,

কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে লালন শাহের আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদল নেতা সংগ্রাম ও পাপনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন শাহের আখড়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে লালন শাহের মাজারে প্রবেশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আখড়াবাড়ি পরিদর্শন শেষে লালনশিল্পীদের গান পরিবেশনের স্থান পরিদর্শনকালে হঠাৎ একদল ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তারা তার ওপর হামলা চালান এবং বাইরে থাকা তার গাড়িতে ভাঙচুর করেন। হামলার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে লালন আখড়ার মাজার প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।স্থানীয় সংবাদ

ঘটনার সময় আখড়াবাড়ির গেটের সামনে পুলিশের উপস্থিতি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আগামী ১৭ই অক্টোবর থেকে লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী আয়োজন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে পুলিশের উপস্থিতিতে একজন অতিথির ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি লালন শাহের আখড়াবাড়িতে যান।

এনসিবি’র কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু তালহা অভিযোগ করে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুঠিবাড়ি পরিদর্শন শেষে লালন শাহের মাজারে আসেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল নেতা সংগ্রাম ও পাপনের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এটি অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত বলে আমরা মনে করছি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমনের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘তিনি লালন শাহের মাজারে এসেছেন, সেটা আমরা জানতাম না। আমাদের অবহিত করা হলে আমরা পুলিশ প্রটোকলের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’ ঘটনার বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ