কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে। তিনি কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।
এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় দলিল লেখক সমিতির সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং কটিয়াদী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওমরাহ হজ্জ্ব পালন শেষে দেশে ফেরেন খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০)। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে (৫০) গ্রেফতার করে। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় এবং রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আইনি জটিলতার অজুহাতে খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। পরে অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বুক ব্যথায় ভুগলেও কারাগারে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের।
এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাজতি আসামি খাইরুল আমিন রুহুল সরকার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





