সোমবার, ৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ ১৯, বাতিল ১০

কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এই তিনটি সংসদীয় আসনে ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ এবং ১০ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন-কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, দুদক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থী, তার প্রস্তাবকারী ও সমর্থকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

কিশোরগঞ্জ–৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা) আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন-বিএনপির মো. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. রোকন রেজা শেখ, ইনসানিয়াত বিপ্লব এর নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. জয়নাল আবদিন, ইসলামী আন্দোলনের বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, স্বতন্ত্র মো. শাহীন রেজা চৌধুরী, স্বতন্ত্র আবদুর রহিম মোল্লা ও স্বতন্ত্র কাজী রেহা কবির। এই আসনে যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ৪ জন প্রার্থী। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাদ পড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহীন রেজা চৌধুরী। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গড়মিল থাকায় বাদ পড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম মোল্লা ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির। হলফনামা সঠিক ফরম্যাটে দাখিল না করা এবং তথ্যের গড়মিল থাকায় বাদ পড়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খায়রুল ইসলাম ঠাকুর।

কিশোরগঞ্জ–৫ (নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা) আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন। তারা হলেন-বিএনপির সৈয়দ এহসানুল হুদা, জামায়াতে ইসলামীর মো. রমজান আলী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলি উল্লাহ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন, স্বতন্ত্র শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও স্বতন্ত্র এ এইচ এম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম)। এই আসনে যাচাই বাছাইয়ে ২ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হলফনামায় মামলার তধ্য গোপন করায় বাদ পড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গড়মিল থাকায় বাদ পড়েছেন অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এইচ এম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম)।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা) আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। তারা হলেন-বিএনপির মো. শরিফুল আলম, কমিউনিস্ট পার্টির ডা. মোহাম্মদ হাবিল মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আতাউল্লাহ আমিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব এর নাইমুল হাসান, খেলাফত মজলিসের সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. রুবেল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ মুছা খান, জনতার দলের নূরুল কাদের সোহেল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন, গণফোরামের শাফি উদ্দিন আহাম্মদ ও স্বতন্ত্র শরিফুল হক জয়। এই আসনে যাচাই বাছাইয়ে ৪ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সম্পদ ও দায় এবং বাৎসরিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. নজরুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী, সম্পদ ও দায় এবং বাৎসরিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ হাবিল মিয়ার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। সম্পদ ও দায় এবং বাৎসরিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আয়ুব হুসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনসূচক তালিকায় এক শতাংশের কম ভোটারের সমর্থন থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফুল হক জয়ের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) যাচাই বাছাই করা হবে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ