুজু হওয়ার পর জয়দেবপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি তদন্ত করেন।
পিবিআই এর চৌকস দল উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত অব্যাহত রেখে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভবানীপুর এলাকা হতে গত ০৫ মার্চ ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদে সে অত্র মামলার ঘটনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ততার বিষয় স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় জবাবন্দি প্রদান করে।
এ বিষয়ে গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন যে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ্ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স তথ্য, পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণ এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার দিন রাতে আসামী ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের উদ্দেশ্যে জঙ্গলের ভিতরে যায়। সে পূর্বেও মাঝে মাঝে ঐ জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে আসামীকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেয়ার কথা বলে। এতে আসামী তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেয়ার কথা বললে আসামী ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে তার গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে আসামী তার ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।








