পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন লাখো পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সোমবার বিকাল থেকে সৈকতে এসকল পর্যটকের আগমন ঘটে।
আগত পর্যটকরা রোদের উত্তাপের সঙ্গে সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে ডুব সাঁতারে হই হুল্লোরে মেতেছেন। কেউ কেউ আবার প্রিয়জনকে নিয়ে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সৈকতের বিভিন্ন বাহনে চরে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের তীড়ে আছরে পড়া ঢেউ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। পর্যটকের পদচারণায় সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ।
এদিকে গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন, ফাতরারবন ও শুটকি পল্লীসহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি। আগতদের ভীড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
সৈকতের ছাতা বেঞ্চী ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, ঈদের ৯ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটক আসছে। সকল ব্যবসায়ীর মুখে হাসি ফুটেছে।

কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজের সত্বাধিকারী আব্দুল মোতালেব শরীফ জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে এ বছর পর্যটন মৌসুমে এখানে তেমন পর্যটক আসেনি। পর্যটনের সকল ব্যবসায়ী লোকসানে ছিল। আজকে ভাল পর্যটক আসছে। আরও আসবে বলে তিনি মনে করেন। আমার হোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অনন্যা আহমেদ বলেন, আমি পরিবারবর্গ সহ আর কুয়াকাটা আসিনি, এবার এসে ভালোই লাগলো। এখানকার পরিবেশ, লোকজনের আথিতেয়তায় আমরা মুগ্ধ। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত এই মহাসড়কটি ফোরলেন হলে আরো অনেক পর্যটক বাড়বে।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করা হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, এ বছর লম্বা ছুটির কারনে ব্যাপক পর্যটকের আগমনে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি। মহিপুর থানা পুলিশ, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ, ও কুয়াকাটা পৌর সভার পক্ষ থেকে পর্যটকদের সেবায় সার্বক্ষনিক প্রস্তুতি রয়েছে।